আইনের মধ্যেই সব করেছি, বিমানের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে শেখ বশিরউদ্দীন 

বাংলাদেশ বিমানের বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নিয়ে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গে বাণিজ্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, তার নিয়োগ আইনসম্মত এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আমি বিমানের ২৩তম চেয়ারম্যান। আমার আগে ২২ জন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা এই দায়িত্বে ছিলেন। সিভিল এভিয়েশন অ্যাক্টে কোথাও নেই যে আমি এই পদে থাকতে পারবো না। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।    সংবাদ সম্মেলনে শেখ বশিরউদ্দীন দাবি করেন, কাঠামোগত সংস্কারের ফলে বিমানের টিকিটের ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের রুটে প্রতিযোগিতা বাড়ায় ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে ২০ হাজার টাকায় টিকিট বিক্রি করায় বিমান অতিরিক্ত প্রায় ১২০ কোটি টাকা মুনাফা করতে পারবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।  একটি ইংরেজি দৈনিকে তাকে নিয়ে ‘লর্ড অব উইংস’ শিরোনামের নিউজ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিমান উপদেষ্টা। তিনি জানান, হেলিকপ্টারের কোনো ডানা (উইংস) নেই, বিষয়টি না জেনেই এমন উপাধি দেওয়া হয়েছে। তার ব্যক্তিগ

আইনের মধ্যেই সব করেছি, বিমানের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে শেখ বশিরউদ্দীন 

বাংলাদেশ বিমানের বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নিয়ে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গে বাণিজ্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, তার নিয়োগ আইনসম্মত এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আমি বিমানের ২৩তম চেয়ারম্যান। আমার আগে ২২ জন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা এই দায়িত্বে ছিলেন। সিভিল এভিয়েশন অ্যাক্টে কোথাও নেই যে আমি এই পদে থাকতে পারবো না।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।   

সংবাদ সম্মেলনে শেখ বশিরউদ্দীন দাবি করেন, কাঠামোগত সংস্কারের ফলে বিমানের টিকিটের ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের রুটে প্রতিযোগিতা বাড়ায় ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে ২০ হাজার টাকায় টিকিট বিক্রি করায় বিমান অতিরিক্ত প্রায় ১২০ কোটি টাকা মুনাফা করতে পারবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। 

একটি ইংরেজি দৈনিকে তাকে নিয়ে ‘লর্ড অব উইংস’ শিরোনামের নিউজ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিমান উপদেষ্টা। তিনি জানান, হেলিকপ্টারের কোনো ডানা (উইংস) নেই, বিষয়টি না জেনেই এমন উপাধি দেওয়া হয়েছে। তার ব্যক্তিগত হেলিকপ্টারটি ১৪ বছর আগে কেনা, সেটি দিয়ে কোনো প্রভাব বিস্তার করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। রাষ্ট্রীয় কাজে নিজের অর্থেই হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছেন, সরকার থেকে কোনো গাড়ি বা বাড়ি নেননি বলেও জানান এ উপদেষ্টা।

স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, সিভিল এভিয়েশন থেকে ৩৯ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে তার পরিবারের দুই সদস্যও রয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে আইনের প্রয়োগে কোনো পক্ষপাত নেই। 

তিনি জানান, বিমানের বোর্ডে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের যুক্ত করা হয়েছে, যাতে টিকিট বুকিংয়ের নৈরাজ্য, ডিজিটাল প্রতারণা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা দূর করা যায়। জিডিএস ব্যবস্থায় বছরে বিপুল খরচ কমিয়ে বিমানকে দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। 

স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি মূলত নৈতিকতার প্রশ্ন, আইনের লঙ্ঘন নয়। ট্রাভেল এজেন্সির বি টু বি ব্যবসা বন্ধ করা হয়েছে, টিকিটে মূল্য লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে লিজ নীতিমালা পরিবর্তন করা হয়েছে।  

আরও পড়ুন
গুম-খুন ও দুর্নীতি-লুটপাটে জড়িত সব অপরাধীর বিচার করা হবে: নাহিদ ইসলাম 
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকবে বিএনপি: তারেক রহমান 

নিজের ব্যবসা প্রসঙ্গে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, আমি একজন কারখানাওয়ালা ব্যবসায়ী। ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স, টিভি চ্যানেল বা সংবাদপত্রের মালিক নই। আমার কোম্পানি আকিজ বশীর গ্রুপ এবং ২০১৮ সাল থেকে এটি আকিজ গ্রুপ থেকে আলাদা।

ম্যানচেস্টার রুটে প্রতি মাসে দেড় থেকে ২ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছিল বলে সেই ফ্লাইট বন্ধ করে মধ্যপ্রাচ্য ও হজ রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। 

উপদেষ্টা দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে একটি সংগঠিত স্মিয়ার ক্যাম্পেইন (ইচ্ছাকৃত অপপ্রচার) চলছে। কারণ, সরকার বড় অঙ্কের অর্থপাচার ও দুর্নীতির চক্র ভাঙার চেষ্টা করছে। 

জাপানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা জাপানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সই করে এসেছি। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া। আমি আপনাদের মাধ্যমে বলতে পারি এটি দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন।   

সম্পদের হিসাবের বিষয় জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, গত পরশু যখন জাপানের উদ্দেশ্যে রওনা দেই আমি আমার অফিসকে ফোন করে বলেছি, তারা সম্পদের বিবরণী পাঠিয়ে দিয়েছে। সেটি আমার কাছে হাজির হয়েছে, আমি সেটি সই করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়ে দেবো।  

তার সময়ে হওয়া এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, এ পর্যন্ত হজ মৌসুমে বিশেষ হজ ফ্লাইটের মাধ্যমে হজযাত্রীদের পরিবহন করা হতো। ফিরতি পথে এ ফ্লাইটগুলো খালি আসতো। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ মৌসুম থেকে বিমান সৌদি আরবগামী নিয়মিত/ সিডিউল্ড ফ্লাইট ব্যবহার করেই হজযাত্রী পরিবহন করবে। এর ফলে ফিরতি ফ্লাইটে অতি স্বল্পমূল্যে মাত্র ২০ হাজার টাকায় ৮০ হাজার টিকিট বিক্রির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর বিনিময়ে বিমান অতিরিক্ত ১২০ কোটি টাকা মুনাফা করবে। এটা কি উদযাপনের একটা বিষয় হতে পারে না? 

গত ফেব্রুয়ারি তুলনায় এবার মধ্যপ্রাচ্যে বিমান ভাড়া ৫০ শতাংশ কমে গেছে বলেও জানান বিমান ও পর্যটন উপদেষ্টা। ‌

আরএমএম/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow