আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি স্টেম সেল থেরাপি

স্টেম সেল থেরাপি হলো আধুনিক চিকিৎসার একটি পদ্ধতি, যেখানে শরীরের নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত কোষ ঠিক করতে বিশেষ ধরনের কোষ ব্যবহার করা হয়। এই চিকিৎসা মূলত ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং চিকিৎসার পর শরীরকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতেও সাহায্য করে। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা স্টেম সেলের মাধ্যমে আরও কোন কোন রোগের চিকিৎসা করা যেতে পারে, তা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্টেম সেল কী স্টেম সেল হলো শরীরের এমন কোষ, যেগুলোর এখনো নির্দিষ্ট কোনো কাজ নির্ধারিত থাকে না। প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলো শরীরের বিভিন্ন ধরনের কোষে রূপ নিতে পারে। কিছু স্টেম সেল নিজে নিজে বহুবার নতুন কোষ তৈরি করার ক্ষমতাও রাখে। স্টেম সেল সাধারণত দুই ধরনের হয়। একটি হলো প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল, অন্যটি সোমাটিক বা অ্যাডাল্ট স্টেম সেল। প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল ভ্রূণ থেকে পাওয়া যায় বা বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় এবং এগুলো শরীরের যে কোনো ধরনের কোষে পরিণত হতে পারে। সোমাটিক স্টেম সেল প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে থাকে এবং নির্দিষ্ট টিস্যু বা অঙ্গ গঠনে সহায়তা করে। স্টেম সেল থেরাপি কীভাবে কাজ করে স্টেম সেল থেরাপিতে রোগীর শরীরে স্টেম সেল দেওয়

আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি স্টেম সেল থেরাপি

স্টেম সেল থেরাপি হলো আধুনিক চিকিৎসার একটি পদ্ধতি, যেখানে শরীরের নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত কোষ ঠিক করতে বিশেষ ধরনের কোষ ব্যবহার করা হয়। এই চিকিৎসা মূলত ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং চিকিৎসার পর শরীরকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতেও সাহায্য করে।

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা স্টেম সেলের মাধ্যমে আরও কোন কোন রোগের চিকিৎসা করা যেতে পারে, তা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্টেম সেল কী

স্টেম সেল হলো শরীরের এমন কোষ, যেগুলোর এখনো নির্দিষ্ট কোনো কাজ নির্ধারিত থাকে না। প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলো শরীরের বিভিন্ন ধরনের কোষে রূপ নিতে পারে। কিছু স্টেম সেল নিজে নিজে বহুবার নতুন কোষ তৈরি করার ক্ষমতাও রাখে।

স্টেম সেল সাধারণত দুই ধরনের হয়। একটি হলো প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল, অন্যটি সোমাটিক বা অ্যাডাল্ট স্টেম সেল। প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল ভ্রূণ থেকে পাওয়া যায় বা বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় এবং এগুলো শরীরের যে কোনো ধরনের কোষে পরিণত হতে পারে। সোমাটিক স্টেম সেল প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে থাকে এবং নির্দিষ্ট টিস্যু বা অঙ্গ গঠনে সহায়তা করে।

স্টেম সেল থেরাপি কীভাবে কাজ করে

স্টেম সেল থেরাপিতে রোগীর শরীরে স্টেম সেল দেওয়া হয়, যাতে নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত কোষের জায়গায় নতুন কোষ তৈরি হতে পারে। ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির ফলে শরীরের স্বাভাবিক রক্তকোষ তৈরির ক্ষমতা কমে যায়। তখন স্টেম সেল থেরাপি শরীরকে আবার সেই ক্ষমতা ফিরে পেতে সাহায্য করে।

কিছু রোগ যেমন মাল্টিপল মাইলোমা বা নির্দিষ্ট ধরনের লিউকেমিয়ায় এই থেরাপির মাধ্যমে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা হয়। এ ক্ষেত্রে দাতার শ্বেত রক্তকণিকা ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে কাজ করে, যা চিকিৎসায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

কোন কোন রোগে স্টেম সেল থেরাপি ব্যবহৃত হচ্ছে

স্টেম সেল থেরাপি এখনো একটি গবেষণাধীন চিকিৎসা পদ্ধতি। তাই বর্তমানে এটি সীমিত কিছু রোগের ক্ষেত্রেই অনুমোদিত। লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা, নিউরোব্লাস্টোমা, মাল্টিপল মাইলোমা এবং অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার মতো রোগে এই থেরাপি ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি রক্তজনিত ক্যানসারে স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের পর সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতেও এটি সহায়ক।

এ ছাড়া বিজ্ঞানীরা পারকিনসনস, আলঝেইমারস, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস এবং এএলএসের মতো স্নায়বিক রোগে স্টেম সেলের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। তবে এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসা এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, কিছু প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়াই জয়েন্টের ব্যথা, বাত বা বার্ধক্য রোধের নামে স্টেম সেল চিকিৎসার দাবি করছে, যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

স্টেম সেল থেরাপির ধরন

স্টেম সেল থেরাপির সময় সাধারণত শিরার মাধ্যমে শরীরে স্টেম সেল প্রবেশ করানো হয়। রক্ত তৈরির স্টেম সেল তিনটি প্রধান উৎস থেকে পাওয়া যায়। এগুলো হলো অস্থিমজ্জা, নাড়ির রক্ত এবং রক্ত।

এই থেরাপি তিনভাবে দেওয়া হতে পারে। অটোলোগাস পদ্ধতিতে রোগীর নিজের শরীর থেকে নেওয়া স্টেম সেল ব্যবহার করা হয়। অ্যালোজেনিক পদ্ধতিতে অন্য একজন দাতার স্টেম সেল দেওয়া হয়। আর রোগীর যদি যমজ ভাই বা বোন থাকে, তাহলে সিনজেনিক পদ্ধতিতে সেখান থেকে স্টেম সেল নেওয়া হয়।

স্টেম সেল থেরাপি কতটা নিরাপদ

স্টেম সেল থেরাপির অনেক উপকারিতা থাকলেও এর কিছু ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো গ্রাফট ভার্সেস হোস্ট ডিজিজ। এ অবস্থায় রোগীর শরীর দাতার কোষকে নিজের বলে চিনতে না পেরে আক্রমণ করে। ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর ওষুধ দিয়ে এই জটিলতা নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

এ ছাড়া লিভারের রক্তনালিতে সমস্যা, ক্যানসার আবার ফিরে আসা, নতুন ক্যানসার তৈরি হওয়া এবং প্রতিস্থাপনের পর লিম্ফ সংক্রান্ত জটিলতার ঝুঁকিও থাকতে পারে।

স্টেম সেল থেরাপির ভবিষ্যৎ

স্টেম সেল থেরাপির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা আশাবাদী। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চোখের রোগ, স্ট্রোক এবং বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যার চিকিৎসায় স্টেম সেলের ব্যবহার নিয়ে গবেষণা চলছে। গবেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে আরও অনেক জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসায় এই থেরাপি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

স্টেম সেল থেরাপি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এটি এখনো সম্পূর্ণভাবে বিকশিত হয়নি। নির্দিষ্ট কিছু রোগে এর সফল ব্যবহার দেখা গেলেও বহু ক্ষেত্রে গবেষণা চলমান। তাই এই চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণের আগে এর উপকারিতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানা জরুরি।

সঠিক গবেষণা, বৈজ্ঞানিক অনুমোদন এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে স্টেম সেল থেরাপি আরও বেশি মানুষের চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র : Very Well Health

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow