আরেকটি রূপকথার জন্ম দিতে পারবে কি দক্ষিণ কোরিয়া?

এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় নিয়মিতই অংশ নেয় বিশ্বকাপে। দেশটি ১২ বারের অংশ নেওয়ার মধ্যে সবচেয়ে সফলতা পায় ২০০২ সালে। সেবার জাপানের সাথে যৌথ আয়োজক ছিল কোরিয়া। ইউরোপের বড় বড় দলকে পেছনে ফেলে কোরিয়া বিশ্বকাপ শেষ করেছিল চারে থেকে। দারুণ এক জয়ে দক্ষিণ কোরিয়া এবারের বিশ্বকাপ শুরুর পর দেশটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু। তাহলে কি এশিয়ার টাইগার্সখ্যাত দলটি আরেকটি রূপকথার জন্ম দিতে পারবে? চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ২-১ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে তারা। মিডফিল্ডার হাওয়াং ইন-বমের এক গোল ও এক অ্যাসিস্টে ভর করে মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে এই রোমাঞ্চকর জয় উৎসব করে মাঠ ছাড়ে এশিয়ান জায়ান্টরা। এই জয় কেবল পূর্ণ ৩ পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং টুর্নামেন্টে দলটির দীর্ঘ পথ চলার সম্ভাবনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের একমাত্র দল হিসেবে তারা টানা ১১ বারসহ মোট ১২ বার বিশ্বমঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলার পর ১৯৮

আরেকটি রূপকথার জন্ম দিতে পারবে কি দক্ষিণ কোরিয়া?

এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় নিয়মিতই অংশ নেয় বিশ্বকাপে। দেশটি ১২ বারের অংশ নেওয়ার মধ্যে সবচেয়ে সফলতা পায় ২০০২ সালে। সেবার জাপানের সাথে যৌথ আয়োজক ছিল কোরিয়া। ইউরোপের বড় বড় দলকে পেছনে ফেলে কোরিয়া বিশ্বকাপ শেষ করেছিল চারে থেকে।

দারুণ এক জয়ে দক্ষিণ কোরিয়া এবারের বিশ্বকাপ শুরুর পর দেশটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু। তাহলে কি এশিয়ার টাইগার্সখ্যাত দলটি আরেকটি রূপকথার জন্ম দিতে পারবে?

চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ২-১ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে তারা। মিডফিল্ডার হাওয়াং ইন-বমের এক গোল ও এক অ্যাসিস্টে ভর করে মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে এই রোমাঞ্চকর জয় উৎসব করে মাঠ ছাড়ে এশিয়ান জায়ান্টরা। এই জয় কেবল পূর্ণ ৩ পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং টুর্নামেন্টে দলটির দীর্ঘ পথ চলার সম্ভাবনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের একমাত্র দল হিসেবে তারা টানা ১১ বারসহ মোট ১২ বার বিশ্বমঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলার পর ১৯৮৬ থেকে আজ অবধি কোনো আসর মিস করেনি তারা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোরিয়ার সবচেয়ে সোনালি অধ্যায় এসেছিল ২০০২ সালে। জাপান ও কোরিয়ার যৌথ আয়োজনের সেই বিশ্বকাপে পর্তুগাল, ইতালি এবং স্পেনের মতো বিশ্বসেরা দলগুলোকে স্তব্ধ করে সেমিফাইনালে উঠেছিল তারা। চতুর্থ স্থানে থেকে সেবার টুর্নামেন্ট শেষ করে তারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়।

এরপর ২০১০ এবং সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছিল সোন হিউং-মিনের দল। ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, এবারো নকআউট পর্বের শক্ত দাবিদার দক্ষিণ কোরিয়া।

দক্ষিণ কোরিয়া খেলছে ‘গ্রুপ এ’-তে, যেখানে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ শক্তিশালী মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। বেশ ভারসাম্য একটি গ্রুপ। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে এই জয়ে গ্রুপ পর্ব পার করার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল কোরিয়া।

দলটিতে অভিজ্ঞ অধিনায়ক সোন হিউং-মিনের পাশাপাশি লি ক্যাং-ইন এবং ওহ হিয়ন-গ্যু-র মতো তরুণ ও প্রতিভাবান তারকাদের দারুণ এক সংমিশ্রণ রয়েছে। প্রথম ম্যাচেই পিছিয়ে পড়েও যেভাবে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে দলের মানসিক শক্তি ও কৌশলগত পরিপক্বতা স্পষ্ট।

মেক্সিকোর চেনা কন্ডিশনে ঘরের মাঠে খেলা মেক্সিকোর বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচটি কঠিন হলেও, বর্তমান ফর্ম ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারলে দক্ষিণ কোরিয়া কেবল নকআউট পর্বই নয়, ২০০২ সালের মতো আরও একটি রূপকথা তৈরি করার সক্ষমতা রাখে। কোরিয়া এবার কতদূর যায়, তা দেখতে মুখিয়ে আছে এশিয়ার দর্শকরা।

আরআই/এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow