আশুরা নিয়ে প্রচলিত ৫ ভুল ধারণা

ইসলামের ইতিহাসে মহররম মাসের ১০ তারিখ বা আশুরার দিনটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তবে দীর্ঘকাল ধরে আমাদের সমাজে এই দিনটিকে কেন্দ্র করে অনেক চটকদার গল্প ও ভিত্তিহীন বিশ্বাস প্রচলিত হয়ে গেছে। বিশুদ্ধ ইসলামি জ্ঞানের অভাবে অনেকেই এসব জাল বর্ণনাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেন। অথচ শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো ভিত্তিহীন কথা রাসুলুল্লাহ (সা.) বা ইসলামের নামে প্রচার করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। কালবেলার পাঠকদের সচেতনতায় আশুরা নিয়ে প্রচলিত ৫টি প্রধান ভুল ধারণা ও তার প্রকৃত সত্য জানিয়েছেন ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার। নিচে তা তুলে ধরা হলো— ১. আশুরার দিনেই কেয়ামত সংঘটিত হবে আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, মহররমের ১০ তারিখ তথা আশুরার দিনেই কেয়ামত হবে। তবে আল্লামা আব্দুল হাই লাখনভী (রহ.) এবং অন্যান্য হাদিস বিশারদগণের মতে, এই বর্ণনার কোনো সহিহ ভিত্তি নেই এবং এটি একটি জাল বা মনগড়া কথা। ২. পৃথিবীতে প্রথম বৃষ্টি হয়েছিল এই দিনে অনেকেই মনে করেন, সৃষ্টির শুরুতে পৃথিবীতে প্রথম বৃষ্টির পতন ঘটেছিল আশুরার দিনে। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি দিয়ে গবেষকগণ জানিয়েছেন যে, এই তথ্যটিও ভিত্তিহীন এবং জাল ব

আশুরা নিয়ে প্রচলিত ৫ ভুল ধারণা

ইসলামের ইতিহাসে মহররম মাসের ১০ তারিখ বা আশুরার দিনটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তবে দীর্ঘকাল ধরে আমাদের সমাজে এই দিনটিকে কেন্দ্র করে অনেক চটকদার গল্প ও ভিত্তিহীন বিশ্বাস প্রচলিত হয়ে গেছে। বিশুদ্ধ ইসলামি জ্ঞানের অভাবে অনেকেই এসব জাল বর্ণনাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেন। অথচ শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো ভিত্তিহীন কথা রাসুলুল্লাহ (সা.) বা ইসলামের নামে প্রচার করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ।

কালবেলার পাঠকদের সচেতনতায় আশুরা নিয়ে প্রচলিত ৫টি প্রধান ভুল ধারণা ও তার প্রকৃত সত্য জানিয়েছেন ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার। নিচে তা তুলে ধরা হলো—

১. আশুরার দিনেই কেয়ামত সংঘটিত হবে

আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, মহররমের ১০ তারিখ তথা আশুরার দিনেই কেয়ামত হবে। তবে আল্লামা আব্দুল হাই লাখনভী (রহ.) এবং অন্যান্য হাদিস বিশারদগণের মতে, এই বর্ণনার কোনো সহিহ ভিত্তি নেই এবং এটি একটি জাল বা মনগড়া কথা।

২. পৃথিবীতে প্রথম বৃষ্টি হয়েছিল এই দিনে

অনেকেই মনে করেন, সৃষ্টির শুরুতে পৃথিবীতে প্রথম বৃষ্টির পতন ঘটেছিল আশুরার দিনে। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি দিয়ে গবেষকগণ জানিয়েছেন যে, এই তথ্যটিও ভিত্তিহীন এবং জাল বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত।

৩. হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আগুন থেকে মুক্তি

একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, হযরত ইব্রাহিম (আ.) নমরুদের আগুন থেকে এই দিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। যদিও এটি একটি বড় অলৌকিক ঘটনা, কিন্তু তা আশুরার দিনে ঘটেছিল বলে সহিহ কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। মুহাদ্দিসগণ একে লোকমুখে প্রচলিত ভিত্তিহীন বর্ণনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

৪. হজরত ইউনুস (আ.)-এর মাছের পেট থেকে মুক্তি

সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচলিত আছে যে, হযরত ইউনুস (আ.) দীর্ঘ সময় পর মাছের পেট থেকে আশুরার দিনেই মুক্তি লাভ করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, সহিহ হাদিসের ভাণ্ডারে এই ঘটনার সাথে আশুরার কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায় না।

৫. অন্যান্য নবীদের জীবনের বিশেষ ঘটনাবলী

হজরত সুলাইমান (আ.), দাউদ (আ.), ঈসা (আ.) এবং ইউসুফ (আ.)-এর জীবনের বিভিন্ন মোজেজা বা অলৌকিক ঘটনা এই দিনে ঘটেছে বলে যেসব চটকদার ওয়াজ করা হয়, তার অধিকাংশই ভিত্তিহীন। ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ.) এবং ইমাম সুয়ুতী (রহ.)-এর মতো পণ্ডিতগণ এসব বর্ণনাকে ‘মওজু’ বা জাল হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

আশুরার প্রকৃত ইতিহাস ও আমাদের করণীয়

সহীহ হাদিস অনুযায়ী, আশুরার দিনটির মূল তাৎপর্য হলো, এই দিনে আল্লাহ তায়ালা হজরত মুসা (আ.)-কে ফেরাউনের হাত থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউনকে সদলবলে লোহিত সাগরে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। এই শুকরিয়া আদায়ের লক্ষ্যে মুসা (আ.) ও বনী ইসরাঈল রোজা রাখতেন। আমাদের জন্য সুন্নাহ হলো, ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য এড়াতে ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম রোজা রাখা।

শেষকথা

ভিত্তিহীন বর্ণনা বা জাল হাদিস মানুষের সামনে বর্ণনা করা এবং তা বিশ্বাস করা কবিরা গুনাহ। ইসলামের সৌন্দর্য রক্ষায় আমাদের কেবল সহীহ সনদে প্রমাণিত বিষয়গুলোই অনুসরণ করা উচিত। আল্লাহ আমাদের সঠিক আমল করার তৌফিক দিন।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow