আপত্তিকর ভিডিও করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা, গ্রেপ্তার নারী
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সৌদি আরব প্রবাসী এক যুবককে কৌশলে বাড়িতে ডেকে এনে অপহরণ, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই চক্রের মূলহোতা এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে অপহৃত প্রবাসীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) রাতে উপজেলার সলঙ্গা থানার তেলকুপি পূর্বপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী রাসেল ফকিরকে (৩০) উদ্ধার এবং চক্রের মূলহোতা মোছা. লাকী খাতুনকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অভিযানের সময় লাকীর এক সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। সোমবার (৬ জুলাই) রায়গঞ্জ-সলঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সলঙ্গা থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত জানান। তিনি জানান, বেলকুচি উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামের রহিম ফকিরের ছেলে সৌদি প্রবাসী রাসেল ফকির তিন মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। গত ৪ জুলাই বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন ৫ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাসেলের মোবাইল ফোন থেকে তার স্ত্রী হাসি খাতুনের কাছে একটি কল আসে। ফোন
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সৌদি আরব প্রবাসী এক যুবককে কৌশলে বাড়িতে ডেকে এনে অপহরণ, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
এই চক্রের মূলহোতা এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে অপহৃত প্রবাসীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) রাতে উপজেলার সলঙ্গা থানার তেলকুপি পূর্বপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী রাসেল ফকিরকে (৩০) উদ্ধার এবং চক্রের মূলহোতা মোছা. লাকী খাতুনকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অভিযানের সময় লাকীর এক সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
সোমবার (৬ জুলাই) রায়গঞ্জ-সলঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সলঙ্গা থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত জানান।
তিনি জানান, বেলকুচি উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামের রহিম ফকিরের ছেলে সৌদি প্রবাসী রাসেল ফকির তিন মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। গত ৪ জুলাই বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও তার সন্ধান পাননি।
পরদিন ৫ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাসেলের মোবাইল ফোন থেকে তার স্ত্রী হাসি খাতুনের কাছে একটি কল আসে। ফোনে এক নারী নিজেকে অপহরণকারীদের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে জানান, রাসেল তাদের জিম্মায় রয়েছে। তাকে জীবিত ফেরত পেতে হলে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। অন্যথায় রাসেলকে হত্যা করা হবে এবং তার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
রাসেলের পরিবার বাধ্য হয়ে তাকে উদ্ধারের আশায় মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ডের একটি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে দুই দফায় মোট ৫০ হাজার টাকা পাঠায়। এরপরও অপহরণকারীরা রাসেলকে মুক্তি না দিয়ে নগদ আরও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে সলঙ্গার তেলকুপি গ্রামে আসতে বলে।
বিষয়টি জানার পরপরই রাসেলের পরিবার সলঙ্গা থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয়। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর রোববার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পুলিশের একটি দল ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছদ্মবেশে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তেলকুপি নদীর পাড়ে অবস্থান নেয়।
সেখানে লাকী খাতুন মুক্তিপণের টাকা নিতে এলে ওত পেতে থাকা পুলিশ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তেলকুপি পূর্বপাড়ায় তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরেক আসামি পালিয়ে গেলেও লাকীর শয়নকক্ষের তালা ভেঙে ভেতর থেকে অপহৃত রাসেল ফকিরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সময় লাকী খাতুনের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ে ব্যবহৃত সিমসহ একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
উদ্ধার হওয়ার পর রাসেল ফকির পুলিশকে জানান, বিদেশে লোক পাঠানোর বিষয়ে আলোচনার কথা বলে লাকী খাতুন গত ৪ জুলাই বিকেলে তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। রাতে লাকী খাতুন জোরপূর্বক আপত্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন এবং তার সহযোগী সেটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। পরে ওই ভিডিওর ভয় দেখিয়েই পরিবারের কাছে বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার মূল আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পলাতক অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
What's Your Reaction?