আম্পায়ার সৈকত কি পারবেন বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনা করতে?

ক্রিকেটে বাংলাদেশ এবং ভারত এখন একটা মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেছে। মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা এনে বিসিসিআই, কেকেআর এবং ভারত সরকার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, এ দেশের জনগন এবং বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বসেছে। এতে করে বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শে বিসিবি তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে আইসিসির কাছে চিঠিও পাঠিয়ে দিয়েছে। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসির সিদ্ধান্ত কী- তা জানতে উৎস্যুক পুরো দেশের মানুষ। এ অবস্থায় আইসিসি কী জানাবে তা সময়েই বলে দেবে। তবে, শোনা যাচ্ছে আইসিসি বাংলাদেশকে তিনটি অপশন দিতে পারে। ১. সর্বোচ্চ নিরাপত্তা তথা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে ভারতে খেলার প্রস্তাব। সেক্ষেত্রে আইসিসি নিজেই নিরাপত্তা খুঁটিয়ে দেখবে। এ বিষয়ে তাদের এবং বাংলাদেশ সরকারের সবুজ সঙ্কেতের ওপর নির্ভর করতে টাইগারদের ভারতে গিয়ে খেলা। ২. বাংলাদেশের দাবি মেনে নিয়ে শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু স্থানান্তর। ৩. খেলতে না গিয়ে ওয়াকওভার দিয়ে দেওয়া। শেষ পর্যন্ত কি ঘটে বলা যাচ্ছ না। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে বারবার বলা হচ্ছে, তারা তাদের দাবিতে অনড়। তা

আম্পায়ার সৈকত কি পারবেন বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনা করতে?

ক্রিকেটে বাংলাদেশ এবং ভারত এখন একটা মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেছে। মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা এনে বিসিসিআই, কেকেআর এবং ভারত সরকার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, এ দেশের জনগন এবং বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বসেছে। এতে করে বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শে বিসিবি তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে আইসিসির কাছে চিঠিও পাঠিয়ে দিয়েছে।

ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসির সিদ্ধান্ত কী- তা জানতে উৎস্যুক পুরো দেশের মানুষ। এ অবস্থায় আইসিসি কী জানাবে তা সময়েই বলে দেবে। তবে, শোনা যাচ্ছে আইসিসি বাংলাদেশকে তিনটি অপশন দিতে পারে।

১. সর্বোচ্চ নিরাপত্তা তথা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে ভারতে খেলার প্রস্তাব। সেক্ষেত্রে আইসিসি নিজেই নিরাপত্তা খুঁটিয়ে দেখবে। এ বিষয়ে তাদের এবং বাংলাদেশ সরকারের সবুজ সঙ্কেতের ওপর নির্ভর করতে টাইগারদের ভারতে গিয়ে খেলা।
২. বাংলাদেশের দাবি মেনে নিয়ে শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু স্থানান্তর।
৩. খেলতে না গিয়ে ওয়াকওভার দিয়ে দেওয়া।

শেষ পর্যন্ত কি ঘটে বলা যাচ্ছ না। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে বারবার বলা হচ্ছে, তারা তাদের দাবিতে অনড়। তারা ভারতে গিয়ে খেলতে চায় না, শ্রীলঙ্কার মাটিতে গিয়ে খেলতে চায়।

ওদিকে নতুন সমস্যার উদ্ভব ঘটেছে। দেশের সেরা এবং আইসিসির এলিট প্যানেলে একমাত্র বাংলাদেশি আম্পায়ার সরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত খুব স্বাভাবিক ভাবেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বেশ কিছু ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন। যার বেশিরভাগ ম্যাচই ভারতের মাটিতে।

এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, যেখানে মোস্তাফিজকে ধর্মকে পুঁজি করে উগ্রবাদীদের চাপ ও হুমকির মুখে আইপিএল খেলা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ জাতীয় দল ভারতের মাটিতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকৃতি হজানিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশেরই আম্পায়ার শরফুদদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত বিশ্বকাপের খেলা পরিচালনা করতে ভারতের মাটিতে কিভাবে যাবেন? ভারতই কি তাকে সহজভাবে নেবে? দেশটির উগ্র ধর্মান্ধগোষ্ঠীগুলো কি তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে না? তার নিরাপত্তা কী? এবং সৈকত সম্পূর্ণ নিরাপদে ভারতের মাটিতে ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন- এ নিশ্চয়তাই বা কে দেবে?

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারও কি আদৌ সৈকতকে ভারতের মাটিতে গিয়ে খেলা পরিচালনা করতে অনুমতি দেবে? এমন অনেকগুলো জটিল প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে।

এ ব্যাপারে বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু জাগো নিউজকে আজ বলেছেন, ‘ব্যাপারটা জটিল। যেহেতু সৈকত আইসিসির এলিট প্যানেলভুক্ত আম্পায়ার। এ ক্ষেত্রে আইসিসির ভাষ্য এবং তাদের ইচ্ছাটা অগ্রগণ্য। এখন আইসিসি যদি চায় এবং বলে যে নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমাদের, তখন সৈকতকে তারা ম্যাচ পরিচালনার জন্য চাপ দেবে। আইসিসির সেই চাপ সৈকত সহ্য করতে পারবে কি না, বিসিবি বা বাংলাদেশ সরকার তাকে কি বলবে, সেটাও খুঁটিয়ে দেখার বিষয়।’

তবে মিঠু এটাও জানিয়েছেন, সৈকত যদি শেষ পর্যন্ত নির্দেশনা না মানেন, তাহলে আইসিসি তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করলেও একটা শাস্তির খড়গ নেমে আসতে পারে। শেষ পর্যন্ত কী হবে সেটাই দেখার বিষয়!

এআরবি/আইএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow