দ্বৈত-নাগরিত্বের জন্য মনোনয়ন বাতিল হওয়া জামায়েত ইসলামী প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ডা. একেএম ফজলুল হক হলফনামায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা উল্লেখ করলেও এর পক্ষে কোনো নথি জমা দেননি বলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় ডা. এ কে এম ফজলুল হকের বিদেশে অবস্থান, পেশা, আয় ও ঠিকানাসংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ থাকলেও নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়ে সুস্পষ্ট নথি সংযুক্ত না থাকায় বিষয়টি শুরু থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ডা. একেএম ফজলুল হক হলফনামায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা উল্লেখ করলেও এর পক্ষে কোনো নথি জমা দেননি। তিনি হলফনামায় দাবি করেন, ২৮ ডিসেম্বর তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন।
বাছাইয়ের সময় তিনি জানান, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করা হয়েছে এবং সোমবার এ বিষয়ে শুনানি হবে। তবে এখনো দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি, বাকলিয়া) সংসদীয় আসনে ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব ছাড়ার জন্য করা আবেদন গৃহীত হওয়ার কোনো কাগজ জমা না দেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী একেএম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী আবদুল মোমেন চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে হলফনামায় স্বাক্ষর ও আয়কর রিটার্নের কাগপত্র জমা না দেওয়ায়। আর খেলাপি ঋণ, সিটি করপোরেশনের বকেয়া বিল এবং হলফনামার শিক্ষা সনদের মিল না থাকায় নাগরিক ঐক্যের নুরুল আবছার মজুমদারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল।’
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে ১৬টি সংসদীয় আসনে জমা পড়া ১৪৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ৪১টি বাতিল হয়েছে এবং বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ১০২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র। যাদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে তারা প্রত্যেকে আপিলের সুযোগ পাবেন। সোমবার থেকে আপিল শুরু হয়েছে, চলবে ৯ জানুয়ারি বিকাল ৫টা পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তির সময় ৯ দিন, ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি।
জানা যায়, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ৪১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়াদের মধ্যে ২৩টি মনোনয়নপত্র বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দলীয় মনোনয়নপত্র যথাযথভাবে না দেওয়া, স্বাক্ষরে গরমিল, দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপিকে এসব মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী একেএম ফজলুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালবেলাকে বলেন, সোমবার রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে নকল সংগ্রহ করেছেন। আপিলের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। আমার মনোনয়ন সংক্রান্ত সকল তথ্য, যোগ্যতা ও আইনি শর্ত পূর্ণাঙ্গ ও প্রশ্নাতীত সত্ত্বেও আমার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এটি একটি সাময়িক সিদ্ধান্ত, যা আপিল কর্তৃপক্ষের আইনগত ও নথিভিত্তিক উপস্থাপনার মাধ্যমে সহজেই সংশোধিত হবে। তিনি বলেন, আপিল শুনানিতে ইনশাআল্লাহ মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হবে। এ বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) মো. হেদায়েত উল্যাহ্ কালবেলাকে জানান, মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নকল সংগ্রহ করেছেন। কারা আপিল করবেন, আর কারা করবেন না; সেটি তাদের বিষয়।