আক্কেলপুরে ২০০ বছরের পুরোনো লাঠি খেলার আয়োজন

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে। বুধবার (১৭ জুন) উপজেলার বিহারপুর তেঁতুলতলী মাঠে স্থানীয় লাঠিয়াল মো. বাচ্চুর সার্বিক আয়োজনে এই রোমাঞ্চকর খেলা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন পর এমন উৎসবমুখর আয়োজনকে কেন্দ্র করে আশেপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজারো নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ দর্শনার্থীরা তেঁতুলতলী মাঠে ভিড় জমান। করতালির আর হর্ষধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতি বছর এই সময় এই লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এই আয়োজন প্রায় দুইশত বছরেরও বেশি পুরোনো। মূলত গ্রামীণ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতেই প্রতি বছর এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। আয়োজক কমিটি আরও বলেন, তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের মরণনেশা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে এমন সুস্থ বিনোদনের কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে ‘মাদককে না’ বলার আহ্বান জানাতেই আমাদের এই প্রচেষ্টা। খেলায় অংশ নেওয়া অভিজ্ঞ লাঠিয়াল বাবু হোসেন বলেন, আমাদের বাপ-দাদারা এই খেলা খেলে আসছে, এখন তাদের দেখাদেখি আমরাও খেলছি। তবে এই খেলার কিছু নিজস্ব নিয়ম-কানুন আছে। লাঠি নিয়ে মাঠে না

আক্কেলপুরে ২০০ বছরের পুরোনো লাঠি খেলার আয়োজন

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে। বুধবার (১৭ জুন) উপজেলার বিহারপুর তেঁতুলতলী মাঠে স্থানীয় লাঠিয়াল মো. বাচ্চুর সার্বিক আয়োজনে এই রোমাঞ্চকর খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘদিন পর এমন উৎসবমুখর আয়োজনকে কেন্দ্র করে আশেপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজারো নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ দর্শনার্থীরা তেঁতুলতলী মাঠে ভিড় জমান। করতালির আর হর্ষধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতি বছর এই সময় এই লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এই আয়োজন প্রায় দুইশত বছরেরও বেশি পুরোনো। মূলত গ্রামীণ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতেই প্রতি বছর এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।

আয়োজক কমিটি আরও বলেন, তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের মরণনেশা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে এমন সুস্থ বিনোদনের কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে ‘মাদককে না’ বলার আহ্বান জানাতেই আমাদের এই প্রচেষ্টা।

খেলায় অংশ নেওয়া অভিজ্ঞ লাঠিয়াল বাবু হোসেন বলেন, আমাদের বাপ-দাদারা এই খেলা খেলে আসছে, এখন তাদের দেখাদেখি আমরাও খেলছি। তবে এই খেলার কিছু নিজস্ব নিয়ম-কানুন আছে। লাঠি নিয়ে মাঠে নামার আগে বিশেষ মন্ত্র বলে গা বেঁধে (শরীর বন্ধন করে) নিতে হয়। এরপর ঢাক-ঢোলের তালে তালে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে যে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে, সেই জয়লাভ করে।

দীর্ঘদিন পর এমন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় দর্শনার্থীরা। মেঠো প্রান্তরে সমবেত হওয়া সুধীজন ও সাধারণ মানুষ বলেন, গ্রামবাংলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে বসা এসব ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন নিয়মিত হওয়া উচিত এবং তা আরও বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

তারা মনে করেন, নতুন প্রজন্মের কাছে লোকজ সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরতে এবং তা সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত জরুরি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow