আ.লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দিনমজুরদের বাড়িতে হামলা-লুট, গরু জবাই করে ভূরিভোজের অভিযোগ

রংপুরের পীরগাছায় জমিজমা বিরোধের জেরে স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে চার দিনমজুরের বাড়িতে প্রকাশ্যে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা ছয়টি গাভী, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মূল্যবান দলিল, পাসপোর্ট ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এমনকি লুট করা একটি গরু জবাই করে প্রকাশ্যে ভূরিভোজের আয়োজন করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের দামুরস্বর গ্রামে ঘণ্টাব্যাপী এ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে রোববার বেলা ১১টার দিকে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ছাওলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও পাওটানাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পশুচিকিৎসক রেজাউল করিম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুকুল মিয়া এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব হোসেনের নেতৃত্বে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল দামুরস্বর গ্রামের মৃত গফুর প্রামাণিকের ছেলে সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় বাড়ির লো

আ.লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দিনমজুরদের বাড়িতে হামলা-লুট, গরু জবাই করে ভূরিভোজের অভিযোগ

রংপুরের পীরগাছায় জমিজমা বিরোধের জেরে স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে চার দিনমজুরের বাড়িতে প্রকাশ্যে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা ছয়টি গাভী, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মূল্যবান দলিল, পাসপোর্ট ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এমনকি লুট করা একটি গরু জবাই করে প্রকাশ্যে ভূরিভোজের আয়োজন করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের দামুরস্বর গ্রামে ঘণ্টাব্যাপী এ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে রোববার বেলা ১১টার দিকে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ছাওলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও পাওটানাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পশুচিকিৎসক রেজাউল করিম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুকুল মিয়া এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব হোসেনের নেতৃত্বে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল দামুরস্বর গ্রামের মৃত গফুর প্রামাণিকের ছেলে সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় বাড়ির লোকজন ভয়ে সরে গেলে ঘরের ফ্রিজ, আসবাবপত্র, সেচ পাম্প (শ্যালো মেশিন), মোটর, টিভিসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর হামলাকারীরা মাত্র ২০০ গজ দূরে সৈয়দ আলী, এরশাদ আলী ও রুবেল মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায়। সেখানে আটটি ঘর ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। লুট করা হয় নগদ টাকা, মূল্যবান দলিল, পাসপোর্ট, স্বর্ণালংকার এবং ছয়টি বড় গরু।

ভুক্তভোগী সৈয়দ আলী ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, হামলার পর তাদের ঘরে থাকার কিংবা খাওয়ার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই। চাল-ডাল থেকে শুরু করে রান্না করা তরকারির পাতিল পর্যন্ত নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।

তাদের অভিযোগ, হামলার সময় গ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে লোকজন পাহারায় ছিল, যাতে কেউ তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে না পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে দরিদ্র মানুষের বাড়িঘর ও গবাদিপশু লুটের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, লুট করে নেওয়া একটি গরু জবাই করে এলাকায় ভূরিভোজের আয়োজনও করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আইয়ুব হোসেন ও রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা এলাকায় ছিলেন না। তারা বাইরে ছিলেন।

অপর অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মুকুল মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে ঘটনার ব্যাপারে অভিযোগ করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow