‘অভিমানী’ বুলবুল, আড়ালে মাশরাফি

তামিম ইকবালের ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ অনুষ্ঠানে দেশে থাকা সাবেক অধিনায়কদের মধ্যে প্রায় সবাই এলেন, আসেননি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও মাশরাফি বিন মর্তুজা। বুলবুল ‘অভিমান’ থেকে আসেননি, আর ৫ আগস্টের পর মাশরাফি তো একপ্রকার নিখোঁজ। বাংলাদেশের ক্রিকেটের আরেক ‘আলোচিত’ নাম ‍সাকিব আল হাসান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। যে কারণে ছিলেন না সাবেক এই অধিনায়কও। এই তিন অধিনায়কের অনুপস্থিতি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   অনেক জল্পনা-কল্পনার পর গত সপ্তাহেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব নেন তামিম ইকবাল খান। বোর্ড প্রধান হয়েই একের পর এক চমকপ্রদ উদ্যোগ নেন টাইগার ক্রিকেটের সাবেক এই হার্ড-হিটার ওপেনার। তবে বড় চমকটা উপহার দিলেন বৃহস্পতিবার।   সাবেক অধিনায়কদের সম্মান জানিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর এক অভিজাত হোটেলে ক্যাপ্টেনস কার্ড তুলে দেন তামিম ইকবাল। তবে অনুষ্ঠানের নাম  ক্যাপ্টেনস কার্ড হস্তান্তর হলেও সোনারগাঁ হোটেলে বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যাটা যেন হয়ে উঠে অধিনায়কদের মেলা। ছবির ফ্রেমটাও বাঁধাই করে রাখার মতোই। একসঙ্গে জাতীয় দলের এত অধিনায়ক কি এর আগে দেখা গেছে কোথাও? উত্তরটা খুঁজে

‘অভিমানী’ বুলবুল, আড়ালে মাশরাফি
তামিম ইকবালের ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ অনুষ্ঠানে দেশে থাকা সাবেক অধিনায়কদের মধ্যে প্রায় সবাই এলেন, আসেননি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও মাশরাফি বিন মর্তুজা। বুলবুল ‘অভিমান’ থেকে আসেননি, আর ৫ আগস্টের পর মাশরাফি তো একপ্রকার নিখোঁজ। বাংলাদেশের ক্রিকেটের আরেক ‘আলোচিত’ নাম ‍সাকিব আল হাসান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। যে কারণে ছিলেন না সাবেক এই অধিনায়কও। এই তিন অধিনায়কের অনুপস্থিতি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   অনেক জল্পনা-কল্পনার পর গত সপ্তাহেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব নেন তামিম ইকবাল খান। বোর্ড প্রধান হয়েই একের পর এক চমকপ্রদ উদ্যোগ নেন টাইগার ক্রিকেটের সাবেক এই হার্ড-হিটার ওপেনার। তবে বড় চমকটা উপহার দিলেন বৃহস্পতিবার।   সাবেক অধিনায়কদের সম্মান জানিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর এক অভিজাত হোটেলে ক্যাপ্টেনস কার্ড তুলে দেন তামিম ইকবাল। তবে অনুষ্ঠানের নাম  ক্যাপ্টেনস কার্ড হস্তান্তর হলেও সোনারগাঁ হোটেলে বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যাটা যেন হয়ে উঠে অধিনায়কদের মেলা। ছবির ফ্রেমটাও বাঁধাই করে রাখার মতোই। একসঙ্গে জাতীয় দলের এত অধিনায়ক কি এর আগে দেখা গেছে কোথাও? উত্তরটা খুঁজে পাওয়া কঠিনই হবে বোধ হয়। ঠিক এমনই একটা উপলক্ষ গোটা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা দেখার সুুযোগ পায় বিসিবির এক আয়োজনের কারণে। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের অধিনায়ক শামীম কবির মারা গেছেন। এর বাইরে এখন পর্যন্ত পুরুষ দলে তিন সংস্করণ মিলিয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন ২৬ জন। নারী ক্রিকেটে সবমিলিয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন ৬ জন, তাদের মধ্যে শুধু রুমানা আহমেদই উপস্থিত ছিলেন আজ।বাংলাদেশ নারী দলে তিনি ছাড়াও অধিনায়ক ছিলেন তাজকিয়া আক্তার, সালমা খাতুন, জাহানারা আলম, নিগার সুলতানা ও ফাহিমা খাতুন। ছেলেদের দলের বাকি ২০ অধিনায়ক রকিবুল হাসান, শফিকুল হক হীরা, গাজী আশরাফ হোসেন, মিনহাজুল আবেদীন, আকরাম খান, খালেদ মাহমুদ, হাবিবুল বাশার, রাজিন সালেহ, শাহরিয়ার নাফীস, মোহাম্মদ আশরাফুল, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল হক, লিটন দাস, নুরুল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন, নাজমুল হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও জাকের আলী ক্যাপ্টেনস কার্ড নিয়েছেন। লাল-সবুজের পতাকাকে গর্বিত করা এতো সব অধিনায়ক উপস্থিত থাকলেও আজকের ফ্রেমটা যেন কিছুটা হলেও অপূর্ণ রেখেছে কয়েকটি নাম। তার মধ্যে আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক তিন সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মাশরাফি বিন মর্ত‍ুজা এবং সাকিব আল হাসান অন্যতম। তবে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে গত বছর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, সাকিব আল হাসান অবস্থান করছেন দেশের বাইরে।  পক্ষান্তরে আমিনুল ইসলাম বুলবুল আর মাশরাফি বিন মর্তুজা এখনও দেশেই অবস্থান করছেন। ভক্ত-সমর্থকরা ধারণা করেছিলেন হয়তে‍া তাদের এই অনুষ্ঠানে হাজির করে বোর্ড প্রধান হওয়ার পর থেকেই একের পর এক বিষ্ময়ের জন্ম দেওয়া তামিম ইকবাল চমকে দিবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে উঠেনি।কিন্তু কেন? ক্রীড়ামোদিদের ধারণা, সদ্যই বিসিবি থেকে অপসারিত আমিনুল ইসলাম এখনও ‘অভিমান’ করে আছেন তামিম ইকবালের উপর। কেননা, তাদের লড়াইটা তো দেশের ক্রিকেটে বেশ কিছুদিন ধরেই প্রকাশ্যে চলেছে। যে কারণেই হয়তো বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান উপস্থিত হননি এই অনুষ্ঠানে। তবে তামিম ইকবাল চেষ্টার ঘাটতি রাখেননি। সাবেক অধিনায়কদের সবাইকেই এই অনুষ্ঠানে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তামিম। যদিওবা সদ্য সাবেক সভাপতি আমিনুলকে আমন্ত্রণ জানাতে গিয়েও পারেননি। কারণটাও স্পষ্ট করেছেন বিসিবি প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমি বুলবুল ভাইকে কল করেছি, ওনাকে মেসেজ পাঠিয়েছি, তারপর বুঝতে পারলাম আমিও ব্লকড্।’ গত ৭ এপ্রিল আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দিয়ে তামিমের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি হয়। আর সেই বোর্ডে থাকা আমিনুল ছাড়াও ফারুক আহমেদ ও খালেদ মাসুদ আসেননি। তাহলে রইলো বাকি মাশরাফি। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক তিনিই। বলা হয়ে থাকে, যিনি সফল তিনিই সেরা—বাংলাদেশের অধিনায়কদের সাফল্যের বিচারে মাশরাফি বিন মর্তুজা যে সবার ওপরে থাকবেন, সেটি আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। আজ তার উপস্থিত না থাকাটাও অবশ্য স্বাভাবিক। কেননা, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় হলো প্রকাশ্যে দেখা যায়নি মাশরাফিকে। এরপর থেকেই মাশরাফি যেন ‘নিখোঁজ’। আজকের অনুষ্ঠান যেন আরও একবার প্রমাণ করে দিয়ে গেল তা। তবে যারা এখনও কার্ড নেননি, তারা চাইলে যেকোনো সময় এসেই তা নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তামিম। বোর্ড  প্রধানের ভাষ্যমতে, ‘যখনই আপনারা পারেন, যখনই আপনারা দেশে আসবেন, প্লিজ কার্ডটা গ্রহণ করবেন।’ তামিমের মতে, ‘এটা সবসময় আপনাদের জন্য বিসিবিতে থাকবে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে আপনাদের অবদান অনেক। আমি রাজনীতি বা বিসিবিতে সম্প্রতি যা হয়েছে, তা নিয়ে বলতে চাই না। আমরা সবাই ক্রিকেটার এবং একে–অন্যকে সম্মান করি।’ দীর্ঘ সময়ের পথ পরিক্রমায় এটা বলা যায় যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট মানেই শুধু একটি দল না—এটা একটা আবেগ, একটা ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসে বুলবুল-মাশরাফি-সাকিবদের না থাকাটা যেন এক ‘অসমাপ্ত’ কাহিনী।   দেশের ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পারফরম্যান্স, নেতৃত্ব, আর জনপ্রিয়তা—সব দিক থেকেই তারা এক অনন্য উচ্চতায়। তবুও বাস্তবতা কখনও কখনও কঠিন। নানা পরিস্থিতি আর সময়ের খেলায়, অধিনায়কত্বের ফ্রেমে তাদের জায়গা সবসময় হয়তো দেখা যায় না। কিন্তু ইতিহাস কি কখনো ফ্রেমে বন্দি থাকে? ছবিতে না থাকলেও, এই মানুষগুলো বেঁচে থাকবেন কোটি ভক্তের হৃদয়ে। তাদের অবদান, তাদের লড়াই, আর দেশের জন্য দেওয়া ভালোবাসা—এসবই বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আজকের জায়গায় নিয়ে এসেছে। যা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। বাংলাদেশ ক্রিকেটের গল্প লিখতে গেলে, এই নামগুলো কখনোই বাদ দেওয়া যাবে না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow