আইডি কার্ডে কোথাও সংখ্যালঘু লেখা নেই, সবাইকে বুকে আগলে রাখতে চাই

দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে খুলনা-১ আসন গঠিত। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এখানে এক ডজন প্রার্থী একে অপরের বিপরীতে ভোটের মাঠে লড়ছেন। প্রার্থীদের মধ্যে কৃষ্ণ নন্দী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়ে এরই মধ্যে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। দাকোপ ও বটিয়াঘাটার বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ ও ভোটারের বাড়িতে গিয়ে তিনি ভোট চাচ্ছেন। জাগো নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খুলনা-১ আসনের জনগণের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন কৃষ্ণ নন্দী। জাগো নিউজ: নির্বাচনি এলাকার মানুষের প্রধান সমস্যাগুলো কী বলে আপনি মনে করেন এবং তা সমাধানে কী পদক্ষেপ নিবেন? কৃষ্ণ নন্দী: দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলার প্রধান সমস্যা নদীভাঙন, টেকসই বিড়িবাঁধ, সুপেয় পানির অভাব, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি। আমি নির্বাচিত হলে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান করবো। উন্নত বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব। নিরাপদ পানিরও সংকট রয়েছে এখানে। বিভিন্ন এলাকায় যাতে সহজে নিরাপদ পানি পেতে পারে, সে ব্যবস্থা করবো। এছাড়া অধিকাংশ রাস্তা অনুন্নত। দ্রুত যাতায়াত করা যায় না। আমি নির্বাচিত হল

আইডি কার্ডে কোথাও সংখ্যালঘু লেখা নেই, সবাইকে বুকে আগলে রাখতে চাই

দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে খুলনা-১ আসন গঠিত। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এখানে এক ডজন প্রার্থী একে অপরের বিপরীতে ভোটের মাঠে লড়ছেন। প্রার্থীদের মধ্যে কৃষ্ণ নন্দী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়ে এরই মধ্যে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। দাকোপ ও বটিয়াঘাটার বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ ও ভোটারের বাড়িতে গিয়ে তিনি ভোট চাচ্ছেন।

জাগো নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খুলনা-১ আসনের জনগণের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন কৃষ্ণ নন্দী

জাগো নিউজ: নির্বাচনি এলাকার মানুষের প্রধান সমস্যাগুলো কী বলে আপনি মনে করেন এবং তা সমাধানে কী পদক্ষেপ নিবেন?

কৃষ্ণ নন্দী: দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলার প্রধান সমস্যা নদীভাঙন, টেকসই বিড়িবাঁধ, সুপেয় পানির অভাব, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি। আমি নির্বাচিত হলে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান করবো। উন্নত বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব। নিরাপদ পানিরও সংকট রয়েছে এখানে। বিভিন্ন এলাকায় যাতে সহজে নিরাপদ পানি পেতে পারে, সে ব্যবস্থা করবো। এছাড়া অধিকাংশ রাস্তা অনুন্নত। দ্রুত যাতায়াত করা যায় না। আমি নির্বাচিত হলে উন্নত মানের রাস্তা নির্মাণ করবো।

জাগো নিউজ: নির্বাচিত হলে এই এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে আপনি কী ধরনের উদ্যোগ নিতে চান?

কৃষ্ণ নন্দী: শিক্ষা ব্যবস্থায় দাকোপ ও বটিয়াঘাটা অঞ্চলের মানুষ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন। আমি নির্বাচিত হলে সর্বোচ্চ চেষ্টার সঙ্গে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবো। এ অঞ্চলের সকল মানুষের জন্য এবং শিশুদের জন্য অবশ্যই শিক্ষা নিশ্চিত করবো।

জাগো নিউজ: তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আপনার পরিকল্পনা কী?

কৃষ্ণ নন্দী: তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে তরুণদের বেকারত্ব দূর হবে। অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করা গেলে অনেক উদ্যোক্তা তৈরি হবে। আমি নির্বাচিত হলে উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করবো। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে পদক্ষেপ নেবো। তরুণদের রক্ষায় মাদক নির্মূল করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। আমরা মাদককে না বলি, মাদকের পক্ষে আমরা কথা বলি না। মাদকমুক্ত খুলনা-১ আসন গড়তে চাই। আমি নির্বাচিত হলে তরুণদের জন্য খেলার মাঠ তৈরি করবো। বিনোদনের জন্য বিশেষ ক্ষেত্র তৈরি করবো।

জাগো নিউজ: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আপনি কীভাবে কাজ করবেন?

কৃষ্ণ নন্দী: ভোটার আইডি কার্ডে কোথাও সংখ্যালঘু লেখা নেই। সবাই সমান নাগরিক। ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা চোখে দেখা নয়, আমি সবাইকে আমার বুকে আগলে রাখতে চাই। সকল শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এ অঞ্চলের উন্নয়ন করতে চাই। সবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য কাজ করবো।

জাগো নিউজ: স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষায় এই এলাকার মানুষ আপনার কাছে কী ধরনের পরিবর্তন আশা করতে পারে?

কৃষ্ণ নন্দী: স্বাস্থ্যসেবার কথা বলতে গেলে এ অঞ্চলে ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবার চিত্র দেখা যায়। আমার চেষ্টা থাকবে দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠা করা। হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদানের পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে। আমি নির্বাচিত হলে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলবো।

তিনি আরও বলেন, মানুষের কাছে গিয়ে আমি সাড়া পাচ্ছি। তীব্র পরিবর্তনের আশা মানুষের মধ্যে রয়েছে। সব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি মানুষের সমস্যা সমাধানে জনগণের পরামর্শে কাজ করবো। আমি নির্বাচিত হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো।

জাগো নিউজ: নারীদের ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে আপনার অগ্রাধিকার কী হবে?

কৃষ্ণ নন্দী: জামায়াতে ইসলামী নারীদের প্রতি গুরুত্ব দেয়। নারীদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজন অনুসারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। সব ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আমি নির্বাচিত হলে আধুনিক জীবন ব্যবস্থা গড়তে পিছিয়ে পড়া নারীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

জাগো নিউজ: কৃষক, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কী?

কৃষ্ণ নন্দী: কৃষক, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করবো। নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ের পরিধি বৃদ্ধিতে প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কর্মপরিধি বৃদ্ধি করবো। কৃষকদের আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসবো। এছাড়া একবারে পরিবর্তন সম্ভব নয়, অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া বড় বিষয়। সময়ের তাগিদে সর্বোচ্চ সহযোগিতা তারা পাবেন আমার কাছে থেকে।

জাগো নিউজ: নির্বাচনি এলাকার জনগণের উদ্দেশে আপনার প্রধান প্রতিশ্রুতি কী?

কৃষ্ণ নন্দী: নদীভাঙন আমার নির্বাচনি এলাকার প্রধান সমস্যা। প্রতিবছর নদীভাঙনে বহু মানুষ বসতভিটা হারাচ্ছে, মানুষের ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। নদীভাঙন রোধ করা গেলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন আরও দ্রুত করা সম্ভব। এ অঞ্চলের মানুষের প্রতি আমার প্রতিশ্রুতি- আধুনিক টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা।

জাগো নিউজ: একজন হিন্দু প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং এই সিদ্ধান্তের পেছনের মূল ভাবনা কী?

কৃষ্ণ নন্দী: জামায়াত সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা একটি দল। জামায়াত সত্য বলে, ন্যায়ের কথা বলে। আমি অনুপ্রাণিত হয়ে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছি। আর হিন্দু হলে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করা যাবে না, এমন কোনো বাধা নেই। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমি থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।

উল্লেখ্য, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে খুলনা-১ আসন গঠিত। এরমধ্যে দাকোপে ৯টি ও বটিয়াঘাটায় ৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। এই দুই উপজেলায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৭ হাজার ১০৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ২৮৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮১৪ জন। তৃতীয় লিঙ্গ রয়েছেন ৪ জন।

এফএ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow