আদিবাসীরা এখনো পাননি ভূমির অধিকার ও স্বীকৃতি

শতশত বছর ধরে মৌলভীবাজার তথা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা বসবাস করলেও সরকারিভাবে এখনো স্বীকৃতি মেলেনি আদিবাসী হিসেবে। বহু বছর ধরে ভূমির অধিকার ও তাদের সাংবিধানিক ও সরকারি স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে এলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। পাহাড় কিংবা সমতল যেখানেই আদিবাসীরা বসবাস করছেন; সেখানেই বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে। শুধু ভূমির অধিকার নয়; শিক্ষা, চিকিৎসা ও সরকারি স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন মৌলভীবাজারে বসবাসরত আদিবাসীরা। আদিবাসীরা জানান, এ দেশে শতশত বছর ধরে বসবাস করেও এখনো তাদের পুরোপুরি ভূমির অধিকার বাস্তবায়ন হয়নি। তাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বা উপজাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি অনেক আদিবাসী এলাকায়। সাংবিধানিক ও সরকারি স্বীকৃতির জন্য দাবি জানালেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানান তারা। বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরাম সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চলে প্রায় ৫০টির বেশি আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করেন। এরমধ্যে মৌলভীবাজারে মনিপুরী, খাসিয়া, ত্রিপুরা, গারো, ওরাওঁসহ ২৫টির বেশি আদিবাসীর প্রায় দুই লাখ মানুষ বসবাস করছেন প

আদিবাসীরা এখনো পাননি ভূমির অধিকার ও স্বীকৃতি

শতশত বছর ধরে মৌলভীবাজার তথা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা বসবাস করলেও সরকারিভাবে এখনো স্বীকৃতি মেলেনি আদিবাসী হিসেবে। বহু বছর ধরে ভূমির অধিকার ও তাদের সাংবিধানিক ও সরকারি স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে এলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। পাহাড় কিংবা সমতল যেখানেই আদিবাসীরা বসবাস করছেন; সেখানেই বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে। শুধু ভূমির অধিকার নয়; শিক্ষা, চিকিৎসা ও সরকারি স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন মৌলভীবাজারে বসবাসরত আদিবাসীরা।

আদিবাসীরা জানান, এ দেশে শতশত বছর ধরে বসবাস করেও এখনো তাদের পুরোপুরি ভূমির অধিকার বাস্তবায়ন হয়নি। তাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বা উপজাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি অনেক আদিবাসী এলাকায়। সাংবিধানিক ও সরকারি স্বীকৃতির জন্য দাবি জানালেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানান তারা।

বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরাম সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চলে প্রায় ৫০টির বেশি আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করেন। এরমধ্যে মৌলভীবাজারে মনিপুরী, খাসিয়া, ত্রিপুরা, গারো, ওরাওঁসহ ২৫টির বেশি আদিবাসীর প্রায় দুই লাখ মানুষ বসবাস করছেন পাহাড় ও সমতলে। নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে তারা বসবাস করলেও সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। বিশেষ করে ভূমির অধিকার, শিক্ষার জন্য নেই সরকারি বিদ্যালয়, চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। বিশেষ করে চা বাগান ও খাসিয়া সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ মানুষের ভূমির অধিকার নিশ্চিত হয়নি। ভূমির অধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় অন্তত ৫০ হাজার আদিবাসী পাহাড় ও টিলায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। অধিকাংশ চা বাগান ও খাসিয়া পুঞ্জিতে নেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিশুরা।

বিভিন্ন আদিবাসী নেতারা বলেন, ‌‌‘জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী সারাবিশ্বে ৯ আগস্ট আদিবাসী দিবস পালন করা হয়। আমাদের দেশে দিবসটি বেসরকারিভাবে আমরা পালন করি। তবে সরকারিভাবে আদিবাসীদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। আদিবাসীরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বেঁচে আছেন। তারা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

adi

চা শ্রমিক সন্তান দিনেশ বাউরি বলেন, ‘এই সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম চা জনগোষ্ঠী। চা বাগানে বহু আদিবাসী আছেন, কাজ করেন। তবে তারা সবকিছু থেকেই বঞ্চিত। কাগজে-কলমে বাংলাদেশি নাগরিক হলেও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে ভূমির অধিকার ও মজুরি বৃদ্ধির জন্য দাবি জানালেও তা বাস্তবায়ন হয় না। কর্মসংস্থানের অভাবে হাজার হাজার চা বাগানের শ্রমিক বেকারত্ব নিয়ে ঘুরছেন।’

খাসিয়া সম্প্রদায়ের সাজু মারচিয়াং বলেন, ‘আদিবাসীরা বরাবরের মতো সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শতবছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করলেও এখনো ভূমির অধিকার নিশ্চিত হয়নি। অনেক পুঞ্জিতে এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। শিক্ষার জন্য নেই কোনো সরকারি ব্যবস্থা। পাহাড়ে পান চাষ করে বেশিরভাগ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন। খাসিয়া পুঞ্জিগুলোতে বিশুদ্ধ পানির সংকট আছে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদের সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, ‘আদিবাসীরা যেহেতু এ দেশের নাগরিক; তাদের অবশ্যই ভূমির অধিকার দেওয়া প্রয়োজন। শুধু ভূমি নয়; তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। কারণ শতশত বছর ধরে তারা বসবাস করে আসছেন। অথচ তাদের আদিবাসী হিসেবে এখনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, তাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক।’

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি বলেন, ‘আদিবাসীরা শিক্ষা, চিকিৎসা, ভূমির অধিকার ও মজুরি বৈষম্যের শিকার। বিশেষ করে চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। শতবছর ধরেও বসবাস করলেও এখনো ভূমির অধিকার পাননি শ্রমিকেরা। চা শ্রমিকসহ সব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নাগরিককে আদিবাসী হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দিতে হবে।’

adi

বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের কো চেয়ারপার্সন ও মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান জিডিসন প্রধান সুচিয়াং বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির জন্য দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আদিবাসীদের ভূমির অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি। আমাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলা হয়। বর্তমান সরকারের কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি, আমাদের সাংবিধানিক ও সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হোক আদিবাসী বলে।’

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তানভীর হোসেন বলেন, ‘আদিবাসীরা আমাদের কাছে কোনো দাবি জানাননি। তারা যদি আমাদের কাছে কোনো দাবি জানান। তাহলে তাদের দাবি সরকারের কাছে পৌঁছে দেবো।’

এমএআইএস/এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow