‘আদালতে দেখা হবে’- কাকে হুমকি দিয়ে বললেন রাজস্থান রয়্যালসের মালিক?

আইপিএলের অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজস্থান রয়্যালসকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আইনি বিতর্ক। দলের সাবেক সহ-মালিক এবং বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির স্বামী রাজ কুন্দ্রা বর্তমান সহ-মালিক মনোজ বাদালের বিরুদ্ধে নিপীড়ন ও দুর্ব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইব্যুনালে (এনসিএলটি) আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিসিসিআইয়ের কাছেও লিখিতভাবে অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত আদালতে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘আদালতে দেখা হবে, মনোজ বাদালে (See you in court, Manoj Badale)’। এক বিবৃতিতে রাজ কুন্দ্রা দাবি করেছেন, বহু বছর ধরে তিনি এ বিষয়ে নীরব ছিলেন। তবে সেই নীরবতাকে কেউ যেন সত্য মেনে নেওয়া বা অভিযোগ প্রত্যাহার হিসেবে না দেখে। তার অভিযোগ, রাজস্থান রয়্যালসে নিজের শেয়ারের প্রকৃত মূল্য থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কুন্দ্রার ভাষ্য অনুযায়ী, তার শেয়ার যে দামে শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে, সেই প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তার কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল। একই সময়ে তাকে প্রকৃত মূল্যের তুলনায় অনেক কম অর্থে সমঝোতায় রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়। কুন্দ্রার দাবি, যদি আদালতে এসব অভিযো

‘আদালতে দেখা হবে’- কাকে হুমকি দিয়ে বললেন রাজস্থান রয়্যালসের মালিক?

আইপিএলের অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজস্থান রয়্যালসকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আইনি বিতর্ক। দলের সাবেক সহ-মালিক এবং বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির স্বামী রাজ কুন্দ্রা বর্তমান সহ-মালিক মনোজ বাদালের বিরুদ্ধে নিপীড়ন ও দুর্ব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইব্যুনালে (এনসিএলটি) আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিসিসিআইয়ের কাছেও লিখিতভাবে অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত আদালতে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘আদালতে দেখা হবে, মনোজ বাদালে (See you in court, Manoj Badale)’।

এক বিবৃতিতে রাজ কুন্দ্রা দাবি করেছেন, বহু বছর ধরে তিনি এ বিষয়ে নীরব ছিলেন। তবে সেই নীরবতাকে কেউ যেন সত্য মেনে নেওয়া বা অভিযোগ প্রত্যাহার হিসেবে না দেখে।

তার অভিযোগ, রাজস্থান রয়্যালসে নিজের শেয়ারের প্রকৃত মূল্য থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কুন্দ্রার ভাষ্য অনুযায়ী, তার শেয়ার যে দামে শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে, সেই প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তার কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল। একই সময়ে তাকে প্রকৃত মূল্যের তুলনায় অনেক কম অর্থে সমঝোতায় রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়।

কুন্দ্রার দাবি, যদি আদালতে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তা হবে আস্থাভঙ্গ এবং বিশ্বস্ত প্রতিনিধির দায়িত্ব লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ। তিনি জানান, এ বিষয়গুলো এখন চলমান আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।

মুম্বাইয়ের ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনালে (এনসিএলটি) মনোজ বাদালে এবং তার প্রতিষ্ঠান ইমার্জিং মিডিয়া ভেঞ্চার্সের (ইএমভি) বিরুদ্ধে তিনি আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছেন। বিচার ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে যথাযথ আদালতে নিজের সব প্রমাণ উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

শুধু আদালতই নয়, বিষয়টি বিসিসিআইয়ের নজরেও এনেছেন রাজ কুন্দ্রা। তিনি দাবি করেন, রাজস্থান রয়্যালসের মূল মালিকানা কাঠামো ও প্রাথমিক বিডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বিনিয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও প্রমাণ তিনি বিসিসিআইয়ের কাছে জমা দিয়েছেন এবং বিষয়টি স্বাধীনভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তার ভাষ্য, এসব নথি পরে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা ও আইনি কর্তৃপক্ষের কাছেও উপস্থাপন করা হবে। কুন্দ্রা আরও দাবি করেন, তার কাছে এমন নথিপত্র রয়েছে, যা প্রমাণ করতে পারে যে শেয়ার বিক্রির প্রকৃত মূল্য তার কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল। অথচ একই সময়ে তার দাবি অনেক কম অর্থে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, যথাসময়ে এসব প্রমাণ আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার সামনে তুলে ধরা হবে।

বিবৃতিতে মনোজ বাদালেকে সরাসরি আক্রমণ করে রাজ কুন্দ্রা বলেন, যারা নিজেদের সততা ও স্বচ্ছতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেন, তারা এখনেো সমাজে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। অথচ প্রকৃত সম্মান ও সুনাম স্বচ্ছতা এবং সততার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা উচিত, কৃত্রিম ভাবমূর্তির ওপর নয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজস্থান রয়্যালসে তার শেয়ারের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি ও বিশ্বস্ত অভিভাবক হিসেবে মনোজ বাদালের দায়িত্ব ছিল তার স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করা হয়নি, বরং তার বিশ্বাস ভঙ্গ করা হয়েছে। সবশেষে কুন্দ্রা বলেন, ‘সত্য কখনো তদন্ত ভয় পায় না। প্রমাণই সব কথা বলবে। আদালতেই দেখা হবে, মনোজ বাদালে।’

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে রাজস্থান রয়্যালসের ১১.৭ শতাংশ শেয়ার কিনেছিলেন রাজ কুন্দ্রা। তবে ২০১৩ সালের আইপিএল স্পট-ফিক্সিং কেলেঙ্কারির তদন্তে তার নাম উঠে আসে। পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত একটি প্যানেল ২০১৫ সালে তাকে ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট সব কর্মকাণ্ড থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করে। একই বছর তিনি রাজস্থান রয়্যালসের মালিকানা কাঠামো থেকেও বেরিয়ে যান।

এদিকে চলতি মাসের শুরুতে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের হাইকোর্ট রাজ কুন্দ্রাকে ইমার্জিং মিডিয়া ভেঞ্চার্সকে ৪.৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি রাজস্থান রয়্যালসে তার সাবেক শেয়ার নিয়ে ভারতে নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া চালানোর ওপরও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই রায়কে ইমার্জিং মিডিয়া ভেঞ্চার্সের জন্য বড় আইনি বিজয় হিসেবে দেখা হয়।

অন্যদিকে, চলতি বছরই মনোজ বাদালে রাজস্থান রয়্যালসে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা ছেড়ে দেন। শিল্পপতি লক্ষ্মী এন. মিত্তাল, তার ছেলে আদিত্য মিত্তাল এবং আদর পুনাওয়ালা যৌথভাবে প্রায় ১.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ কোটি রুপি) মূল্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নিয়ন্ত্রণমূলক অংশীদারত্ব কিনে নেন। এই মূল্যায়নের মধ্যে রাজস্থান রয়্যালসের পুরুষ দল, পার্ল রয়্যালস এবং বার্বাডোজ রয়্যালসও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow