অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি-নাগরিকত্বের প্রলোভনে অনলাইন প্রতারণা, গ্রেফতার ২

অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতাররা হলেন- মো. রাকিবুল হোসেন (২৬) ও মো. রনি ইসলাম ওরফে খাজা মোহাম্মদ আলী (১৯)। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বুধবার (১৭ জুন) নীলফামারীর সৈয়দপুরের কামারপুকুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ছয়টি মোবাইল ফোন এবং ১২টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়। জসীম উদ্দিন খান বলেন, বাদীর মামা ভুক্তভোগী একজন ওমান প্রবাসী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ভুক্তভোগীর পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকেন। ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ নামে তার এক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বন্ধুও এ কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে জানিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে তার যোগাযোগ করিয়ে দেন। পরে কথিত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বন্ধু ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ ভুক্তভোগীর সঙ্গে মোবাইল ফোন, ইমু, হোয়

অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি-নাগরিকত্বের প্রলোভনে অনলাইন প্রতারণা, গ্রেফতার ২

অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. রাকিবুল হোসেন (২৬) ও মো. রনি ইসলাম ওরফে খাজা মোহাম্মদ আলী (১৯)।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, বুধবার (১৭ জুন) নীলফামারীর সৈয়দপুরের কামারপুকুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ছয়টি মোবাইল ফোন এবং ১২টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।

জসীম উদ্দিন খান বলেন, বাদীর মামা ভুক্তভোগী একজন ওমান প্রবাসী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ভুক্তভোগীর পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকেন। ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ নামে তার এক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বন্ধুও এ কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে জানিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে তার যোগাযোগ করিয়ে দেন। পরে কথিত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বন্ধু ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ ভুক্তভোগীর সঙ্গে মোবাইল ফোন, ইমু, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং বিভিন্ন প্রসেসিং, অনলাইন আবেদন, ফরম পূরণ ও ভিসা সংক্রান্ত খরচের কথা বলে অর্থ দাবি করেন।

প্রথম ধাপে সরল বিশ্বাসে ভুক্তভোগী বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা দেন। পরে আরও অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতারক একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরও দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’সহ অন্যান্য যোগাযোগকারীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায় এবং তাদের সঙ্গে ভুক্তভোগীর সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন যে তিনি একটি সংঘবদ্ধ পরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে তার ভাগ্নে বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, গ্রেফতার রনি ইসলাম নিজেকে ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ নামে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। পেজটিতে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট ও অভিবাসন সংক্রান্ত আকর্ষণীয় ভিডিওসহ প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে আসছিল। একই সঙ্গে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগের জন্য অনলাইনে অস্ট্রেলিয়ান নম্বরভিত্তিক ইমু অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো, যেন ভুক্তভোগীরা প্রক্রিয়াটি বিশ্বাসযোগ্য মনে করে সহজেই প্রতারণার ফাঁদে পা দেন।

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার রাকিবুল হোসেন প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে গ্রহণ, স্থানান্তর এবং লেনদেন ব্যবস্থাপনায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতেন। তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে আসছিলেন। পরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত থাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে জসীম উদ্দিন বলেন, মামলাটির তদন্ত অব্যাহত এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির অভিযান চলমান। গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান বলেও জানান সিআইডির এই বিশেষ পুলিশ সুপার।

কেআর/ইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow