আমি তো রাজনীতি করতেই চাইনি: দেব

পর্দার হিরো বনাম রাজনীতির ময়দান,  গত কয়েক মাস ধরে টালিউড সুপারস্টার দেবকে নিয়ে নেটিজেনদের চর্চা ছিল তুঙ্গে। প্রশ্ন ওঠে টালিপাড়ার ‘খোকাবাবু’ কি তবে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে পা বাড়াচ্ছেন? ভারতের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই এক প্রশ্নেই তোলপাড় ছিল ওপার বাংলার রাজনৈতিক মহল। অবশেষে ভোটের আবহ মিটতেই সেই ‘মহা-সাসপেন্স’ নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন সুপারস্টার দেব। ভক্তদের সামনে খোলাসা করলেন পুরো বিষয়টি।  ভারতীয় গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে দেব বলেন, ‘এ সব কথা কারা ছড়ায়? মনে হয়, দেব এই ধরনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী? রাজনীতি না করলে জীবনধারণ করতে পারব না, এ রকম অবস্থা তো আমার হয়নি! আমি তো রাজনীতি করতেই চাইনি। দিদি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে রাজনীতিতে এসেছি। ফলে, রাজনীতি না করলে আমার দিন চলবে না, এ রকম যারা ভাবছেন, তারা ভুল’। এরপর টালিউড ব্যান সংস্কৃতি নিয়ে অভিনেতা আরও বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে আর কেউ কাউকে ‘ব্যান’ করতে পারবে না। প্রযোজকদের উপরে নিয়মের বোঝা চাপাতে পারবে না। সুষ্ঠুভাবে কাজ হবে। কাজের পরিমাণ বাড়বে। বাইরে থেকেও কাজ আসবে। যদি না তৃণমূল কংগ্রেসের করা ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। ইন্ডাস্ট্রিকে বুঝে তার

আমি তো রাজনীতি করতেই চাইনি: দেব
পর্দার হিরো বনাম রাজনীতির ময়দান,  গত কয়েক মাস ধরে টালিউড সুপারস্টার দেবকে নিয়ে নেটিজেনদের চর্চা ছিল তুঙ্গে। প্রশ্ন ওঠে টালিপাড়ার ‘খোকাবাবু’ কি তবে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে পা বাড়াচ্ছেন? ভারতের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই এক প্রশ্নেই তোলপাড় ছিল ওপার বাংলার রাজনৈতিক মহল। অবশেষে ভোটের আবহ মিটতেই সেই ‘মহা-সাসপেন্স’ নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন সুপারস্টার দেব। ভক্তদের সামনে খোলাসা করলেন পুরো বিষয়টি।  ভারতীয় গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে দেব বলেন, ‘এ সব কথা কারা ছড়ায়? মনে হয়, দেব এই ধরনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী? রাজনীতি না করলে জীবনধারণ করতে পারব না, এ রকম অবস্থা তো আমার হয়নি! আমি তো রাজনীতি করতেই চাইনি। দিদি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে রাজনীতিতে এসেছি। ফলে, রাজনীতি না করলে আমার দিন চলবে না, এ রকম যারা ভাবছেন, তারা ভুল’। এরপর টালিউড ব্যান সংস্কৃতি নিয়ে অভিনেতা আরও বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে আর কেউ কাউকে ‘ব্যান’ করতে পারবে না। প্রযোজকদের উপরে নিয়মের বোঝা চাপাতে পারবে না। সুষ্ঠুভাবে কাজ হবে। কাজের পরিমাণ বাড়বে। বাইরে থেকেও কাজ আসবে। যদি না তৃণমূল কংগ্রেসের করা ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। ইন্ডাস্ট্রিকে বুঝে তার পাশে দাঁড়ালে বেঁচে যাবে বাংলা সিনেমার দুনিয়া।‘ পরবর্তী ফেডারেশন সভাপতি কি তবে দেব? সঞ্চালকের এমন প্রশ্ন শুনে ফের লম্বা শ্বাস নিলেন অভিনেতা । তারপর বললেন, ‘আর রাজনীতিতে বেশি জড়াতে চাই না। আগের মতো মন দিয়ে অভিনয়টাই করতে চাই। এটাই বরাবর করে এসেছি।‘  তার কথায়, ‘বরাবর ইন্ডাস্ট্রির মঙ্গল চেয়েছি। ইন্ডাস্ট্রির মঙ্গল করার চেষ্টা করেছি। নির্বাচনের অনেক আগে থেকে আমার লড়াই শুরু। ভাল লাগছে, সেই লড়াই অবশেষে সফল হল। যিনি বা যারা ইন্ডাস্ট্রির ভাল চাইবেন, নেপথ্যে থেকে আমি সব সময়ে তাদের পাশে।‘ এদিকে এ বছর ভারতের বিধানসভা নির্বাচন যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা আগে থেকেই বুঝেছিল ভারতবাসী। আর বুঝেছিলেন রাজনৈতিক প্রার্থীরাও। তাই অসুস্থতা নিয়েও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দলের হয়ে প্রচার করে গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ-অভিনেতা দেব। নির্বাচনের ফলাফলের দিন আচমকা ছন্দপতন এবং প্রিয় পোষ্যের মৃত্যু। একই সঙ্গে দলের পরাজয়। একের পর এক ধাক্কা সামলে কেমন আছেন এখন দেব? এই প্রশ্নের উত্তরে দেব বলেন, ‘লাকির মৃত্যু আচমকা। সকালে কাজে বেরোনোর সময়েও সুস্থ দেখেছিলাম। রাতে এসে শুনলাম, সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। হঠাৎ চলে গেল। খুব ধাক্কা খেয়েছিলাম। এই যন্ত্রণা বলে বোঝানোর নয়। যাঁরা পোষ্যপ্রেমী, কেবল তারাই বুঝবেন আমার কষ্ট।‘ দেব ভাবতে পারেননি, তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হবে। তবে আপাতত দুই ধাক্কা কিছুটা হলেও সামলে উঠেছেন। এ বিষয়ে অভিনেতা বলেন, ‘দেখুন, অনেক কিছু মেনে নিতে হয়, মানিয়ে নিতে হয়। আমিও সেটাই করছি’। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ডাকে ২০১৪ সালে তৃণমূলের টিকিট নিয়ে ঘাটাল আসন থেকে লোকসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন দেব। এরপর ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে একই আসন থেকে তৃণমূলের টিকিট নিয়ে সংসদ সদস্য ফের নির্বাচিত হন দেব। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের শুরু থেকে প্রচারের কাজে ব্যস্ত সময় পার করেছেন এই তারকা। যদিও তার দলের শেষ রক্ষা হয়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow