‘আমরা রাস্তা চাই না, জমি না থাকলে না খেয়ে মরতে হবে’
তিন ফসলি জমির ওপরই জীবন-জীবিকা নির্ভর করে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের কৃষকদের। হঠাৎ করেই সরিষার চাষ করা কৃষিজমি কেটে পাকা রাস্তা নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ক্ষুব্ধ কৃষকরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও ভেকু মেশিন দিয়ে জমি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেসার্স শিকদার কনস্ট্রাকশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালেও ভেকু মেশিন দিয়ে জমি কাটা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী কৃষকরা জানিয়েছেন। জানা যায়, জামতৈল-তামাই আরএইচডি থেকে আদাচাকি ভায়া কাজিপুরা জামে মসজিদ রোড উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শ্যামপুর মৌজার মধ্য দিয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই অঞ্চলে সরকারি কোনো খাস জায়গা বা হালট নেই। প্রায় ৩০ জন কৃষকের জমি কেটে সেখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কোনো প্রকার অধিগ্রহণ বা ক্ষতিপূরণ, এমনকি ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই ঠিকাদার গায়ের জোরেই ফসলি জমির ওপর দিয়ে ভেকু মেশিন চালিয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ১৩ জমির মালিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভ
তিন ফসলি জমির ওপরই জীবন-জীবিকা নির্ভর করে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের কৃষকদের। হঠাৎ করেই সরিষার চাষ করা কৃষিজমি কেটে পাকা রাস্তা নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ক্ষুব্ধ কৃষকরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও ভেকু মেশিন দিয়ে জমি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেসার্স শিকদার কনস্ট্রাকশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালেও ভেকু মেশিন দিয়ে জমি কাটা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী কৃষকরা জানিয়েছেন।
জানা যায়, জামতৈল-তামাই আরএইচডি থেকে আদাচাকি ভায়া কাজিপুরা জামে মসজিদ রোড উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শ্যামপুর মৌজার মধ্য দিয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই অঞ্চলে সরকারি কোনো খাস জায়গা বা হালট নেই। প্রায় ৩০ জন কৃষকের জমি কেটে সেখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কোনো প্রকার অধিগ্রহণ বা ক্ষতিপূরণ, এমনকি ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই ঠিকাদার গায়ের জোরেই ফসলি জমির ওপর দিয়ে ভেকু মেশিন চালিয়ে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ১৩ জমির মালিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত দিয়েছেন। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিকদার কনস্ট্রাকশন সেগুলোর তোয়াক্কা করছেন না। অভিযোগ দেওয়ার পরেও রাস্তা নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার। এদিকে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে ভেকু মেশিন পোড়ানোর মামলা দিয়ে ঘরছাড়া করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী কৃষকের মেয়ে মৌসুমী খাতুন, আমাদের কোনো কাগজপত্র না দেখিয়ে জোর-জবরদস্তি জমি নিচ্ছে। আমরা বাধা দেওয়ার কারণে ঠিকাদার আশরাফুল আমাদের হুমকি-ধামকি দেন। আমাদের বাড়ির পুরুষরা পলাতক। এখানে মাটি কাটার জন্য আগেও একটি ভেকু মেশিন এসেছিল। সেই ভেকু মেশিন কে বা কারা পুড়ে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভেকু পোড়ানোর মামলা দেওয়া হয় জমির মালিকদের বিরুদ্ধে। আমাদের সরিষা ক্ষেত কেটে দখল করে নিয়েছে। এখানকার জমির মালিকরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমাদের দাবি, আমরা অভিযোগ দিয়েছি, সেটা তদন্ত করার আগ পর্যন্ত আপাতত কাজ বন্ধ করে দেওয়া হোক।
আব্দুল খালেক নামে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক বলেন, জোর করে আমাদের জমিতে ভেকু মেশিন নামিয়ে ফসলসহ কেটে ফেলা হচ্ছে। আমাদের তিন ফসলি জমি, আমাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয় নাই। আমাদেরকে ডাকেও নাই। আমরা এত ক্ষতি করে রাস্তা চাই না।
স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, আমাদের কেউ চাকরি করে না, ব্যবসা-বাণিজ্যও করে না। আমাদের এই জমির ওপরই ভরসা। আমরা রাস্তা চাই না, জমি না থাকলে না খেয়ে মরতে হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মেসার্স সিকদার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আশরাফুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর চাহিদা মেনেই কাজ হচ্ছে। তারা স্কিম দিয়েছে, আমরা সেটা বাস্তবায়ন করছি। তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে অনুমতি না নিয়ে কাজ করা যাবে না-এমন বিষয়ে তিনি জানেন না বলে জানান।
সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান বলেন, ব্যক্তিগত জায়গায় রাস্তা করার কোনো বিধান নেই। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা ইঞ্জিনিয়ারকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান বলেন, জামতৈল-তামাই আরএইচডি থেকে আদাচাকি ভায়া কাজিপুরা জামে মসজিদ রোড উন্নয়নের কাজ চলছে। জোরপূর্বক ব্যক্তিগত রাস্তার ওপর দিয়ে রাস্তা করার কোনো সুযোগ নাই। আমি এ অভিযোগ শুনেছি। সেখানে যদি সরকারি জায়গা না থাকে আর যদি এলাকার লোক বাধা দেয় তাহলে আমরা সেখানে রাস্তা করব না।
তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতেই এই রাস্তাটা বরাদ্দ হয়েছে। যেহেতু ভূমি অধিগ্রহণের অপশন নেই সেক্ষেত্রে এলাকার লোকজন নিয়ে বসে সমঝোতার ভিত্তিতে রাস্তার কাজ করব।
এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপাশা হোসাইন বলেন, বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
What's Your Reaction?