‘আমার বাবা কোথায়, সে আসছে না কেন?’
আজ বিশ্ব বাবা দিবস। যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র বাবার প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার আলোড়নে মুখর, ঠিক তখনই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার এক নিষ্পাপ শিশুর চোখে শুধুই শূন্যতা আর অন্তহীন অপেক্ষা। মাত্র ক’দিন আগে, গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে ঘাতকের নির্মম বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে চিরতরে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন তার বাবা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ। নিহত মাসুদের এই অবুঝ শিশুটির নাম ইনারা জাহান চৌধুরী, বয়স মাত্র চার বছর। মাসুদের ছোট ভাই মঈন চৌধুরী জানান, আগামী জানুয়ারি মাসে ইনারাকে স্কুলে ভর্তি করানোর কথা ছিল বাবার। কিন্তু ভর্তির আগেই বাড়ির অন্যান্য স্কুলপড়ুয়া শিশুদের দেখে ইনারা সবসময় বই-খাতা ও স্কুল ব্যাগ নিয়ে মেতে থাকে। আজকের এই বিশেষ দিনে ছোট্ট শিশুটির কাছে বাবা দিবস মানে আর কোনো আনন্দ নয়, কোনো উপহার নয়, কোনো হাসি নয়। সে হয়তো এখনো পুরোপুরি বোঝে না ‘মৃত্যু’ কী, কিন্তু প্রতিদিন সে খুঁজছে সেই মানুষটিকে- যার কাঁধে চড়ে সে পৃথিবী দেখত, যার বুকে মাথা রেখে নিরাপদ ঘুম দিত, আর যার হাত ধরে হাঁটতে শিখেছিল। নিহত মাসুদের বড় ভাই সা
আজ বিশ্ব বাবা দিবস। যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র বাবার প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার আলোড়নে মুখর, ঠিক তখনই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার এক নিষ্পাপ শিশুর চোখে শুধুই শূন্যতা আর অন্তহীন অপেক্ষা। মাত্র ক’দিন আগে, গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে ঘাতকের নির্মম বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে চিরতরে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন তার বাবা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ।
নিহত মাসুদের এই অবুঝ শিশুটির নাম ইনারা জাহান চৌধুরী, বয়স মাত্র চার বছর।
মাসুদের ছোট ভাই মঈন চৌধুরী জানান, আগামী জানুয়ারি মাসে ইনারাকে স্কুলে ভর্তি করানোর কথা ছিল বাবার। কিন্তু ভর্তির আগেই বাড়ির অন্যান্য স্কুলপড়ুয়া শিশুদের দেখে ইনারা সবসময় বই-খাতা ও স্কুল ব্যাগ নিয়ে মেতে থাকে।
আজকের এই বিশেষ দিনে ছোট্ট শিশুটির কাছে বাবা দিবস মানে আর কোনো আনন্দ নয়, কোনো উপহার নয়, কোনো হাসি নয়। সে হয়তো এখনো পুরোপুরি বোঝে না ‘মৃত্যু’ কী, কিন্তু প্রতিদিন সে খুঁজছে সেই মানুষটিকে- যার কাঁধে চড়ে সে পৃথিবী দেখত, যার বুকে মাথা রেখে নিরাপদ ঘুম দিত, আর যার হাত ধরে হাঁটতে শিখেছিল।
নিহত মাসুদের বড় ভাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন ও মেজো ভাই নিজামুল হক তপন জানান, সম্প্রতি মাসুদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় একটি মেজবান (জিয়াফত) আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মাসুদের ছবি সংবলিত অসংখ্য ব্যানার লাগানো হয়। চারিদিকে বাবার এতো এতো ছবি দেখে অবুঝ মেয়েটি বারবার উপস্থিত সবার কাছে প্রশ্ন করতে থাকে- ‘আমার বাবা কোথায়? বাবা আসছে না কেন?’ হয়তো অবুঝ মনে সে কিছুটা আঁচ করতে পেরেছে যে কিছু একটা ওলটপালট হয়ে গেছে, তাই বাবাকে পাওয়ার জন্য তার মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। বাবার জন্য মেয়ের এমন উতলা হয়ে খোঁজার দৃশ্য দেখে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি; পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিক ব্যানারগুলো সড়িয়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে শিশুটিকে সাময়িকভাবে তার নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
গত শনিবার দুপুরে মাসুদের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে এবং তার কবর জিয়ারত করতে আসেন রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। এ সময় স্বজনরা সাংসদকে মাসুদের ছোট্ট মেয়ের এই আকুলতার কথা জানান। পরে সাংসদ ভিডিও কলের মাধ্যমে নানার বাড়ির টেবিল বসে খেলাচ্ছলে থাকা ইনারার সঙ্গে কথা বলেন এবং তার খোঁজখবর নেন। একইসঙ্গে পরবর্তীতে সশরীরে তার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছের কথা ব্যক্ত করেন সাংসদ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।
এর আগে গত ১৪ জুন (রোববার) দুপুরে যখন মাসুদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়, তখন সেখানে নেমেছিল মানুষের ঢল। কিন্তু সব ভিড় আর কান্নার রোলকে ছাপিয়ে গিয়েছিল এক মর্মস্পর্শী দৃশ্য। কাঁধে স্কুল ব্যাগ নিয়ে ছোট্ট মেয়েটি বাড়ির আঙিনাময় ছুটে বেড়াচ্ছিল। সে বারবার চারদিকে তাকাচ্ছিল এই বিশ্বাসে- বাবা একটু পরেই ফিরে এসে আগের মতো তাকে কোলে তুলে নেবেন। সে জানত না, তার প্রিয় বাবা আর কোনোদিন ফিরবেন না। উপস্থিত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী কেউই এই দৃশ্য দেখে অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে একদল দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা মাসুদ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আসা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১১ জনকে আসামি করে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বড় ভাই সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন। ঘটনার পর থেকেই জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক অভিযান চালিয়ে আসছে বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
What's Your Reaction?