আইপিএল সংস্কারে তিনটি বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিলেন শচিন টেন্ডুলকার

এবারের আইপিএল ছিল রান বন্যার। অধিকাংশ ম্যাচের স্কোরই পার করেছে ২০০’র গণ্ডি। এমনকি ২৫০ প্লাস রান করেও কোনো দল স্বস্তিতে থাকতে পারেনি। কারণ, অপর দল সেটাকে অনায়াসে পাড়ি দিয়ে দিচ্ছে। বোলাররা যেন আইপিএলে ব্যাটারদের খেলার পুতুল। কোনো পাত্তাই তারা ব্যাটারদের কাছে পাচ্ছিল না। মোট কথা- ক্রিকেটে ব্যাটিং এবং বোলিংয়ে যে ভারসাম্য থাকার কথা, তার ছিটেফোটাও এবার ছিল না আইপিএলে। যেটা দেখে কিংবদন্তি সাবেক ক্রিকেটাররা দুঃশ্চিন্তায়। ক্রিকেটের ভারসাম্য হারিয়ে যাচ্ছে। ক্রিকেটের এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে একাধিক বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার শচিন টেন্ডুলকার। তার মতে, বর্তমান নিয়মের কারণে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটাররা অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন এবং বোলাররা ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনালের আগের রাতে ইএসপিএনক্রিকইনফো আয়োজিত ২১ শতকের সেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কথা বলেন টেন্ডুলকার। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মটি তুলে দেওয়া উচিত। তার মতে, এই একটি নিয়মের কারণেই ব্যাট এবং বলের পুরো ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শচিন বলেন, ‘ব্যক

আইপিএল সংস্কারে তিনটি বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিলেন শচিন টেন্ডুলকার

এবারের আইপিএল ছিল রান বন্যার। অধিকাংশ ম্যাচের স্কোরই পার করেছে ২০০’র গণ্ডি। এমনকি ২৫০ প্লাস রান করেও কোনো দল স্বস্তিতে থাকতে পারেনি। কারণ, অপর দল সেটাকে অনায়াসে পাড়ি দিয়ে দিচ্ছে। বোলাররা যেন আইপিএলে ব্যাটারদের খেলার পুতুল। কোনো পাত্তাই তারা ব্যাটারদের কাছে পাচ্ছিল না।

মোট কথা- ক্রিকেটে ব্যাটিং এবং বোলিংয়ে যে ভারসাম্য থাকার কথা, তার ছিটেফোটাও এবার ছিল না আইপিএলে। যেটা দেখে কিংবদন্তি সাবেক ক্রিকেটাররা দুঃশ্চিন্তায়। ক্রিকেটের ভারসাম্য হারিয়ে যাচ্ছে।

ক্রিকেটের এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে একাধিক বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার শচিন টেন্ডুলকার। তার মতে, বর্তমান নিয়মের কারণে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটাররা অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন এবং বোলাররা ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।

আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনালের আগের রাতে ইএসপিএনক্রিকইনফো আয়োজিত ২১ শতকের সেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কথা বলেন টেন্ডুলকার। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মটি তুলে দেওয়া উচিত। তার মতে, এই একটি নিয়মের কারণেই ব্যাট এবং বলের পুরো ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শচিন বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মটি বাতিল হওয়া দরকার। টি-টোয়েন্টিতে যেখানে মাত্র ২০ ওভার খেলা হয়, সেখানে আবার অতিরিক্ত একজন ব্যাটার যোগ করা হচ্ছে। এমনিতেই বোলাররা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে থাকে। এই নিয়ম ভারসাম্য নষ্ট করছে।’

২০২৩ সালে চালু হওয়া ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দল একাদশের বাইরে থাকা পাঁচজন ক্রিকেটারের তালিকা থেকে ম্যাচ চলাকালে একজনকে বদলি হিসেবে নামাতে পারে। সমালোচকদের মতে, এই নিয়মের কারণে দলগুলো অতিরিক্ত ব্যাটার খেলানোর সুযোগ পাচ্ছে এবং ব্যাটাররা আরও আগ্রাসীভাবে খেলতে পারছেন। ফলে গত কয়েক মৌসুমে আইপিএলে রান ও স্ট্রাইক রেট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে শুধু ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার বাদ দেওয়ার প্রস্তাবই নয়, আরও দুটি বড় পরিবর্তনের কথাও বলেছেন শচিন। তার প্রথম প্রস্তাব, পাওয়ার প্লে-কে দুই ভাগে ভাগ করা। বর্তমানে প্রথম ছয় ওভারে মাত্র দুইজন ফিল্ডার ৩০ গজ বৃত্তের বাইরে থাকতে পারেন। শচিনের মতে, প্রথম চার ওভার আগের মতো ব্যাটারদের পাওয়ার প্লে হিসেবে থাকুক। এরপর বাকি দুই ওভার কখন নেওয়া হবে, তা ঠিক করবে ফিল্ডিং অধিনায়ক।

শচিন বলেন, ‘প্রথম চার ওভার ব্যাটারদের পাওয়ার প্লে থাকবে। এরপর বাকি দুই ওভার ফিল্ডিং অধিনায়ক নিজের কৌশল অনুযায়ী ম্যাচের যে কোনো সময়ে নিতে পারবে। ওই দুই ওভারে একজন অতিরিক্ত ফিল্ডার বাইরে রাখা যাবে। এতে ফিল্ডিং দল ম্যাচের ওপর আরও ভালো নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে।’

এছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি- একজন বোলারকে পাঁচ ওভার বল করার অনুমতি দেওয়া। টেন্ডুলকারের যুক্তি, ‘সাধারণত দলের সেরা বোলারই পঞ্চম ওভারটি করবে। দর্শকরাও তো সেরা বোলারকে আরও বেশি দেখতে চাইবে। ব্যাটাররা অনেক সময় পুরো ২০ ওভার খেলছে, তাহলে সেরা বোলার কেন পাঁচ ওভার বল করতে পারবে না?’

আইপিএলে ব্যাটারদের দাপট নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ২০০ রানের স্কোরও অনেক সময় নিরাপদ মনে করা হয় না। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বোলারদের ভূমিকা ও কার্যকারিতা কিভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকদের মধ্যেও চলছে তুমুল আলোচনা।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং অতিরিক্ত ওভারের ধারণাটি ছোট প্রতিযোগিতায় পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পক্ষে মত দিয়েছিলেন। অন্যদিকে টম মুডি ও ইয়ান বিশপের মতো বিশেষজ্ঞরা ব্যাট-বলের ভারসাম্য ফেরাতে আরও স্পোর্টিং উইকেট তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে ২৫ জন বিশিষ্ট ক্রিকেটারের জুরির ভোটে ২১ শতকের সেরা ব্যাটার নির্বাচিত হন শচিন টেন্ডুলকার।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow