আলোচনায় প্রস্তুত ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান অনড়

পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় অগ্রসর হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও হুমকির ভাষা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। আগামী সপ্তাহে নতুন দফার পারমাণবিক আলোচনার আগে এ অবস্থান স্পষ্ট করেছে তারা। রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, পারমাণবিক বিষয়ে আমাদের অবস্থান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে (এনপিটি) স্বীকৃত অধিকারগুলোর ওপর ভিত্তি করে। ইরানি জাতি সবসময় সম্মানকে সম্মান দিয়ে জবাব দিয়েছে, কিন্তু শক্তির ভাষা মেনে নেয় না। পেজেশকিয়ান ওমানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনাকে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার সংলাপের পক্ষেই রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা কেবল পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা চান এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না। একই সঙ্গে তারা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির কড়া সমালোচনা করেছেন। তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক ফোরামে

আলোচনায় প্রস্তুত ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান অনড়

পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় অগ্রসর হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও হুমকির ভাষা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। আগামী সপ্তাহে নতুন দফার পারমাণবিক আলোচনার আগে এ অবস্থান স্পষ্ট করেছে তারা।

রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, পারমাণবিক বিষয়ে আমাদের অবস্থান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে (এনপিটি) স্বীকৃত অধিকারগুলোর ওপর ভিত্তি করে। ইরানি জাতি সবসময় সম্মানকে সম্মান দিয়ে জবাব দিয়েছে, কিন্তু শক্তির ভাষা মেনে নেয় না।

পেজেশকিয়ান ওমানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনাকে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার সংলাপের পক্ষেই রয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা কেবল পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা চান এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না। একই সঙ্গে তারা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির কড়া সমালোচনা করেছেন।

তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক ফোরামে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই ইরান স্বাধীনতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, বিপ্লবের আগে জনগণ মনে করত না যে দেশটির প্রকৃত স্বাধীনতা ছিল।

আরাগচি বলেন, বেসামরিক প্রয়োজনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে ইরান সরে আসবে না। এমনকি এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সামরিক হামলার ঝুঁকি বাড়ে। আমাদের কী থাকতে পারবে বা পারবে না এটা বলার অধিকার কারও নেই।

তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের তিনি বলেছেন, আলোচনার বিকল্প কোনো পথ নেই। আলোচনার বিষয়বস্তু চীন ও রাশিয়াকেও জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল আবদোলরহিম মুসাভি রোববার সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে পুরো অঞ্চল যুদ্ধের আগুনে জড়িয়ে পড়বে। তিনি বলেন, আমরা আঞ্চলিক যুদ্ধ চাই না, কিন্তু আগ্রাসন হলে আগ্রাসীরাই এর পরিণতি ভোগ করবে। এমন যুদ্ধ পুরো অঞ্চলের উন্নয়ন বহু বছর পিছিয়ে দেবে এবং এর দায় নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নবাদী শাসনব্যবস্থাকে’।

মুসাভি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য ইরানের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও প্রস্তুতি রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow