অভিজ্ঞ দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের মাঠে অভিজ্ঞ দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, স্থানীয় সংগঠন শক্তিশালী করা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তার কারণে উভয় প্রার্থীই নিজেদের অবস্থানকে ‘মজবুত’ বলে দাবি করছেন। তাই গ্রাম থেকে হাটবাজার, সবখানেই তাদের নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে আলোচনা চলছে। দুই প্রার্থী হলেন, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন ভুইঁয়া। রফিকুল ইসলাম জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। আর দেলোয়ার হোসেন কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য। এর আগে তিনি কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন। রফিকুল ইসলাম নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দেলোয়ার হোসেন কেন্দুয়ার কান্দিউড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কেন্দুয়া পৌরসভার মেয়র ছিলেন। জানা গেছে, নেত্রকোনা-৩ আসনে ছয়জন প্রার্থী রয়েছেন। অন্য চারজন হলেন জামায়
নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের মাঠে অভিজ্ঞ দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দেখা গেছে।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, স্থানীয় সংগঠন শক্তিশালী করা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তার কারণে উভয় প্রার্থীই নিজেদের অবস্থানকে ‘মজবুত’ বলে দাবি করছেন। তাই গ্রাম থেকে হাটবাজার, সবখানেই তাদের নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে আলোচনা চলছে।
দুই প্রার্থী হলেন, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন ভুইঁয়া।
রফিকুল ইসলাম জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। আর দেলোয়ার হোসেন কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য। এর আগে তিনি কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন।
রফিকুল ইসলাম নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দেলোয়ার হোসেন কেন্দুয়ার কান্দিউড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কেন্দুয়া পৌরসভার মেয়র ছিলেন।
জানা গেছে, নেত্রকোনা-৩ আসনে ছয়জন প্রার্থী রয়েছেন। অন্য চারজন হলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. খায়রুল কবীর নিয়োগী, জাতীয় পার্টির আবুল হোসেন তালুকদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জাকির হোসেন ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শামসুজ্জোহা।
প্রতিদ্বন্দ্বী ছয় প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী ও দলের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) দেলোয়ার হোসেন ভুইঁয়ার মধ্যে তুমুললড়াই হবে বলে ধারণা করছেন নির্বাচনি এলাকার লোকজন। কারণ নির্বাচনে অভিজ্ঞ এই দুই প্রার্থীরই ব্যক্তি হিসেবে স্বচ্ছ ইমেজ রয়েছে। নির্বাচনি এলাকার জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে উভয়েরই নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটপাড়া উপজেলা বিএনপির একজন পদবিধারী নেতা বলেন, ‘নেত্রকোনা-৩ আসনেই মূলত নির্বাচনি আমেজ আছে। এখানে এলে বোঝা যায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হচ্ছে। আর আসনটিতে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীসহ ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস থাকলেও মূলত লড়াইটা হবে বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের মধ্যে।
তবে বিএনপির উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কিছু নেতাকর্মী প্রকাশ্যে ও গোপনে দেলোয়ার হোসেনকে বিজয়ী করার জন্য সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিচ্ছেন। এতে করে বেশ কয়েকজন পদধারী নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে জানান ওই নেতা।
কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল এলাকার ৬৫ বছর বয়সি একজন ভোটার বলেন, এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা হচ্ছে। বলা যায় দুই প্রার্থীই সমান সমান অবস্থানে রয়েছেন। আর এবার যেহেতু নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেই তাই আওয়ামী লীগমনা ভোটারদের যে প্রার্থী ভালোভাবে কাছে টানতে পারবেন মনে হয় তিনিই জয়ী হবেন।
তবে বিভিন্ন মতামত সত্ত্বেও, ভোটাররা একমত যে রফিকুল ইসলাম হিলালী ও দেলোয়ার হোসেন ভুইঁয়ার মধ্যে কঠিন লড়াই হবে।
এ ব্যাপারে দেলোয়ার হোসেন ভুইঁয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি মাঠে ছিলাম। দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীসহ সমর্থকরা নিরাশ হন। তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রার্থী হয়েছি। তাই অনেক নেতাকর্মীই প্রকাশ্যে ও গোপনে আমার সঙ্গে আছেন। তবে বিএনপির প্রার্থীর লোকজন আমার কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্ন স্থানে সমস্যার সৃষ্টি করছেন। আশা করি ভোটাররা আমাকে সমর্থন দিয়ে তাদের সেবা করার সুযোগ দিবেন।
মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক হিসেবে ১৯৮৪ সালে কলেজ জীবন থেকে ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের সভাপতি থেকে শুরু করে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলাম। বর্তমানে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। বিগত সময় আমি দলের জন্য, এলাকার মানুষের জন্য কি পরিমাণ আন্দোলন সংগ্রাম করেছি তা সবারই জানা। সুখে-দুখে তাদের পাশেই ছিলাম। বিগত সরকার ৫৬টি মিথ্যা রাজনৈতিক মামলার আসামি করে আমাকে। আমার বাসা-বাড়ি ভাঙচুর করে। আমি যেহেতু প্রতিহিংসার রাজনীতি করিনি, তাই আশা করি ভোটাররা আমাকে তাদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেবেন।
দুটি উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৬। এরমধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫ হাজার ৭৮৭ জন।
এইচ এম কামাল/এমএন/এমএস
What's Your Reaction?