যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতির ধাক্কায় বিকল্প বাজার খুঁজতে শুরু করেছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, পরে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে সেই হার দ্বিগুণ করেন। গত বুধবার (২৭ আগস্ট) থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। খবর গালফ নিউজের।
ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ীরা দ্রুত নতুন সুযোগের খোঁজে নেমেছেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) সম্ভাব্য বিকল্প বাজার হিসেবে দেখছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশিটিতে ভারতের তৈরি বিভিন্ন পণ্য, টেক্সটাইল ও ম্যানুফ্যাকচারিং সামগ্রীর চাহিদা থাকায় রপ্তানিকারকদের আশা-এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি কিছুটা পূরণ করতে পারবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হঠাৎ করে মার্কিন বাজার হারানো ভারতের অর্থনীতির জন্য বড় চাপ তৈরি করবে। অন্যদিকে আরব আমিরাত ও অন্যান্য উপসাগরীয় বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য পথ সহজ হবে না।
ব্যবসা স্থাপন এবং সহায়তা পরিষেবা সম্পর্কে পরামর্শদানকারী সংস্থাগুলো বলছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার পর ভারতীয় ব্যবসায়ীদের পরামর্শ নেওয়ার হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক (ইউএই) একটি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বলেন, ট্রাম্প যখন ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, এটা তার কৌশল। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপে ২৫ শতাংশ শুল্ক আসার পরই তারা মনে করতে শুরু করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে চুক্তি হবে না। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রপ্তানিকারক অনেক ভারতীয় ব্যবসায়ী এখন নিজ দেশ থেকে কারখানা সরাতে চাচ্ছেন এবং তারা আমিরাতে যৌথ উদ্যোগ বা বিনিয়োগের কথা ভাবছেন।
আমিরাতেও গহনা শিল্পেও এ ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এখন আরব আমিরাতে গহনার ডিজাইন ও উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপন করতে চাইছে। ভারত থেকে সরাসরি রপ্তানি করলে ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এই শুল্ক এড়াতেই এমন পদক্ষেপের কথা ভাবছেন তারা। ৫০ শতাংশ শুল্ক স্থায়ী হলে ভারতের গহনা রপ্তানিকারকরা বড় ধাক্কা খাবেন। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পৌঁছানোর খরচ এত বাড়বে যে তারা মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারবেন না।
দুবাইভিত্তিক গহনা ব্যবসায়ী আনাইল ধানক এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, মার্কিন শুল্ক সম্পর্কে ধৈর্য ধরতে হবে। দেখা গেছে, ট্রাম্প ক্ষণে ক্ষণে সিদ্ধান্ত পাল্টান। ফলে আগামী এক মাসে শুল্কহারে পরিবর্তন আসবে কি না, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
তিনি বলেন, আমরা যৌথ উদ্যোগের দিকে তাকাচ্ছি না। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমানে স্বর্ণের দাম অনেক বেশি, খরচ মেটাতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে। সে কারণে আমরা কোনো নতুন অঙ্গীকার করতে চাই না।
এদিকে বারজিল জিওজিৎ ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের সিইও কৃষ্ণন রামচন্দ্রন বলেন, ভারতীয় গহনা ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যের উৎপাদন আরব আমিরাতে সরিয়ে নিলে রপ্তানি শুল্ক দিতে হবে মাত্র ১০ শতাংশ। এক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে, উৎপাদন ও মূল্য সংযোজন ভারতের পরিবর্তে আমিরাতেই করতে হবে।
পরামর্শক সংস্থা সোভারিন গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ব্যবসা উন্নয়ন ব্যবস্থাপক অক্সানা সুখার বলেন, ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আরব আমিরাতে ব্যবসা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সব সময়ই আগ্রহ দেখিয়ে আসছে।
- আরও পড়ুন:
- জার্মান সংবাদমাধ্যমে দাবি/‘ট্রাম্প ট্রমায়’ ভুগছেন নরেন্দ্র মোদী
- ট্রাম্পের অপমানে হতবাক ভারত, ‘প্রকৃত বন্ধুত্বে’ ফাটল
- আদানিই কি ট্রাম্প-মোদীর সম্পর্কে ফাটলের কারণ?
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা ভারতীয় কোম্পানিগুলো এখন পুনর্বিবেচনা করছে যে কোথায় উৎপাদন ও রপ্তানি করা সবচেয়ে লাভজনক, বিশেষ করে যদি তাদের মূল বাজার যুক্তরাষ্ট্র হয়। সেক্ষেত্রে আরব আমিরাতই হবে তাদের শক্তিশালী বিকল্প কেন্দ্র।
টিটিএন