আবেগঘন স্মৃতিচারণে দেবলীনা

ওপার বাংলার ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী দেবলীনা ভট্টাচার্য। পর্দায় যিনি হাসি, আবেগ আর শক্তিশালী অভিনয়ে দর্শকের মন জয় করেন প্রতিনিয়ত। কিন্তু ক্যামেরার ঝলমলে আলোর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বেদনাভরা সংগ্রামের গল্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই কঠিন অধ্যায়ের কথা অকপটে তুলে ধরেছেন দেবলীনা। খুব অল্প বয়সেই বাবাকে হারানোর শোক কীভাবে তার জীবনকে আমূল বদলে দিয়েছিল, সেই স্মৃতিই যেন আবারও ফিরে এলো তার কণ্ঠে। চোখের জলে ভেসে উঠল শৈশবের হারিয়ে যাওয়া নিরাপত্তা আর সংগ্রাম করে বড় হয়ে ওঠার গল্প। দেবলীনা জানান, বাবার আকস্মিক প্রয়াণের পর তাদের তিন ভাইবোনের বড় হওয়ার পথটা ছিল কণ্টকাকীর্ণ। মা একা হাতে তিন সন্তানকে বড় করার লড়াই শুরু করলেও শরীর সায় দিচ্ছিল না। ছোটবেলা থেকেই দেবলীনা দেখেছেন মায়ের শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা। তিন ভাইবোনের মধ্যে বড় হওয়ায় মাত্র ১১ বছর বয়সেই কাঁধে তুলে নিতে হয় সংসারের গুরুভার। অভিনেত্রী বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর সব বদলে যায়। আমার মা দীর্ঘদিন ধরে স্কিৎজ়োফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। যখনই এই অসুস্থতা বাড়ত, ছোট্ট আমিই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতাম। পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না বলে পরিস্থিতি আমা

আবেগঘন স্মৃতিচারণে দেবলীনা

ওপার বাংলার ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী দেবলীনা ভট্টাচার্য। পর্দায় যিনি হাসি, আবেগ আর শক্তিশালী অভিনয়ে দর্শকের মন জয় করেন প্রতিনিয়ত। কিন্তু ক্যামেরার ঝলমলে আলোর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বেদনাভরা সংগ্রামের গল্প।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই কঠিন অধ্যায়ের কথা অকপটে তুলে ধরেছেন দেবলীনা। খুব অল্প বয়সেই বাবাকে হারানোর শোক কীভাবে তার জীবনকে আমূল বদলে দিয়েছিল, সেই স্মৃতিই যেন আবারও ফিরে এলো তার কণ্ঠে। চোখের জলে ভেসে উঠল শৈশবের হারিয়ে যাওয়া নিরাপত্তা আর সংগ্রাম করে বড় হয়ে ওঠার গল্প।

দেবলীনা জানান, বাবার আকস্মিক প্রয়াণের পর তাদের তিন ভাইবোনের বড় হওয়ার পথটা ছিল কণ্টকাকীর্ণ। মা একা হাতে তিন সন্তানকে বড় করার লড়াই শুরু করলেও শরীর সায় দিচ্ছিল না। ছোটবেলা থেকেই দেবলীনা দেখেছেন মায়ের শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা। তিন ভাইবোনের মধ্যে বড় হওয়ায় মাত্র ১১ বছর বয়সেই কাঁধে তুলে নিতে হয় সংসারের গুরুভার।

অভিনেত্রী বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর সব বদলে যায়। আমার মা দীর্ঘদিন ধরে স্কিৎজ়োফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। যখনই এই অসুস্থতা বাড়ত, ছোট্ট আমিই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতাম। পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না বলে পরিস্থিতি আমাকে একা হাতেই সব শিখিয়ে দিয়েছে।’
মায়ের অসুস্থতার ধরন নিয়ে বলতে গিয়ে দেবলীনা জানান, তার মা দিনে অন্তত ১৮ থেকে ১৯টি ওষুধ খান।

অভিনেত্রী বলেন,‘স্কিৎজোফ্রেনিয়া মানে এক ধরনের বিভ্রম। রোগী মনে করেন কেউ তার সাথে কথা বলছেন, যা অন্য কেউ দেখতে পায় না। শুরুতে মা ওষুধ খেতে চাইতেন না। তাই বাধ্য হয়ে খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে তাকে খাওয়াতে হতো। একজন কিশোরীর জন্য সেই সময়টা ছিল অত্যন্ত কঠিন।’

নিজের শৈশব হারিয়ে ফেলার আক্ষেপ থাকলেও পরিণত হওয়ার শিক্ষাকেই বড় করে দেখছেন দেবলীনা। তার কথায়, ‘যখন পাশে কেউ থাকে না, তখন আপনাকে নিজেকেই বড় হতে হয়। পরিস্থিতির চাপে খুব অল্প বয়সেই আপনি বুদ্ধিমান ও পরিণত হয়ে যান।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow