আমির খানের স্ত্রীকে ঘিরে যে বিষয়টি এখন সবার আলোচনায়

বলিউড সুপারস্টার আমির খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ সব সময়ই থাকে। সম্প্রতি গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে তার বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে নববধূর জন্য তৈরি বিশেষ বিয়ের আংটি। এটি শুধু একটি আংটি নয়, বরং বিরল রত্ন, নিখুঁত কারুকাজ এবং ঐতিহ্যের মিশেলে তৈরি এক অনন্য সৃষ্টি। লাক্সারি জুয়েলারি ব্র্যান্ড ‘কুইন’ এই আংটিটি তৈরি করেছে। এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো মাঝখানে বসানো একটি বিরল প্রাকৃতিক রুবি, যা আনা হয়েছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কার থেকে। এই রুবি এতটাই বিরল যে, বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এমন মানের একটি রুবি পাওয়া যায় প্রায় মিলিয়নে একটি। জুয়েলারি বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু এই রুবিটি সংগ্রহ করতেই তিন মাসের বেশি সময় লেগেছে। এরপর শুরু হয় আংটি তৈরির কাজ। অবাক করার বিষয় হলো, পুরো আংটি তৈরিতে কোনো আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। ১৩১ জন দক্ষ কারিগর হাতে তৈরি করেছেন এই বিশেষ গয়না। নকশা, সোনার কাজ, রুবি ও হীরা বসানো থেকে শুরু করে শেষ ফিনিশিংসহ আংটি তৈরি করতে ২৫৬ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। ডিজাইনারদের লক্ষ্য ছিল শুধু একটি বিয়ের আংটি বানানো নয়। তারা এমন একটি গয়না তৈরি করতে চেয়েছেন, যা ভ

আমির খানের স্ত্রীকে ঘিরে যে বিষয়টি এখন সবার আলোচনায়

বলিউড সুপারস্টার আমির খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ সব সময়ই থাকে। সম্প্রতি গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে তার বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে নববধূর জন্য তৈরি বিশেষ বিয়ের আংটি। এটি শুধু একটি আংটি নয়, বরং বিরল রত্ন, নিখুঁত কারুকাজ এবং ঐতিহ্যের মিশেলে তৈরি এক অনন্য সৃষ্টি।

লাক্সারি জুয়েলারি ব্র্যান্ড ‘কুইন’ এই আংটিটি তৈরি করেছে। এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো মাঝখানে বসানো একটি বিরল প্রাকৃতিক রুবি, যা আনা হয়েছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কার থেকে। এই রুবি এতটাই বিরল যে, বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এমন মানের একটি রুবি পাওয়া যায় প্রায় মিলিয়নে একটি।

jago

জুয়েলারি বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু এই রুবিটি সংগ্রহ করতেই তিন মাসের বেশি সময় লেগেছে। এরপর শুরু হয় আংটি তৈরির কাজ। অবাক করার বিষয় হলো, পুরো আংটি তৈরিতে কোনো আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। ১৩১ জন দক্ষ কারিগর হাতে তৈরি করেছেন এই বিশেষ গয়না। নকশা, সোনার কাজ, রুবি ও হীরা বসানো থেকে শুরু করে শেষ ফিনিশিংসহ আংটি তৈরি করতে ২৫৬ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে।

jago

ডিজাইনারদের লক্ষ্য ছিল শুধু একটি বিয়ের আংটি বানানো নয়। তারা এমন একটি গয়না তৈরি করতে চেয়েছেন, যা ভবিষ্যতে পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংরক্ষিত থাকবে।

আংটির নকশাতেও রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। সাধারণ আংটির মতো রুবিটি ব্যান্ডের ওপর বসানো হয়নি। বরং সোনার তৈরি মুকুটের মতো একটি বিশেষ কাঠামোর মধ্যে এটি স্থাপন করা হয়েছে। এই নকশা রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী অলংকার থেকে অনুপ্রাণিত।

রুবিটিকে দেওয়া হয়েছে ক্যাবোশন কাট, যেখানে পাথরের ওপর কোনো খাঁজকাটা দিক থাকে না। মসৃণ ও গম্বুজাকৃতির পালিশের কারণে রুবির গাঢ় লাল রং আরও উজ্জ্বলভাবে ফুটে ওঠে। আলো পড়লে এটি দারুণ ঝলমলে দেখায়।

jago

রুবিটিকে ধরে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে সূক্ষ্ম সোনার গ্যালারি, যা দেখতে অনেকটা মুকুটের মতো। এর চারপাশে বসানো হয়েছে ৪০টি প্রাকৃতিক হীরা। ফলে পুরো আংটিটি রাজকীয় সৌন্দর্য পেয়েছে।

গয়না বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ধরনের নকশা সাধারণ বিয়ের আংটিতে খুব একটা দেখা যায় না। বরং এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি কেবল একটি অলংকার না থেকে পরিবারের মূল্যবান উত্তরাধিকার হয়ে উঠতে পারে।

আংটির দাম নিয়ে অবশ্য কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিরল রুবি, প্রাকৃতিক হীরা, সম্পূর্ণ হস্তনির্মিত কারুকাজ এবং শতাধিক কারিগরের শ্রম বিবেচনায় অনেকেই মনে করছেন, এর মূল্য অর্থ দিয়ে নির্ধারণ করা কঠিন।

আমির খান গৌরী স্প্র্যাটকে যে আংটিটি উপহার দিয়েছেন, সেটি শুধু ভালোবাসার প্রতীক নয়; বরং বিরল রত্ন, শিল্পসৌন্দর্য এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন, যা ভবিষ্যতেও বিশেষ স্মারক হয়ে থাকবে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow