অস্বাভাবিক বিলে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের ভোগান্তি

কয়েক মাস ধরে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের। এতে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে। ভুতুড়ে এই বিল সংশোধন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে দিনের পর দিন ধরনা দিয়েও মিলছে না প্রতিকার। উল্টো চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, বাস্তবে ব্যবহৃত ইউনিটের সঙ্গে বিদ্যুৎ অফিসের তৈরি করা বিলের কোনো মিল নেই। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মে মাসের তুলনায় জুনে বিল এসেছে তিন থেকে চারগুণ বেশি। উপজেলার সদর ইউনিয়ন এলাকার গ্রাহক ইমরান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‌‌‘আমার ছোট একটি দোকানে প্রতি মাসে সাধারণত ৫০০-৬০০ টাকা বিল আসে। কিন্তু এবার কোনো কারণ ছাড়াই জুনে বিল এসেছে চার হাজার ৮০০ টাকা! মিটারের রিডিং চেক করে দেখলাম, বিলে অনেক বেশি ইউনিট লিখে রাখা হয়েছে। অফিসে গেলে তারা সমন্বয় করে ১৮০০ টাকার বিল ধরিয়ে দিয়েছেন।’ ভানুগাছ বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল অদুদ বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ করা থাকলেও জুন মাসের বিলের সঙ্গে ২০২৪ সালের মার্চ মাসের একটি বিল যুক্ত করে দিয়েছে। এখন এ দায়ভার আমার নাকি বিদ্যুৎ অফিসের? এখন আমাকে

অস্বাভাবিক বিলে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের ভোগান্তি

কয়েক মাস ধরে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের। এতে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে। ভুতুড়ে এই বিল সংশোধন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে দিনের পর দিন ধরনা দিয়েও মিলছে না প্রতিকার। উল্টো চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, বাস্তবে ব্যবহৃত ইউনিটের সঙ্গে বিদ্যুৎ অফিসের তৈরি করা বিলের কোনো মিল নেই। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মে মাসের তুলনায় জুনে বিল এসেছে তিন থেকে চারগুণ বেশি।

উপজেলার সদর ইউনিয়ন এলাকার গ্রাহক ইমরান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‌‌‘আমার ছোট একটি দোকানে প্রতি মাসে সাধারণত ৫০০-৬০০ টাকা বিল আসে। কিন্তু এবার কোনো কারণ ছাড়াই জুনে বিল এসেছে চার হাজার ৮০০ টাকা! মিটারের রিডিং চেক করে দেখলাম, বিলে অনেক বেশি ইউনিট লিখে রাখা হয়েছে। অফিসে গেলে তারা সমন্বয় করে ১৮০০ টাকার বিল ধরিয়ে দিয়েছেন।’

ভানুগাছ বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল অদুদ বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ করা থাকলেও জুন মাসের বিলের সঙ্গে ২০২৪ সালের মার্চ মাসের একটি বিল যুক্ত করে দিয়েছে। এখন এ দায়ভার আমার নাকি বিদ্যুৎ অফিসের? এখন আমাকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ফেলে রেখে বিদ্যুৎ অফিসে ধরনা দিতে হচ্ছে।’

একই অবস্থা উপজেলার ভানুগাছ, মুন্সিবাজার, পতনঊষার, আলীনগর, মাধবপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের। সাধারণ নিম্নআয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এই বাড়তি বিলের বোঝা টানতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে গিয়ে মিটারের প্রকৃত রিডিং না দেখেই অফিসে বসে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এই বিল তৈরি করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের রিডাররা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি না গিয়ে একবারে কয়েক মাসের রিডিং একসঙ্গে দিচ্ছেন। ফলে গ্রাহকরা ‘স্ল্যাব’ পরিবর্তনের গ্যাঁড়াকলে পড়ছেন।

অস্বাভাবিক এই বিলের কপি নিয়ে গ্রাহকরা যখন স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে যাচ্ছেন, তখন সেখানে তাদের পড়তে হচ্ছে আরেক দফায় ভোগান্তিতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো সুরাহা মিলছে না। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো গ্রাহককে বিল সংশোধনের নামে হয়রানি করা হচ্ছে। ধমক দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হচ্ছে। সময়মতো বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অনেকে।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষ গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, আমাদের সফটওয়্যার পরিবর্তনের কারণে অনেক গ্রাহকেরই সমস্যা হয়েছে। পুরাতন বিল লেজারে উঠে গেছে। দ্রুত বিষয়টির সমাধান করা হবে। মিটারে কোনো ত্রুটি বা রিডিংয়ে ভুল হলে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সংশোধনের আশ্বাস দেন তিনি।

ডিজিএম আরও বলেন, গ্রাহকদের অযথা হয়রানি করার কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই বিল সংশোধন করে দেবো।

মাহিদুল ইসলাম/এসআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow