আকস্মিক পরিদর্শনে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কোনো ধরনের প্রটোকল ছাড়া সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শন করেন তিনি।
হাসপাতালের স্টাফ ও সেবা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা বলেন, সকাল ৮টার দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন হাসপাতালে এসে বাইরে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালে প্রবেশ করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কক্ষে বসেন। এ সময় আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা নবী দায়িত্বে ছিলেন। মন্ত্রী তার কাছ থেকে হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
সকাল প্রায় সোয়া ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাফসান রেজাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসার মান সম্পর্কে জানতে চান।
পরিদর্শন শেষে সিংগাইর পৌরসভার আয়োজনে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে হাসপাতাল চত্বরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করেন তিনি।
এরপর হাসপাতালের প্রধান ফটকে সাংবাদিক, স্থানীয় বাসিন্দা, হাসপাতালের স্টাফ এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন মন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, হাসপাতালে রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য ৩২ জন চিকিৎসক দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে চারজন অনুপস্থিত। এর মধ্যে যদি কেউ বিভিন্ন জায়গায় অ্যাটাচমেন্টে চলে যায়, তাহলে রোগী সেবা পাবে কীভাবে? জনসংখ্যার তুলনায় এমনিতেই চিকিৎসক কম এবং প্রয়োজনীয় সুবিধাও অপ্রতুল। এসব বিষয় সরেজমিনে দেখার জন্যই আজকের এই পরিদর্শন।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যখাতকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং জনগণ যাতে কোনো হয়রানি ছাড়াই চিকিৎসা পায়, এসব বিষয় শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেব না।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসকের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে হাসপাতাল এলাকায় দালাল চক্রের উৎপাতের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। এ বিষয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিন এবং সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ মাজহারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এর আগে গত বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে কোনো ধরনের প্রটোকল ছাড়া সিংগাইর উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রবেশ করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জে. মো. আব্দুল বারী এমপি।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকার অতি সন্নিকটে হওয়ায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় কর্মরত অনেক সরকারি কর্মকর্তা ও চিকিৎসক ঢাকায় অবস্থান করেন এবং সেখান থেকে সুবিধামতো যাতায়াত করেন। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে সেবার মান যাচাই করছেন।