আঙিনায় বেলি ফুলের সৌরভে মোহিত হৃদয়
নাজিম আল মামুন গ্রামের বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে আছে সবুজ-ছায়া, লতা-পাতায় নানারকম দৃষ্টিনন্দন ফুল গাছ। সূর্যাস্ত পেরিয়ে সন্ধ্যা গড়ালে মুগ্ধতায় ভরে ওঠে চারপাশ। মুগ্ধতা অনুসন্ধানে বেরিয়ে পড়লে টেনে নিয়ে যায় শুভ্র রঙে দুলতে থাকা সৌরভভরা বেলি ফুলের গাছের নিচে। জোনাকি পোকার ঝিকিমিকি আলোয় রাঙা উঠানে বেলি ফুলের গাছের ছায়ায় দক্ষিণের শান্ত হাওয়ায় কিছুক্ষণ বসে থাকলে মনে হয়, যেন আছি বেহেশতের ছায়ায়। যেখানে অনন্ত অসীম জীবন পার করে দেওয়া যায় কোনো দুঃখ ছাড়াই হাসিতে-খুশিতে। পাখিদের ডাকাডাকি, প্রজাপতির ওড়াউড়ি, চাঁদের আলোয় জোনাকি পোকার ঝিকিমিকি, প্রকৃতির মুগ্ধময় মোহতায় ভরা রূপে—দৃষ্টি ও হৃদয় ভরে উঠবে পরিপূর্ণ হয়ে। মনে হবে আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই জীবনে। বেলি ফুল ফোটে সন্ধ্যায় সৌরভ ছড়িয়ে। পরদিন সকালে ঝরে পড়ে। ভোরে দৃষ্টিপাত করলে চোখে ভেসে ওঠে মুক্তা দানার মতো পড়ে আছে। সেই মুক্তাগুলো আমাকে প্রেমের অনন্ত বাসনায় জেগে ওঠার মতো টানে। বাঁশের তৈরি একটি জালি নিয়ে মুক্তোর মতো সৌরভমাখা গন্ধেভরা ফুলগুলো কুড়িয়ে আনি। সুঁচ আর সুতো দিয়ে গেঁথে রাখি মালা। একটি মাকে ভালোবেসে উপহার দিই। একটি নিজের বুকশপের পাশে যত্ন করে রাখি। আর
নাজিম আল মামুন
গ্রামের বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে আছে সবুজ-ছায়া, লতা-পাতায় নানারকম দৃষ্টিনন্দন ফুল গাছ। সূর্যাস্ত পেরিয়ে সন্ধ্যা গড়ালে মুগ্ধতায় ভরে ওঠে চারপাশ। মুগ্ধতা অনুসন্ধানে বেরিয়ে পড়লে টেনে নিয়ে যায় শুভ্র রঙে দুলতে থাকা সৌরভভরা বেলি ফুলের গাছের নিচে। জোনাকি পোকার ঝিকিমিকি আলোয় রাঙা উঠানে বেলি ফুলের গাছের ছায়ায় দক্ষিণের শান্ত হাওয়ায় কিছুক্ষণ বসে থাকলে মনে হয়, যেন আছি বেহেশতের ছায়ায়।
যেখানে অনন্ত অসীম জীবন পার করে দেওয়া যায় কোনো দুঃখ ছাড়াই হাসিতে-খুশিতে। পাখিদের ডাকাডাকি, প্রজাপতির ওড়াউড়ি, চাঁদের আলোয় জোনাকি পোকার ঝিকিমিকি, প্রকৃতির মুগ্ধময় মোহতায় ভরা রূপে—দৃষ্টি ও হৃদয় ভরে উঠবে পরিপূর্ণ হয়ে। মনে হবে আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই জীবনে।
বেলি ফুল ফোটে সন্ধ্যায় সৌরভ ছড়িয়ে। পরদিন সকালে ঝরে পড়ে। ভোরে দৃষ্টিপাত করলে চোখে ভেসে ওঠে মুক্তা দানার মতো পড়ে আছে। সেই মুক্তাগুলো আমাকে প্রেমের অনন্ত বাসনায় জেগে ওঠার মতো টানে। বাঁশের তৈরি একটি জালি নিয়ে মুক্তোর মতো সৌরভমাখা গন্ধেভরা ফুলগুলো কুড়িয়ে আনি। সুঁচ আর সুতো দিয়ে গেঁথে রাখি মালা। একটি মাকে ভালোবেসে উপহার দিই। একটি নিজের বুকশপের পাশে যত্ন করে রাখি। আরেকটি প্রেমময় হৃদয়ের একমাত্র জেগে থাকা মানুষটির জন্য রাখি। অবশিষ্ট মালা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার জন্য উপহার হিসেবে দিয়ে ফেলি।
আশপাশের অনেকেই ফুলের মালা কেনার জন্য এলে বিক্রি করতে আমার হৃদয় বাধা দেয়। তাই কখনো কখনো তাদের উপহার হিসেবে দিয়ে থাকি। আমার কাছে প্রিয় জিনিস বিক্রি করতে ভালো লাগে না। বরং প্রিয় জিনিস অন্যের পছন্দ হলে তাকে উপহার দিতে তৃপ্তি লাগে। যেমন আনন্দ লাগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে।
বেলি ফুলের গাছটি আমার কাছে অনেক প্রিয়। কারণ এই গাছের সামান্য ফুল দিয়েই আমি মানুষের মন জয় করতে পারি, প্রিয় হয়ে উঠতে পারি। পৃথিবীতে এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হয় না। আমাদের বাড়ির উঠানে বেলি ফুল ছাড়াও নানা রকম ফুলের গাছ আছে। তার মধ্যে কিছু সুগন্ধিময় আর কিছু সৌরভ ছাড়া রঙিন ফুলের গাছ।
বাড়ির গেটের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে মাধবিলতা, রবিঠাকুরের প্রিয় ফুল বাগান বিলাস এবং তার ঠিক পাশে লাল রঙের রক্তজবা ফুলের গাছ। বাড়ির উঠান রঙিন হয়ে ওঠে, হাসে, গন্ধে সবার হৃদয় বিমোহিত করে। আরও আছে বিভিন্ন ফুলের গাছ। তার মধ্যে গাঁদা, গোলাপ ও সূর্যমুখী ইত্যাদি। এসব ফুলের গাছ আমার একমাত্র সম্পদ। মানুষের হৃদয় জয় করার জন্য তাকে দেওয়ার মতো তেমন কিছু নেই, শুধু এই ফুলগুলো ছাড়া।
লেখক: কবি ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, গ্লোবাল অনবিক রিসার্চ হাব।
এসইউ
What's Your Reaction?