আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের বিচার চেয়ে থানায় যুবক
ফুটবল যে কেবল খেলা নয়, বরং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন সেটিরই এক অভিনব উদাহরণ দেখা গেল নোয়াখালীর এক যুবকের কাছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ম্যাচে রেফারিংয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে তিনি সরাসরি হাজির হন স্থানীয় থানায়। উদ্দেশ্য একটাই— ফিফার সভাপতি এবং ম্যাচের রেফারির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা। এমনকি ফিফার থানায় উপস্থিত হয়ে ওই যুবক অভিযোগ করেন, ম্যাচের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে। তার ভাষায়, মিশরের সঙ্গে অবিচার হয়েছে, এর বিচার চাই। অভিযোগকারী মো. রাকিব (২২) নোয়াখালী সদর উপজেলার মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার (৮ জুলাই) রাতে তিনি সুধারাম মডেল থানায় অভিযোগ নিয়ে হাজির হন। তবে বিষয়টি স্থানীয় থানার আইনগত এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করেনি। অভিযোগপত্র হাতে পেয়ে প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হয়ে পড়েন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। স্থানীয় বিরোধ, জমিজমা কিংবা মোবাইল চুরির অভিযোগ নিতে অভ্যস্ত থানার কর্মকর্তাদের সামনে এবার হাজির হলো বিশ্বকাপের রেফারিং বিতর্ক! রাকিবের দাবি অনুযায়ী, ম্যাচের মাত্র ১৪তম মিনিটে মিশর একটি দর্শনীয় গোল করে এগিয়ে যাওয়ার
ফুটবল যে কেবল খেলা নয়, বরং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন সেটিরই এক অভিনব উদাহরণ দেখা গেল নোয়াখালীর এক যুবকের কাছে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ম্যাচে রেফারিংয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে তিনি সরাসরি হাজির হন স্থানীয় থানায়। উদ্দেশ্য একটাই— ফিফার সভাপতি এবং ম্যাচের রেফারির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা। এমনকি ফিফার
থানায় উপস্থিত হয়ে ওই যুবক অভিযোগ করেন, ম্যাচের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে। তার ভাষায়, মিশরের সঙ্গে অবিচার হয়েছে, এর বিচার চাই।
অভিযোগকারী মো. রাকিব (২২) নোয়াখালী সদর উপজেলার মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার (৮ জুলাই) রাতে তিনি সুধারাম মডেল থানায় অভিযোগ নিয়ে হাজির হন। তবে বিষয়টি স্থানীয় থানার আইনগত এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করেনি।
অভিযোগপত্র হাতে পেয়ে প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হয়ে পড়েন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। স্থানীয় বিরোধ, জমিজমা কিংবা মোবাইল চুরির অভিযোগ নিতে অভ্যস্ত থানার কর্মকর্তাদের সামনে এবার হাজির হলো বিশ্বকাপের রেফারিং বিতর্ক!
রাকিবের দাবি অনুযায়ী, ম্যাচের মাত্র ১৪তম মিনিটে মিশর একটি দর্শনীয় গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পরপরই রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরে ফিফা সভাপতির প্ররোচনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এর ঠিক ৫ মিনিটের মাথায় তিনি আর্জেন্টিনাকে সম্পূর্ণ অন্যায্য একটি পেনাল্টি উপহার দিয়ে খেলায় সমতা আনেন। পরবর্তীতে ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মিসর দলের আরেকটি বৈধ গোল রেফারি প্রথমে মেনে নিলেও, মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় রহস্যজনক কারণে তা বাতিল ঘোষণা করেন, যা কোটি কোটি মিসর সমর্থকের হৃদয় ভেঙে দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ম্যাচের শেষভাগে মিশরীয় ফুটবলাররা পুনরায় গোল করার চেষ্টা করলে রেফারি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের খেলোয়াড়দের একের পর এক হলুদ কার্ড এবং মিশরের প্রধান কোচকে অন্যায়ভাবে লাল কার্ড প্রদর্শন করে হয়রানি করেন। এতে মিশর দলের খেলোয়াড়দের মানসিক মনোবল ভেঙে পড়ে এবং আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচ জয়ের পথ সুগম করে দেওয়া হয়।
বাদী দাবি করেন, ফিফা কর্তৃপক্ষের এমন চরম পক্ষপাতিত্ব এবং রেফারিংয়ের নামে জালিয়াতির কারণে তিনি এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মিশর সমর্থক চরম হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়েছেন। এই মানসিক আঘাতের ফলে অনেক সমর্থকের সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই অপূরণীয় ক্ষতির কারণেই ফিফা থেকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিবাদীদের বিচারের মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি শুনে অভিযোগকারীকে বোঝানো হয় যে আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচের রেফারিং কিংবা ফিফার সিদ্ধান্তের ওপর বাংলাদেশের কোনো থানার আইনগত এখতিয়ার নেই। তবে যুবক তার অভিযোগের বিষয়ে ছিলেন বেশ আন্তরিক ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, এক যুবক এমন একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংক্রান্ত এ ধরনের বিষয়ে স্থানীয় থানার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। বিষয়টি তাকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে মো. রাকিব বলেন, ম্যাচে যা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমি মনে করি, কোটি কোটি দর্শকের আবেগের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ নেয়নি, তাই আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রয়োজনে মানববন্ধনসহ অন্যান্য কর্মসূচিও পালন করব।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শুরু হয় আলোচনা। কেউ বলছেন, ফুটবলের প্রতি এমন আবেগই বাংলাদেশকে ফুটবলের দ্বিতীয় বাড়ি বানিয়েছে। আবার কেউ মজা করে মন্তব্য করছেন, ভিএআর যদি না শোনে, তাহলে থানাই শেষ ভরসা!
বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল সমর্থকদের উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। তবে রেফারিংয়ের বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ নিয়ে হাজির হওয়ার ঘটনা হয়তো এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী সমর্থক-প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি হয়ে থাকবে।
What's Your Reaction?