অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় যাচ্ছিল ৪ কোটি টাকার ইয়াবা

চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম ব্রিকফিল্ড রোড। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক দুপুর ২টা। পাথরঘাটা পুলিশ ফাঁড়ির পশ্চিম পাশের কালভার্টের ওপর অবস্থান নিয়েছে কোতোয়ালী থানার একটি চৌকস দল। লক্ষ্য ছিল কক্সবাজার থেকে আসা একটি নির্দিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স। সাধারণত অ্যাম্বুলেন্স দেখলে রাস্তা ছেড়ে দেওয়াই নিয়ম, কিন্তু গোয়েন্দা তথ্য ছিল, ‘ঢাকা মেট্রো ছ ৭১-১২৬৫’ নাম্বারের অ্যাম্বুলেন্সটি কোনো রোগী নয়, বহন করছে মরণঘাতী ইয়াবা। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ২টার দিকে পরিচালিত এই অভিযানে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে পাচারচক্রের দুই মূল হোতা। গ্রেপ্তাররা হলেন- শহিদুল ইসলাম খান সাগর (২৭) ও মো. আফসার (৩৩)।  পুলিশ সূত্র জানায়, সাগর অ্যাম্বুলেন্স চালক। চন্দনাইশ থানার দোহাজারী এলাকার মৃত বাবলু খানের ছেলে। পেশার আড়ালে সে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের এই সেফ প্যাসেজ নিয়ন্ত্রণ করছিল। অন্যদিকে, দোহাজারী সরকার পাড়ার বাসিন্দা মো. সৈয়দের ছেলে আফসার। সে মূলত এই বিশাল চালানের তদারকি ও গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিল। পুলিশ টিমের সিগন্যাল পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি থামতেই চালকের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে আতঙ্কের ছাপ। তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। রোগীর স্ট্রেচারের আশেপ

অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় যাচ্ছিল ৪ কোটি টাকার ইয়াবা
চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম ব্রিকফিল্ড রোড। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক দুপুর ২টা। পাথরঘাটা পুলিশ ফাঁড়ির পশ্চিম পাশের কালভার্টের ওপর অবস্থান নিয়েছে কোতোয়ালী থানার একটি চৌকস দল। লক্ষ্য ছিল কক্সবাজার থেকে আসা একটি নির্দিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স। সাধারণত অ্যাম্বুলেন্স দেখলে রাস্তা ছেড়ে দেওয়াই নিয়ম, কিন্তু গোয়েন্দা তথ্য ছিল, ‘ঢাকা মেট্রো ছ ৭১-১২৬৫’ নাম্বারের অ্যাম্বুলেন্সটি কোনো রোগী নয়, বহন করছে মরণঘাতী ইয়াবা। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ২টার দিকে পরিচালিত এই অভিযানে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে পাচারচক্রের দুই মূল হোতা। গ্রেপ্তাররা হলেন- শহিদুল ইসলাম খান সাগর (২৭) ও মো. আফসার (৩৩)।  পুলিশ সূত্র জানায়, সাগর অ্যাম্বুলেন্স চালক। চন্দনাইশ থানার দোহাজারী এলাকার মৃত বাবলু খানের ছেলে। পেশার আড়ালে সে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের এই সেফ প্যাসেজ নিয়ন্ত্রণ করছিল। অন্যদিকে, দোহাজারী সরকার পাড়ার বাসিন্দা মো. সৈয়দের ছেলে আফসার। সে মূলত এই বিশাল চালানের তদারকি ও গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিল। পুলিশ টিমের সিগন্যাল পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি থামতেই চালকের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে আতঙ্কের ছাপ। তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। রোগীর স্ট্রেচারের আশেপাশে কিংবা গোপন কুঠুরিতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল একে একে ১ লাখ ৫ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। যার বাজারমূল্য দুই কোটি টাকারও বেশি। মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচানোর বাহনটিকে এই চক্রটি বানিয়েছিল মাদক পাচারের নিরাপদ স্বর্গরাজ্য। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতেই তারা রোগী পরিবহনের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল। কোতোয়ালী থানা সূত্র জানিয়েছে, এই চক্রের সাথে আরও বড় কোনো সিন্ডিকেট জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিশাল পরিমাণ ইয়াবা জব্দের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলমান। এদিকে তদন্তের বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনে হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স চালক বা তার সহযোগী মূলত বহনকারী হিসেবে কাজ করছিল। তবে ১ লাখ ৫ হাজার পিস ইয়াবার এই বিশাল চালানের নেপথ্যে থাকা আসল মালিক বা অর্থায়নকারী কে, তা খুঁজে বের করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কক্সবাজারের ঠিক কোন পয়েন্ট থেকে এই চালানটি তোলা হয়েছে এবং চট্টগ্রামে কাদের কাছে এটি পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল এই পুরো রুটটি আমরা খতিয়ে দেখছি। জরুরি সেবার অপব্যবহার রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচানোর বাহনকে যারা মাদক পাচারের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, তাদের কোনো ছাড় নেই। এখন থেকে মাদক পাচার রোধে প্রতিটি সন্দেহভাজন অ্যাম্বুলেন্সকে কঠোর তল্লাশির আওতায় আনা হবে। জননিরাপত্তা ও মাদকমুক্ত নগরী গড়তে আমাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow