আশি বছর বয়সি তুতা মিয়ার জীবন কাটে রিকশার প্যাডেলে

যে বয়সে নাতি-নাতনিদের নিয়ে বিশ্রাম, আড্ডা আর খোশগল্পে সময় কাটানোর কথা সেই বয়সে রিকশার প্যাডেলে সময় কাটে আশি বছরের বৃদ্ধ তুতা মিয়ার। জীবন-জীবিকা নির্বাহে বেঁচে থাকার এই মাধ্যম তাকে আজও বিশ্রাম দেয়নি। জীবিকার তাগিদে রিকশার প্যাডেলই তার একমাত্র ভরসা। রাস্তায় বের হলেই যেখানে মোটরচালিত অটোরিকশার দাপট, সেখানে ভাঙাচোরা একটি প্যাডেল রিকশা নিয়ে সংগ্রাম করে চলেছেন তুতা মিয়া। বয়সের ভারে নুয়ে পড়ার কথা থাকলেও বাস্তবতা তাকে সে সুযোগ দেয়নি। রিকশার ওপর ভর করেই চলছে তার প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াই। যে বয়সে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হয় সে বয়সে পায়ে চালিত রিকশা চালানো মোটেও সহজ নয়। প্রতিটি প্যাডেলের চাপে জমে ওঠে ব্যথা, ক্লান্তি আর নিঃশ্বাসের কষ্ট। তবুও থামেন না তিনি। কারণ থামা মানেই— সেদিন পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলবে না। স্ত্রী-সন্তানের সংসারে আয়ের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তুতা মিয়া। সন্তানদের বয়স বেশি না হওয়ার কারণে রিকশাই যেন তাদের সবার আশার প্রদীপ। চরম অভাব-অনটনের মধ্যেই চলছে তাদের পরিবার। কোনো দিন আয় না হলে খাবার জোটে না তাদের সংসারে। এত পরিশ্রমের পরও কষ্টের শেষ নেই তুতা মিয়ার জীবনে। কখনো অ

আশি বছর বয়সি তুতা মিয়ার জীবন কাটে রিকশার প্যাডেলে
যে বয়সে নাতি-নাতনিদের নিয়ে বিশ্রাম, আড্ডা আর খোশগল্পে সময় কাটানোর কথা সেই বয়সে রিকশার প্যাডেলে সময় কাটে আশি বছরের বৃদ্ধ তুতা মিয়ার। জীবন-জীবিকা নির্বাহে বেঁচে থাকার এই মাধ্যম তাকে আজও বিশ্রাম দেয়নি। জীবিকার তাগিদে রিকশার প্যাডেলই তার একমাত্র ভরসা। রাস্তায় বের হলেই যেখানে মোটরচালিত অটোরিকশার দাপট, সেখানে ভাঙাচোরা একটি প্যাডেল রিকশা নিয়ে সংগ্রাম করে চলেছেন তুতা মিয়া। বয়সের ভারে নুয়ে পড়ার কথা থাকলেও বাস্তবতা তাকে সে সুযোগ দেয়নি। রিকশার ওপর ভর করেই চলছে তার প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াই। যে বয়সে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হয় সে বয়সে পায়ে চালিত রিকশা চালানো মোটেও সহজ নয়। প্রতিটি প্যাডেলের চাপে জমে ওঠে ব্যথা, ক্লান্তি আর নিঃশ্বাসের কষ্ট। তবুও থামেন না তিনি। কারণ থামা মানেই— সেদিন পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলবে না। স্ত্রী-সন্তানের সংসারে আয়ের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তুতা মিয়া। সন্তানদের বয়স বেশি না হওয়ার কারণে রিকশাই যেন তাদের সবার আশার প্রদীপ। চরম অভাব-অনটনের মধ্যেই চলছে তাদের পরিবার। কোনো দিন আয় না হলে খাবার জোটে না তাদের সংসারে। এত পরিশ্রমের পরও কষ্টের শেষ নেই তুতা মিয়ার জীবনে। কখনো অসুখ হলে ওষুধ কেনার সামর্থ্য থাকে না তার। চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার মতো তাদের পরিবারের সহযাত্রী হিসেবে কেউ নেই। তুতা মিয়ার জীবনে কখনো জোটেনি— সরকারি কোনো সহায়তা বা সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা। রিকশার প্যাডেলের শব্দেই ফুটে ওঠে তার দীর্ঘ জীবনের ক্লান্তি। তবুও এই বয়সে তিনি স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি। স্বপ্ন দেখেন— হয়তো একদিন আর প্যাডেল চাপতে হবে না, একটু আরামে বসে নিঃশ্বাস নিতে পারবেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এই বয়সে রিকশা চালানো কল্পনাও করা যায় না। কিন্তু তুতা মিয়া প্রতিদিন তা করে যাচ্ছেন। এটা আমাদের সমাজের জন্য লজ্জার। তুতা মিয়ার প্রতিবেশীরা জানান, আজীবন কষ্ট করে জীবন কাটালেও কোনো ধরনের সহায়তার মুখ দেখেননি এই বৃদ্ধ। আধুনিক যুগে প্রযুক্তি আর উন্নয়নের গল্প শোনা গেলেও তুতা মিয়ার জীবন যেন এখনো সাদাকালো ছবির মতোই রয়ে গেছে। তুতা মিয়ার গল্প কেবল একজন মানুষের গল্প নয়; এটি আমাদের সমাজের সেই নীরব মানুষগুলোর প্রতিচ্ছবি, যারা নীরবে কষ্ট সহ্য করেন— কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন না। প্রায় ৮০ বছর বয়সেও যার জীবন থেমে নেই, যার প্যাডেলের সঙ্গে ঘুরছে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ। তুতা মিয়া আমাদের মনে করিয়ে দেন, শ্রমের কোনো বয়স নেই। তবে সম্মান, নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা পাওয়ার অধিকার সবারই আছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow