আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি জাহাজ জব্দ করার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় এ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে বাজারে লেনদেনের শুরুতেই তেলের দামে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা যায়। বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ জব্দ করেছে, যেটি তাদের আরোপিত অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল। এ ঘটনার পর অঞ্চলটিতে সংঘাত আরও তীব্র এবং হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা বেড়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৬ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ৬ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ১৪ ডলারে। যদিও এর আগে শুক্রবার তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। তখন ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্মতি জানায় এবং যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় আশাবাদ ব্যক্ত করে। ফলে দুই ধরনের তেলের দামই ৯ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছিল। তবে আজ সোমবার সকাল থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের তৌস্কা নামে

আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি জাহাজ জব্দ করার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় এ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে বাজারে লেনদেনের শুরুতেই তেলের দামে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা যায়।

বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ জব্দ করেছে, যেটি তাদের আরোপিত অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল। এ ঘটনার পর অঞ্চলটিতে সংঘাত আরও তীব্র এবং হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা বেড়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৬ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ৬ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ১৪ ডলারে।

যদিও এর আগে শুক্রবার তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। তখন ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্মতি জানায় এবং যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় আশাবাদ ব্যক্ত করে। ফলে দুই ধরনের তেলের দামই ৯ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছিল।

তবে আজ সোমবার সকাল থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের তৌস্কা নামের একটি ইরানি জাহাজ জব্দ এবং এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী দুটি জাহাজে গুলি চালায় এবং অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দেয়।

ইরান এ ঘটনাকে সামুদ্রিক দস্যুতা হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দ্রুত প্রতিশোধের হুমকি দেয়। এতে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

আর্থিক পরিষেবা সংস্থা এমএসটি মার্কির বিশ্লেষক সল ক্যাভোনিক বিবিসিকে বলেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার কারণে দ্রুত তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু করা কঠিন হলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পরবিরোধী সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় তেলের বাজার ক্রমাগত ওঠানামা করছে।

এদিকে শনিবার ২০টির বেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হলেও বাজারে আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট। দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডনক) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান আল জাবের বলেন, গত ৫০ দিনে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আটকে গেছে। তিনি দ্রুত হরমুজ প্রণালিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙে পড়া, আলোচনা স্থগিত থাকা এবং উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ফলে তেলের সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

সূত্র : বিবিসি ও অয়েল প্রাইস ডটকম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow