আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মিলেমিশে একাকার

মাঠের শত্রুতা মাঠে রেখে, মাঠের বাইরেও যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য বন্ধন গড়ে তোলা সম্ভব, তা-ই প্রমাণ করল স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা। ফুটবল বিশ্বকাপের চিরন্তন বৈরিতা ভুলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের এমন এক নজিরবিহীন ও সম্প্রীতির যৌথ র‍্যালির সাক্ষী হলো বগুড়াবাসী। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কাউন্টডাউন শুরু হতেই ফুটবল আমেজে ভাসছে পুরো দেশ। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্তাদিও অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ৪৮ দেশের এই আসরের।  বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতেই শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জড়ো হন দুই দলের শত শত সমর্থক। এদিন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে যুবকদের মধ্যে এক ভিন্ন সচেতনতাও দেখা যায়। আনন্দ শোভাযাত্রা শুরুর আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা খেলার মাঠের পাশে তিনটি বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর বিকেল সাড়ে চারটা গড়াতেই আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ রূপ নেয় নীল-সাদা আর হলুদ-সবুজের সমুদ্রে। ৬ শতাধিক আর্জেন্টিনা ভক্ত এবং শতাধিক ব্রাজিল ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। ব্যা

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মিলেমিশে একাকার

মাঠের শত্রুতা মাঠে রেখে, মাঠের বাইরেও যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য বন্ধন গড়ে তোলা সম্ভব, তা-ই প্রমাণ করল স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা।

ফুটবল বিশ্বকাপের চিরন্তন বৈরিতা ভুলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের এমন এক নজিরবিহীন ও সম্প্রীতির যৌথ র‍্যালির সাক্ষী হলো বগুড়াবাসী।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কাউন্টডাউন শুরু হতেই ফুটবল আমেজে ভাসছে পুরো দেশ। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্তাদিও অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ৪৮ দেশের এই আসরের। 

বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতেই শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জড়ো হন দুই দলের শত শত সমর্থক।

এদিন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে যুবকদের মধ্যে এক ভিন্ন সচেতনতাও দেখা যায়। আনন্দ শোভাযাত্রা শুরুর আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা খেলার মাঠের পাশে তিনটি বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর বিকেল সাড়ে চারটা গড়াতেই আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ রূপ নেয় নীল-সাদা আর হলুদ-সবুজের সমুদ্রে। ৬ শতাধিক আর্জেন্টিনা ভক্ত এবং শতাধিক ব্রাজিল ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।

ব্যান্ড পার্টি, বাঁশি, হাতে পতাকা, মাথায় ফিতা, রঙিন বেলুন আর ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে শুরু হয় যৌথ আনন্দ শোভাযাত্রা। দুই দলের সমর্থকরা একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেচে-গেয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন। র‍্যালিটি বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় পৌঁছলে এক চমৎকার দৃশ্যের অবতারণা হয়। 

সেখানে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের পক্ষ থেকে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের উদ্দেশে কাওয়ালি গান গেয়ে শোনানো হয়। এরপর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে র‍্যালিটি পুনরায় আলতাফুন্নেছা মাঠে এসে শেষ হয়।

তবে উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্বটি ছিল র‍্যালি শেষে দুই দলের উপহার বিনিময়। সম্প্রীতির নজির টেনে ব্রাজিল সমর্থকরা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হাতে তুলে দেন সৌদি আরবের বিখ্যাত আজওয়া খেজুর। পাল্টা সৌজন্য হিসেবে আর্জেন্টিনার সমর্থকরাও ব্রাজিল সমর্থকদের উপহার দেন সেভেন আপ।

এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের অন্যতম সমন্বয়ক ও আর্জেন্টিনা সমর্থক মাহবুব আলম জিয়নের মতে, খেলার মাঠে প্রতিযোগিতা থাকলেও মাঠের বাইরে সবার সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক বজায় রাখাই এই যৌথ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। 

এদিকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মারামারির সংস্কৃতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই যৌথ আয়োজনকে মধুর র‍্যালি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ব্রাজিল সমর্থক আখতারুজ্জামান সোহাগ। তিনি বলেন, দল যার যারই হোক, তারা সবাই একে অপরের ভাই। তবে ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে তিনি আশাবাদী যে এবার হেক্সা মিশন পূর্ণ হবে এবং নেইমারের হাতেই কাপ উঠবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow