অ্যানেসথেটিস্ট নেই ৭ মাস, বিপাকে অসচ্ছল রোগীরা

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডে একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ৭ মাস ধরে কোনো অ্যানেস্থেসিয়া কনসালট্যান্ট নেই। ফলে হাসপাতালটিতে সব ধরনের সার্জারি বন্ধ রয়েছে। এতে উপজেলার অসচ্ছল ও নিম্ন আয়ের মানুষের ছোটোখাটো অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও যেতে হচ্ছে ঝিনাইদহ শহর ও পার্শ্ববর্তী জেলার হাসপাতালে। ঝুঁকি নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশন করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ফলে সেবাপ্রার্থীদের আর্থিক ব্যয় ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার একমাত্র ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারের দরজায় ঝুলছে তালা। অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে থাকা মূল্যবান যন্ত্রপাতি পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়। তুলার গজ, কাঁচি, অপারেশন থিয়েটারের লাইট, স্ট্রেচার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিতে জমেছে ধুলা-ময়লা। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানায়, গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খণ্ডকালীন অ্যানেস্থেসিয়া কনসালট্যান্ট দিয়ে সার্জারি ও সিজারিয়ান অপারেশন চালু রাখা হয়। এরপর ওই কনসালট্যান্ট তাঁর নিজের কর্মস্থলে ফিরে গেলে বন্ধ হয়ে যায় হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সব রকমের অপারেশন। হাসপাতালের

অ্যানেসথেটিস্ট নেই ৭ মাস, বিপাকে অসচ্ছল রোগীরা

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডে একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ৭ মাস ধরে কোনো অ্যানেস্থেসিয়া কনসালট্যান্ট নেই। ফলে হাসপাতালটিতে সব ধরনের সার্জারি বন্ধ রয়েছে। এতে উপজেলার অসচ্ছল ও নিম্ন আয়ের মানুষের ছোটোখাটো অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও যেতে হচ্ছে ঝিনাইদহ শহর ও পার্শ্ববর্তী জেলার হাসপাতালে। ঝুঁকি নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশন করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ফলে সেবাপ্রার্থীদের আর্থিক ব্যয় ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার একমাত্র ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারের দরজায় ঝুলছে তালা। অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে থাকা মূল্যবান যন্ত্রপাতি পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়। তুলার গজ, কাঁচি, অপারেশন থিয়েটারের লাইট, স্ট্রেচার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিতে জমেছে ধুলা-ময়লা।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানায়, গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খণ্ডকালীন অ্যানেস্থেসিয়া কনসালট্যান্ট দিয়ে সার্জারি ও সিজারিয়ান অপারেশন চালু রাখা হয়। এরপর ওই কনসালট্যান্ট তাঁর নিজের কর্মস্থলে ফিরে গেলে বন্ধ হয়ে যায় হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সব রকমের অপারেশন।

অ্যানেসথেটিস্ট নেই ৭ মাস, বিপাকে অসচ্ছল রোগীরা

হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে কোনো অ্যানেসথেটিস্ট নেই। ফলে অপারেশন করাও সম্ভব নয়। জেলার ৬টি উপজেলার হাসপাতালগুলোতে অসংখ্য পদ শূন্য রয়েছে। হরিণাকুণ্ডু উপজেলার একমাত্র ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও মেলেনি অ্যানেস্থেসিয়া কনসালট্যান্ট। এ নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন অফিস ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিকবার চিঠিপত্র পাঠিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। এতে দীর্ঘ ৭ মাসেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালটিতে সব ধরনের সার্জারি বন্ধ হয়ে গেছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার অন্তত সাড়ে তিন লাখ মানুষ।

কাদিখালী গ্রামের সায়েমা খাতুন নামে এক নারী বলেন, ‘এই হাসপাতালে ৭/৮ মাস আগেও সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। এখন আর হচ্ছে না। ফলে অনেকেই প্রাইভেট ক্লিনিকে করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে গরিব ও অসচ্ছল রোগীদের ব্যয় ও ভোগান্তি বেড়েছে।’

হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘অ্যানেস্থেটিস্ট কনসালট্যান্ট না থাকলে অপারেশন করার তো সুযোগ নেই। আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি অপারেশন থিয়েটারে রয়েছে, শুধু অ্যানেস্থেটিস্ট কনসালট্যান্ট না থাকায় অপারেশন বন্ধ আছে। সংশ্লিষ্ট দফতরে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।’

এম শাহাজান/এফএ/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow