‘আমার ছেলেও গেল, আমরাও শেষ হয়ে গেলাম’

অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় মাফিয়াদের নির্যাতনে ইকবাল হোসেন মাদবর (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি মাদারীপুরের শিবচর ‍উপজেলার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে মাতম চলছে। নিহত ইকবাল হোসেন শিবচর উপজেলার দক্ষিণ বহেরাতলা ইউনিয়নের সরকারেরচর গ্রামের মোতালেব মাদবরের ছেলে। স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েকমাস আগে শিবচরের বাঁশকান্দি ইউনিয়নের ছলেনামা গ্রামের মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য সাগর মাদবর ও কামরুল মাদবরের প্রলোভনে পড়েন ইকবাল। এরপর চুক্তি অনুযায়ী ২০ লাখ টাকা দালালের হাতে তুলে দেয় তার পরিবার। টাকা দেওয়ার পর কয়েক মাস আগে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করেন ইকবাল। আরও পড়ুন ৬০ লাখ টাকা দিয়েও মুক্তি মেলেনি সোহাগের, লিবিয়ায় গুলি করে হত্যা বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরে লিবিয়ায় পৌঁছান। সেখানে তাকে বন্দি করে নির্যাতন চালায় দালালচক্র। চাওয়া হয় মুক্তিপণের ১২ লাখ টাকা। ধারদেনা করে মাফিয়াদের আরও আট লাখ টাকা দেয় পরিবার। তবে চাহিদামতো বাকি চার লাখ টাকা না দেওয়ায় ইকবালের ওপর শুরু হয় অমানসিক নির্যাতন। নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বিনা চিকিৎসায়

‘আমার ছেলেও গেল, আমরাও শেষ হয়ে গেলাম’

অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় মাফিয়াদের নির্যাতনে ইকবাল হোসেন মাদবর (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি মাদারীপুরের শিবচর ‍উপজেলার বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে মাতম চলছে।

নিহত ইকবাল হোসেন শিবচর উপজেলার দক্ষিণ বহেরাতলা ইউনিয়নের সরকারেরচর গ্রামের মোতালেব মাদবরের ছেলে।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েকমাস আগে শিবচরের বাঁশকান্দি ইউনিয়নের ছলেনামা গ্রামের মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য সাগর মাদবর ও কামরুল মাদবরের প্রলোভনে পড়েন ইকবাল। এরপর চুক্তি অনুযায়ী ২০ লাখ টাকা দালালের হাতে তুলে দেয় তার পরিবার। টাকা দেওয়ার পর কয়েক মাস আগে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করেন ইকবাল।

বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরে লিবিয়ায় পৌঁছান। সেখানে তাকে বন্দি করে নির্যাতন চালায় দালালচক্র। চাওয়া হয় মুক্তিপণের ১২ লাখ টাকা। ধারদেনা করে মাফিয়াদের আরও আট লাখ টাকা দেয় পরিবার।

‘আমার ছেলেও গেল, আমরাও শেষ হয়ে গেলাম’

তবে চাহিদামতো বাকি চার লাখ টাকা না দেওয়ায় ইকবালের ওপর শুরু হয় অমানসিক নির্যাতন। নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যান। বৃহস্পতিবার দালালদের মাধ্যমেই ইকবালের মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।

নিহতের বাবা মোতালেব মাদবর বলেন, ‌‘এভাবে আমার ছেলেকে হারাতে হবে, কোনোদিন ভাবিনি। জমি বিক্রি করে, ঋণ করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। এখন আমার ছেলেও গেল, আমরাও শেষ হয়ে গেলাম। ছেলে হারানোর শোক আমরা কীভাবে মেনে নেবো?’

ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িত দালাল সাগর মাদবর ও কামরুল মাদবরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

‘আমার ছেলেও গেল, আমরাও শেষ হয়ে গেলাম’

নিহতের খবর জানাজানি হলে দালালরা গাঢাকা দেন। এজন্য তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এসআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow