আতঙ্ক পেরিয়ে স্বস্তির পথে জঙ্গল সলিমপুর
পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, চারদিকে ঘন সবুজের আড়াল। একসময় এই জঙ্গল সলিমপুরের নাম শুনলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত মানুষের মনে। ভূমি দখল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে বছরের পর বছর আলোচনায় ছিল সীতাকুণ্ডের এই জনপদ। দুর্গম পাহাড়ি ভূ-প্রকৃতির কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে ধারাবাহিক অভিযান, পুলিশি তৎপরতা ও নজরদারি বাড়ায় ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে পরিস্থিতি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। এ সময় তারা আলিনগর পুলিশ ক্যাম্প ও ছিন্নমূল পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দায়িত্ব পালন পদ্ধতি এবং সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন তারা। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন। পরে ছিন্নমূল ৩ ও ৪ নম্বর সমাজের উদ্যোগে লটকন শাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় পুলিশ-জনগণের মতবিনিময় সভা। সভায় স্থানীয়রা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের দুর্ভোগ, নিরাপত্তা আরও জোরদা
পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, চারদিকে ঘন সবুজের আড়াল। একসময় এই জঙ্গল সলিমপুরের নাম শুনলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত মানুষের মনে। ভূমি দখল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে বছরের পর বছর আলোচনায় ছিল সীতাকুণ্ডের এই জনপদ। দুর্গম পাহাড়ি ভূ-প্রকৃতির কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে ধারাবাহিক অভিযান, পুলিশি তৎপরতা ও নজরদারি বাড়ায় ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে পরিস্থিতি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। এ সময় তারা আলিনগর পুলিশ ক্যাম্প ও ছিন্নমূল পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দায়িত্ব পালন পদ্ধতি এবং সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন তারা। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন।
পরে ছিন্নমূল ৩ ও ৪ নম্বর সমাজের উদ্যোগে লটকন শাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় পুলিশ-জনগণের মতবিনিময় সভা। সভায় স্থানীয়রা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের দুর্ভোগ, নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গম পাহাড়, জটিল ভূমি মালিকানা ও অপরিকল্পিত বসতির কারণে জঙ্গল সলিমপুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জিং এলাকা হিসেবে পরিচিত। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অপরাধী চক্র এখানে সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অতীতে পুলিশ ক্যাম্পে হামলা এবং ক্যাম্পে ব্যবহারের পানিতে বিষ মেশানোর অভিযোগের মতো ঘটনাও এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। এই এলাকা ও আশপাশের পুরো পরিস্থিতি বোঝার জন্য এসেছি। এখানে আমাদের ফোর্সের ডেপ্লয়মেন্ট কেমন আছে, দায়িত্ব পালন কীভাবে হচ্ছে, সুবিধা-অসুবিধাগুলো কী—এসব দেখেছি। পাশাপাশি এখানকার কৌশলগত অবস্থান বিবেচনা করে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করাই মূল উদ্দেশ্য।’
অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি।’
পাহাড়ের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডিআইজি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যারা কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, তাদের বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—জিরো টলারেন্স। কোনো সন্ত্রাসী, কোনো চাঁদাবাজের জায়গা এখানে হবে না। কিছু কৌশলগত অসুবিধা রয়েছে, তবে আমরা আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।’
জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ ক্যাম্পের পানিতে বিষ মেশানোর অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টে নিয়মিত মামলা হয়েছে। পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে পানিতে বিষ, কীটনাশক বা অন্য কোনো বিষজাতীয় পদার্থ ছিল কি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, স্থানীয় গোপন তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয় সমন্বয় করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং প্রায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের ধারাবাহিক কার্যক্রম, অপরাধ দমন এবং স্থানীয়দের সহযোগিতাই হবে সবচেয়ে বড় বিষয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আতঙ্কের পরিচয় পেছনে ফেলে একসময় জঙ্গল সলিমপুর পরিচিত হবে শান্তি ও নিরাপত্তার জনপদ হিসেবে।
What's Your Reaction?