আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে বিতর্ক: কী বলছেন বিশ্লেষকরা?

দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখলো আর্জেন্টিনা। মিশরের বিপক্ষে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যাচে ৩-২ গোলের নাটকীয় এক জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে লিওনেল মেসির দল। ম্যাচ শেষ। ফল হয়ে গেছে। কিন্তু এই ম্যাচ ঘিরে আলোচনা থামেনি। বিতর্কের মূল কারণ ছিল রেফারিং ও ভিএআর-এর কয়েকটি সিদ্ধান্ত। এতে করে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। কেউ পক্ষে মত দিচ্ছেন, কেউবা বিপক্ষে। কিছু সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকের মতে, সিদ্ধান্তগুলো খুব বিতর্কিত হলেও এগুলো ইচ্ছাকৃত পক্ষপাতের প্রমাণ নয়। তাদের মতে, ভিএআর-এর ব্যবহার ও প্রোটোকল নিয়েই বড় প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিশ্লেষক লিখেছেন, এই ম্যাচের পর সামাজিক মাধ্যমে ফিফা আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিয়েছে—এমন অভিযোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই ম্যাচ নিয়ে কে কী বলছেন... ১. মার্ক ক্লেটেনবার্গ (সাবেক ফিফা রেফারি)তিনি বলেন, ভিএআর-এর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো ‘এটাকিং পজেশন ফেজ (এপিপি)’ কত দূর পর্যন্ত ফিরে দেখা য

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে বিতর্ক: কী বলছেন বিশ্লেষকরা?

দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখলো আর্জেন্টিনা। মিশরের বিপক্ষে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যাচে ৩-২ গোলের নাটকীয় এক জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে লিওনেল মেসির দল।

ম্যাচ শেষ। ফল হয়ে গেছে। কিন্তু এই ম্যাচ ঘিরে আলোচনা থামেনি। বিতর্কের মূল কারণ ছিল রেফারিং ও ভিএআর-এর কয়েকটি সিদ্ধান্ত। এতে করে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। কেউ পক্ষে মত দিচ্ছেন, কেউবা বিপক্ষে।

কিছু সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকের মতে, সিদ্ধান্তগুলো খুব বিতর্কিত হলেও এগুলো ইচ্ছাকৃত পক্ষপাতের প্রমাণ নয়। তাদের মতে, ভিএআর-এর ব্যবহার ও প্রোটোকল নিয়েই বড় প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিশ্লেষক লিখেছেন, এই ম্যাচের পর সামাজিক মাধ্যমে ফিফা আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিয়েছে—এমন অভিযোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।

আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই ম্যাচ নিয়ে কে কী বলছেন...

১. মার্ক ক্লেটেনবার্গ (সাবেক ফিফা রেফারি)
তিনি বলেন, ভিএআর-এর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো ‘এটাকিং পজেশন ফেজ (এপিপি)’ কত দূর পর্যন্ত ফিরে দেখা যাবে। তার মতে, মিশরের গোলের আগে যে ফাউল ধরা হয়েছে, সেটি আক্রমণাত্মক মুভেরই অংশ ছিল। তাই আইন অনুযায়ী ভিএআর-এর হস্তক্ষেপ সম্ভব, যদিও এটি অত্যন্ত বিরল এবং দর্শকদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।

২.ডেল জনসন (ইএসপিএনের রেফারিং বিশ্লেষক)
ডেল জনসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিএআর আগের ফাউলটি চিহ্নিত করে। যেহেতু ওই ফাউল থেকে একই আক্রমণ (এপিপি) চলমান ছিল এবং পরে গোল হয়, তাই ভিএআর গোলটি বাতিল করতে পারে। তবে এই ধরনের সিদ্ধান্ত খুব কম দেখা যায় বলেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

৩. নিউইয়র্ক পোস্টের বিশ্লেষণ
তাদের মতে, মিশরের বাতিল হওয়া গোলের আগে ফাউলটি ঘটেছিল প্রায় ২১ সেকেন্ড আগে এবং প্রায় ১০০ গজ দূরে। পরে মিশরের পেনাল্টির আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়। এসব সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতাই ম্যাচটিকে ভিএআর যুগের অন্যতম বিতর্কিত ম্যাচে পরিণত করেছে।

৪. রব গ্রিন (ফক্স স্পোর্টস ধারাভাষ্যকার)
তিনিও ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। ম্যাচ চলাকালীন তিনি বলেন, ‘মাঠের প্রায় ১০০ গজ দূরে একজন খেলোয়াড় আরেকজনের পায়ের আঙুলে পা দিয়েছে—এ ধরনের ঘটনা বিচার করার জন্য ভিএআর আনা হয়নি। এখন ভিএআর তার ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রেফারি ঘটনাটি নিজের চোখে দেখেছিলেন এবং ফাউল দেননি। এরপর মিশর দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে অসাধারণ গোল করলেও, সেই গোল বাতিল করে তাদের দুই গোলের লিড থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’

৫. গ্রাহাম স্কট (সাবেক প্রিমিয়ার লিগ রেফারি)
স্কট তার বিশ্লেষণে বলেছেন, ঘটনাটি ছিল স্বাভাবিক শারীরিক লড়াই এবং এটি কোনোভাবেই এমন ফাউল নয়, যার জন্য ভিএআর হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল। স্কটের মতে, ঘটনাটি গোলের প্রায় ১০০ গজ দূরে ঘটেছিল এবং এরপর আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ নিজেদের সংগঠিত করার যথেষ্ট সময় পেয়েছিল। তাই এটিকে ‘স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল’ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ ছিল না। তিনি আরও বলেন, ‘মিশরের গোল বাতিলের সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। এটি ভিএআরের ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার।’

কারিগরি বিশ্লেষকদের মধ্যে একটি বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য রয়েছে:
* আইন অনুযায়ী গোল বাতিল করার ব্যাখ্যা দেওয়া যায়।
* কিন্তু সিদ্ধান্তটি এতটাই অস্বাভাবিক এবং বিরল ছিল যে এটি স্বাভাবিকভাবেই বড় বিতর্ক তৈরি করেছে।
* এখন পর্যন্ত কোনো স্বীকৃত রেফারি বিশেষজ্ঞ প্রকাশ্যে বলেননি যে রেফারি আইন ভেঙেছেন বা ইচ্ছাকৃতভাবে আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিয়েছেন; বরং বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভিএআর-এর প্রয়োগ ও ব্যাখ্যা।

এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow