অমিত শাহর সঙ্গে বিজিবি ডিজির সাক্ষাৎ ‘গোপন বৈঠক নয়’

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালকের সাক্ষাৎকে ‘গোপন বৈঠক’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে বিজিবি। বাহিনীটির দাবি, এটি ছিল পূর্বনির্ধারিত ও অনুমোদিত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ, যা সীমান্ত সম্মেলনের প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক রীতির অংশ। সোমবার (১৫ জুন) রাতে বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক ব্যাখ্যামূলক বক্তব্যে জানানো হয়, সদ্য সমাপ্ত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। কিছু ব্যক্তি ও দু-একটি সংবাদমাধ্যম অনুমাননির্ভর তথ্য, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য উপস্থাপন করছে, যা প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণার ভিত্তিতে তৈরি। বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অমিত শাহর সঙ্গে বিজিবি ডিজির সাক্ষাৎ ‘গোপন বৈঠক নয়’

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালকের সাক্ষাৎকে ‘গোপন বৈঠক’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে বিজিবি। বাহিনীটির দাবি, এটি ছিল পূর্বনির্ধারিত ও অনুমোদিত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ, যা সীমান্ত সম্মেলনের প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক রীতির অংশ।

সোমবার (১৫ জুন) রাতে বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক ব্যাখ্যামূলক বক্তব্যে জানানো হয়, সদ্য সমাপ্ত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। কিছু ব্যক্তি ও দু-একটি সংবাদমাধ্যম অনুমাননির্ভর তথ্য, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য উপস্থাপন করছে, যা প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণার ভিত্তিতে তৈরি।

বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এ সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৩১টি এবং ভারতের পক্ষ থেকে ২১টি এজেন্ডা উপস্থাপন করা হয়। আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ ‘জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (জেআরডি)’ নামে একটি আনুষ্ঠানিক নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়, যা বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালক স্বাক্ষর করেন।

বিজিবি বলছে, সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হয়। বিশেষ করে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান জেআরডিতে প্রতিফলিত হয়েছে।

এ ছাড়া পুশ-ইন, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ, মাদক চোরাচালান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমসহ বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়গুলোও আলোচিত ও আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।

অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে বিজিবি জানায়, আয়োজক দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ পূর্ববর্তী প্রতিটি সীমান্ত সম্মেলনেরই প্রচলিত রীতি। এর আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলনে বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে একই ধরনের সাক্ষাৎ করেছিলেন।

বিজিবির দাবি, এবারও মহাপরিচালকের সঙ্গে বাহিনীর অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা ভারত সফরের আগেই পূর্বনির্ধারিত ও অনুমোদিত ছিল। ওই সাক্ষাতে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুতে বাংলাদেশের উদ্বেগ দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হয়।

বাহিনীটি বলছে, আয়োজক দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ একটি স্বাভাবিক কূটনৈতিক রীতি। এটিকে রহস্যময় করে উপস্থাপন করা বাস্তবতা বিবর্জিত।

বিজিবি আরও উল্লেখ করেছে, সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, মিয়ানমার সীমান্তের অস্থিতিশীলতা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপে বাহিনীর ভূমিকা জনমনে আস্থা তৈরি করেছে। এ অবস্থায় বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার ও শীর্ষ নেতৃত্বকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করার চেষ্টা বাহিনীর মনোবল ভাঙার অপচেষ্টা বলেও মনে করছে তারা।

একইসঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বিজিবি।

টিটি/এমএমকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow