আধুনিক সম্পর্কের 'ডিজিটাল প্রমিস' কেমন হবে

আপনি কি খেয়াল করেছেন – বর্তমানে যুগলরা একসঙ্গে বসে থাকলেও দুজনের চোখ থাকে দুই স্ক্রিনে? সম্পর্ক আছে, কিন্তু মনোযোগ নেই। ভালোবাসা আছে, কিন্তু সময় নেই। তাই প্রযুক্তির এই যুগে আজকের প্রমিস ডে শুধু ফুল বা আংটিতে সীমাবদ্ধ না রেখে সঙ্গীকে ডিজিটাল আচরণের প্রতিশ্রুতি দিন। কারণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এখন অফলাইনের প্রতিশ্রুতিই সবচেয়ে জরুরি। কীভাবে রক্ষা করবেন এই প্রমিস - ১. ডিজিটাল স্বচ্ছতা, কিন্তু নজরদারি নয় সঙ্গীর ফোন দেখা বা পাসওয়ার্ড জানা - এসব নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে গটম্যান ইনস্টিটিউট বলছে, সম্পর্কের ভিত্তি হলো বিশ্বাস, নজরদারি নয়। ডিজিটাল প্রমিস হতে পারে এরকম - আমি গোপনীয়তাকে সম্মান করব, কিন্তু লুকোছাপা করব না। কারণ, স্বচ্ছতা মানে নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নয়। ২. ‘ফাবিং’ নয়, পূর্ণ মনোযোগ একসঙ্গে বসে থেকেও ফোনে ব্যস্ত থাকাই ‘ফাবিং’। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ফাবিং দম্পতির সন্তুষ্টি কমায় এবং আবেগীয় দূরত্ব বাড়ায়। হেলথলাইন জানিয়েছে, ফোনের কারণে মনোযোগ ভাঙলে সঙ্গী নিজেকে গুরুত্বহীন মনে করতে পারেন। তাই প্রতিশ্রুতি হতে পারে - একান্ত সময় ফোন সাইলেন্ট রাখা। ৩. সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্মত

আধুনিক সম্পর্কের 'ডিজিটাল প্রমিস' কেমন হবে

আপনি কি খেয়াল করেছেন – বর্তমানে যুগলরা একসঙ্গে বসে থাকলেও দুজনের চোখ থাকে দুই স্ক্রিনে? সম্পর্ক আছে, কিন্তু মনোযোগ নেই। ভালোবাসা আছে, কিন্তু সময় নেই।

তাই প্রযুক্তির এই যুগে আজকের প্রমিস ডে শুধু ফুল বা আংটিতে সীমাবদ্ধ না রেখে সঙ্গীকে ডিজিটাল আচরণের প্রতিশ্রুতি দিন। কারণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এখন অফলাইনের প্রতিশ্রুতিই সবচেয়ে জরুরি। কীভাবে রক্ষা করবেন এই প্রমিস -

১. ডিজিটাল স্বচ্ছতা, কিন্তু নজরদারি নয়

সঙ্গীর ফোন দেখা বা পাসওয়ার্ড জানা - এসব নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে গটম্যান ইনস্টিটিউট বলছে, সম্পর্কের ভিত্তি হলো বিশ্বাস, নজরদারি নয়। ডিজিটাল প্রমিস হতে পারে এরকম - আমি গোপনীয়তাকে সম্মান করব, কিন্তু লুকোছাপা করব না। কারণ, স্বচ্ছতা মানে নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নয়।

২. ‘ফাবিং’ নয়, পূর্ণ মনোযোগ

একসঙ্গে বসে থেকেও ফোনে ব্যস্ত থাকাই ‘ফাবিং’। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ফাবিং দম্পতির সন্তুষ্টি কমায় এবং আবেগীয় দূরত্ব বাড়ায়। হেলথলাইন জানিয়েছে, ফোনের কারণে মনোযোগ ভাঙলে সঙ্গী নিজেকে গুরুত্বহীন মনে করতে পারেন। তাই প্রতিশ্রুতি হতে পারে - একান্ত সময় ফোন সাইলেন্ট রাখা।

৩. সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্মতির সংস্কৃতি

সব মুহূর্তই কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টযোগ্য? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত মুহূর্ত শেয়ার করার আগে সঙ্গীর অনুমতি নেওয়া উচিত। এটি সম্মান ও নিরাপত্তা তৈরি করে। ডিজিটাল স্বীকৃতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ডিজিটাল সীমারেখাও জরুরি।

আধুনিক সম্পর্কের 'ডিজিটাল প্রমিস' কেমন হবে

৪. ‘সিন’ করে রাখা নয়, ছোট্ট বার্তা দিন

মেসেজ সিন করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উত্তর না দেওয়া ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দেয়। একটি ছোট্ট টেক্সট - ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব – এক্ষেত্রে বিশ্বাস বজায় রাখে। যোগাযোগের ধারাবাহিকতা ও আবেগের নিরাপত্তা বাড়ায়।

৫. ডিজিটাল ডিটক্সের অঙ্গীকার

মাইন্ডফুল.অর্গ-এর গাইড বলছে, নির্দিষ্ট সময় অফলাইনে থাকা মানসিক চাপ কমায় ও সম্পর্কের সংযোগ বাড়ায়। সপ্তাহে একদিন বা প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা ‘নো-ফোন টাইম’ সম্পর্কের গভীরতা বাড়াতে পারে।

ডিজিটাল দুনিয়া আমাদের কাছাকাছি এনেছে, আবার দূরেও সরিয়েছে। তাই এই প্রমিস ডে-তে সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার হতে পারে -আমি তোমাকে দেখব, শুনব, সময় দেব। স্মার্টফোন সরিয়ে রেখে চোখে চোখ রেখে কথা বলার প্রতিশ্রুতিই হতে পারে আধুনিক ভালোবাসার ভিত্তি।

সূত্র: দ্য গটম্যান ইনস্টিটিউট, হেলথলাইন, মাইন্ডফুল ডট অর্গ, জার্নাল অব সোশ্যাল অ্যান্ড পার্সোনাল রিলেশনশিপস

এএমপি/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow