অ্যানেসথেসিওলজিস্ট না থাকায় ব্যাহত চিকিৎসাসেবা
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট না থাকায় প্রায় এক মাস ধরে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৩ লাখেরও বেশি মানুষের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র এ হাসপাতাল। অ্যানেসথেসিওলজিস্টের অভাবে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ থাকায় অনেক প্রসূতি নারী বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। যা অতিরিক্ত ব্যয়বহুল এবং অনেকের সামর্থ্যের বাইরে। দুটি থানা নিয়ে গঠিত ভেদরগঞ্জ উপজেলা। প্রায় তিন লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য ১৯৭২ সালের দিকে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। পরে ২০১১ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় রূপান্তরিত হয়। সময়ের পরিক্রমায় হাসপাতালটি ধারাবাহিকভাবে আধুনিকায়নে পরিণত হয়। এতে এই উপজেলার পাশাপাশি পাশের উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে রোগীরা সেবা নিতে আসেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বিভাগ ও আউটডোর মিলিয়ে প্রতিদিন ৭০০-৮০০ জন রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। প্রতিমাসে গড়ে হাসপাতালটিতে ২০/২৫টি সিজারিয়ান অপারেশন হতো। বছরে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন নারী এখানে এ সেবা গ্রহণ করতেন। হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, হাসপাত
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট না থাকায় প্রায় এক মাস ধরে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৩ লাখেরও বেশি মানুষের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র এ হাসপাতাল। অ্যানেসথেসিওলজিস্টের অভাবে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ থাকায় অনেক প্রসূতি নারী বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। যা অতিরিক্ত ব্যয়বহুল এবং অনেকের সামর্থ্যের বাইরে।
দুটি থানা নিয়ে গঠিত ভেদরগঞ্জ উপজেলা। প্রায় তিন লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য ১৯৭২ সালের দিকে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। পরে ২০১১ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় রূপান্তরিত হয়। সময়ের পরিক্রমায় হাসপাতালটি ধারাবাহিকভাবে আধুনিকায়নে পরিণত হয়। এতে এই উপজেলার পাশাপাশি পাশের উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে রোগীরা সেবা নিতে আসেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বিভাগ ও আউটডোর মিলিয়ে প্রতিদিন ৭০০-৮০০ জন রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। প্রতিমাসে গড়ে হাসপাতালটিতে ২০/২৫টি সিজারিয়ান অপারেশন হতো। বছরে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন নারী এখানে এ সেবা গ্রহণ করতেন।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম খান গত ১৭ মে বদলি হওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত থাকলেও একজন অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসকের অভাবে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সেখানে বন্ধ রয়েছে অস্ত্রোপচারের কার্যক্রম। যে অপারেশন থিয়েটার একসময় প্রসূতি মা ও স্বজনদের আনাগোনায় ব্যস্ত থাকত, এখন সেখানে নেমে এসেছে নীরবতা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও সিজারিয়ান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হাসপাতালে প্রসূতি রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গেছে। অনেক রোগী ভর্তি হওয়ার আগেই জানতে চাইছেন জরুরি প্রয়োজনে সিজারের ব্যবস্থা আছে কি না। নিশ্চিত হতে না পেরে অনেকে চলে যাচ্ছেন বেসরকারি ক্লিনিকে। গত এক মাসে অন্তত ২৫ জন প্রসূতি সিজারিয়ান সেবা নিতে এসে ফিরে গেছেন।
উপজেলার মহিষার গ্রামের সালমা বেগমের সিজার হয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে। গত ১০ জুন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। তার স্বামী রাকিব মিয়া একজন ভ্যানচালক। সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যে আয় হয় তা দিয়ে রাকিবের সংসারের খরচ হয় না।
রাকিবের বোন সাথী আক্তার বলেন, চিকিৎসকরা আগেই বলেছিলেন সিজার লাগবে। উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জানতে পারি সেখানে অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক নেই। বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়েছে। সিজার করতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা জোগাড় করতে আমার ভাইয়ের ভ্যান পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে। গরিবের জন্য কোনো চিকিৎসাসেবা নেই। যাদের টাকা আছে তাদের তো সমস্যা নেই, চাইলেই ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারবে। আমাদের মতো অনেক মানুষ এসে সেবা না পেয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জসিম হাওলাদার বলেন, অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রমসহ জরুরি প্রসূতি সেবা ফের চালু করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ সেবা বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর শুধু টাকা অপচয় হচ্ছে না, প্রসূতি মায়েরা প্রাণ পর্যন্ত হারাচ্ছেন।
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা প্রসূতি আছিয়া বেগম বলেন, এই হাসপাতালে চিকিৎসা ভালো বলে এখানে ভর্তি হয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে যদি সিজারের প্রয়োজন হতো, তাহলে কী হতো সেই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখানে সিজারের ব্যবস্থা থাকলে আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষ অনেক উপকৃত হতো।
রোগীর স্বজন কুলসুমা বেগম বলেন, আমার আগের সন্তানও এ হাসপাতালে হয়েছে। তখন এখানে সিজার হতো। এবার এসে শুনলাম সেই ব্যবস্থা নেই। ডেলিভারির সময় জটিলতা হলে কোথায় যাব সেই চিন্তায় ছিলাম। এখন ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া ছাড়া আমাদের কাছে আর উপায় নেই। আমরা গরীব মানুষ, ক্লিনিকে সিজার করাতে অনেক টাকা লাগে, সেই টাকা কোথায় পাব।
হাসপাতালের সেবিকা সাদিয়া খাতুন ও রহিমা বেগম বলেন, সিজারিয়ান কার্যক্রম চালু থাকাকালে হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি ছিল। বর্তমানে রোগীরা ভর্তি হওয়ার আগে সিজারের ব্যবস্থা আছে কি না জানতে চান। না থাকায় অনেকেই বেসরকারি ক্লিনিকে চলে যাচ্ছেন।
তারা আরও বলেন, স্বাভাবিক প্রসব করানোর চেষ্টা করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। অ্যানেসথেসিওলজিস্টের পদ পূরণ হলে আবার আগের মতো পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, মাদারীপুরে নতুন করে আইসিইউ সেবা চালু হওয়ায় আমাদের হাসপাতালের অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম খানকে সেখানে বদলি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক সংকট নিরসনে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই একজন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট পদায়ন করা হবে। তখন আবার অপারেশন কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে। তবে কবে নাগাদ নতুন চিকিৎসক পদায়ন হবে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।
What's Your Reaction?