আজমানে বাংলাদেশি গার্মেন্টস ব্যবসায় মন্দার কালো ছায়া: টিকে থাকার লড়াইয়ে প্রবাসীরা

সং​যুক্ত আরব আমিরাতের আজমান জোন বা বাণিজ্যিক এলাকায় এক সময় বাংলাদেশি গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের জয়জয়কার ছিল। কিন্তু সেই সুদিন এখন অনেকটাই ম্লান। ভিসা জটিলতা, অভিজ্ঞতার অভাব এবং প্রযুক্তির সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে অনেক ব্যবসায়ী এখন পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা। এর প্রভাব কেবল প্রবাসেই নয়, সরাসরি গিয়ে পড়ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পেও। ​আজমানের সানাইয়া এলাকায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ব্যবসা করছেন চট্টগ্রামের সোহেল চৌধুরী। পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "আগে আমাদের এখানে ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকত। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে পাইকারি ক্রেতারা আসত। কিন্তু এখন ভিসা সংক্রান্ত কড়াকড়ি আর জটিলতার কারণে সেই ক্রেতারা আর আসতে পারছেন না। দোকান খোলা রাখছি ঠিকই, কিন্তু দিনশেষে হিসাব মেলাতে পারছি না।" ​ বাজার ঘুরে দেখা যায়, অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি নতুন অনেক বিনিয়োগকারী এখানে এসে বিপাকে পড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমিল্লার একজন ব্যবসায়ী জানালেন তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, "দেশে থাকতেই শুনেছিলাম এখানে গার্মেন্টস ব্যবসায় খুব লাভ। তাই জমি বিক্রি করে টাকা এনে এখানে বড় গোডাউন নিয়েছিলাম। কিন্ত

আজমানে বাংলাদেশি গার্মেন্টস ব্যবসায় মন্দার কালো ছায়া: টিকে থাকার লড়াইয়ে প্রবাসীরা

সং​যুক্ত আরব আমিরাতের আজমান জোন বা বাণিজ্যিক এলাকায় এক সময় বাংলাদেশি গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের জয়জয়কার ছিল। কিন্তু সেই সুদিন এখন অনেকটাই ম্লান। ভিসা জটিলতা, অভিজ্ঞতার অভাব এবং প্রযুক্তির সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে অনেক ব্যবসায়ী এখন পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা। এর প্রভাব কেবল প্রবাসেই নয়, সরাসরি গিয়ে পড়ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পেও।

​আজমানের সানাইয়া এলাকায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ব্যবসা করছেন চট্টগ্রামের সোহেল চৌধুরী। পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "আগে আমাদের এখানে ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকত। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে পাইকারি ক্রেতারা আসত। কিন্তু এখন ভিসা সংক্রান্ত কড়াকড়ি আর জটিলতার কারণে সেই ক্রেতারা আর আসতে পারছেন না। দোকান খোলা রাখছি ঠিকই, কিন্তু দিনশেষে হিসাব মেলাতে পারছি না।"

বাজার ঘুরে দেখা যায়, অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি নতুন অনেক বিনিয়োগকারী এখানে এসে বিপাকে পড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমিল্লার একজন ব্যবসায়ী জানালেন তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, "দেশে থাকতেই শুনেছিলাম এখানে গার্মেন্টস ব্যবসায় খুব লাভ। তাই জমি বিক্রি করে টাকা এনে এখানে বড় গোডাউন নিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যবসার কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় আমি বুঝতে পারিনি কোন সিজনে কী পণ্য চলবে। এখন পুঁজি বাঁচাতে কম দামে মাল ছেড়ে দিচ্ছি, তবুও ভাড়া উঠছে না।"

​বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সংকটের পেছনে কেবল ভিসা জটিলতা নয়, বরং ব্যবসায়িক অদূরদর্শিতাও দায়ী। অনেক নতুন ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় প্রতিযোগিতায় নেমে পণ্যের দাম কমিয়ে দিচ্ছেন, যা পুরো বাজারের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এছাড়া, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে এলসি (LC) খোলার জটিলতা পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে একটি বড় দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​ব্যবসায়ী সোহেলের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি আর দক্ষ বিপণন কৌশলের অভাবও একটি বড় কারণ। তিনি বলেন, "এখন যুগ পাল্টেছে। মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করতে চায়। কিন্তু আমাদের অধিকাংশ ব্যবসায়ী এখনো পুরোনো ধাচে ব্যবসা করছেন। তারা না বুঝছেন ডিজিটাল মার্কেটিং, না পারছেন প্রযুক্তির সাথে নিজেদের উন্নতি করতে। এর ওপর আবার হুটহাট অফিস আর গোডাউন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আমাদের।"

​তবে এই অন্ধকার পরিস্থিতির মধ্যেও কেউ কেউ সাফল্যের মুখ দেখছেন। নোয়াখালীর জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী (কাল্পনিক) জানান ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, "সবাই যখন লোকসান দিচ্ছে, তখন আমরা বেছে বেছে ট্রেন্ডি এবং কোয়ালিটি পণ্য আনছি। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগ রাখছি। ব্যবসা আগের মতো সহজ নেই, তবে বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করলে টিকে থাকা সম্ভব।"

​কিন্তু এই সংকট আজমানে সীমাবদ্ধ নেই। যেহেতু এই বাজারের সিংহভাগ পণ্যই যায় বাংলাদেশ থেকে, তাই আজমানে চাহিদা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের অনেক ছোট-বড় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ক্রয়াদেশ হারাচ্ছে। ফলে রেমিট্যান্সের পাশাপাশি রপ্তানি আয়েও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

​আজমানের অলিগলিতে এখন অনেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর চোখেমুখে অনিশ্চয়তার ছাপ। ভিসা সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং প্রবাসীদের ব্যবসায়িক দিকনির্দেশনা দেওয়া না হলে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র থেকে অনেক বাংলাদেশি উদ্যোক্তাই হারিয়ে যাবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow