আবারও কিউবায় ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অনুমোদন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
কিউবার তীব্র জ্বালানি সংকট কিছুটা লাঘবের লক্ষ্যে ভেনেজুয়েলার নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল কিউবায় পুনরায় বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের তেল অবরোধের কারণে সৃষ্ট মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতিতে ক্যারিবীয় দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করার পর এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে দেশটি। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাণিজ্যিক ও মানবিক ব্যবহারের জন্য কিউবায় ভেনেজুয়েলার তেল পুনরায় বিক্রির লাইসেন্স চাওয়া কোম্পানিগুলোকে অনুমোদন দেওয়া হবে। তবে কিউবার সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা বা অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ নীতির সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। গত ২৫ বছর ধরে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় পণ্য ও সেবার বিনিময়ে ভেনেজুয়েলা কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী ছিল। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পর ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে এগিয়ে আসা মেক্সিকোও কিউবায় তেল পাঠানো স্থগিত করে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় তেল পাঠানো দে
কিউবার তীব্র জ্বালানি সংকট কিছুটা লাঘবের লক্ষ্যে ভেনেজুয়েলার নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল কিউবায় পুনরায় বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের তেল অবরোধের কারণে সৃষ্ট মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতিতে ক্যারিবীয় দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করার পর এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাণিজ্যিক ও মানবিক ব্যবহারের জন্য কিউবায় ভেনেজুয়েলার তেল পুনরায় বিক্রির লাইসেন্স চাওয়া কোম্পানিগুলোকে অনুমোদন দেওয়া হবে। তবে কিউবার সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা বা অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ নীতির সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
গত ২৫ বছর ধরে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় পণ্য ও সেবার বিনিময়ে ভেনেজুয়েলা কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী ছিল। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পর ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে এগিয়ে আসা মেক্সিকোও কিউবায় তেল পাঠানো স্থগিত করে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় তেল পাঠানো দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়। ফলে কিউবায় জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এতে করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, যানবাহন চলাচল, গৃহস্থালি ব্যবহার ও বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলছে।
এদিকে কারিকমের বৈঠকে অংশ নিতে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসে জড়ো হওয়া ক্যারিবীয় নেতারা কিউবার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্দ্রো হোলনেস বলেন, মানবিক দুর্ভোগ কারও জন্যই কল্যাণকর নয়। কিউবায় দীর্ঘস্থায়ী সংকট কেবল কিউবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
সম্মেলনের আয়োজক দেশটির প্রধানমন্ত্রী টেরান্স ড্রিউ বলেন, একটি অস্থিতিশীল কিউবা আমাদের সবার জন্য অস্থিতিশীলতা বয়ে আনবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, কিউবার মানবিক সংকটের জন্য ওয়াশিংটনের অবরোধ নয়, বরং দেশটির সরকারের নীতিই দায়ী। তিনি সতর্ক করে বলেন, তেল যদি সরকার বা সামরিক বাহিনীর হাতে যায়, তবে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হবে।
রুবিও বলেন, “কিউবাকে পরিবর্তন আনতেই হবে। জনগণের জীবনমান উন্নয়নের এটিই একমাত্র পথ।” তিনি অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও শক্তিশালী বেসরকারি খাতের অভাবকে কিউবার বর্তমান সংকটের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে মেক্সিকো ও কানাডা কিউবায় সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যালেকজেন্ডার নোভাক জানান, তার সরকার কিউবায় জ্বালানি সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে।
অন্যদিকে, কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্লোরিডা-নিবন্ধিত একটি দ্রুতগতির নৌযান কিউবার জলসীমায় প্রবেশ করলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে চারজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কোনো মার্কিন সরকারি সংস্থা জড়িত নয় বলে জানিয়েছেন মার্কো রুবিও।
What's Your Reaction?