আশ্রয়শিবিরে ফিলিস্তিনিদের কামড়ে খাচ্ছে ইঁদুর
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়শিবিরে ইসরায়েলের হামলার পাশাপাশি আরও একটি মারাত্মক সমস্যার দেখা দিয়েছে। বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের নতুন আতঙ্কের নাম ইঁদুর। রাতের অন্ধকারে ইঁদুরের কামড়ে ঘুমাতে পারছে না আশ্রয়শিবিরে অবস্থানরত শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউই।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক মাস ধরে গাজার অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরগুলোতে ইঁদুরের উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিনের হামলায় প্রায় ৮০ শতাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ায় প্রায় ১৫ লাখ মানুষ অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছে। অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, জমে থাকা নোংরা পানি এবং চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপে অবাধে বংশবিস্তার করছে ইঁদুর ও পোকামাকড়।
গাজার বাসিন্দা ইনশিরাহ হাজ্জাজ জানান, এক রাতে ঘুমানোর সময় একটি বড় ইঁদুর তার পায়ের আঙুল কেটে খেতে শুরু করে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি তা প্রথমে বুঝতেই পারেননি। তিনি বলেন, আমি ভেবেছিলাম হয়ত পা কোথাও লেগেছে। কিন্তু কয়েকদিন পর আঙুল ফুলে যায়, নীল হয়ে যায়। পরে দেখি নতুন নতুন ক্ষত তৈরি হচ্ছে।
উত্তর-পশ্চিম গাজার আল-মাকৌসি এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আল-উস্তাজ
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়শিবিরে ইসরায়েলের হামলার পাশাপাশি আরও একটি মারাত্মক সমস্যার দেখা দিয়েছে। বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের নতুন আতঙ্কের নাম ইঁদুর। রাতের অন্ধকারে ইঁদুরের কামড়ে ঘুমাতে পারছে না আশ্রয়শিবিরে অবস্থানরত শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউই।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক মাস ধরে গাজার অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরগুলোতে ইঁদুরের উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিনের হামলায় প্রায় ৮০ শতাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ায় প্রায় ১৫ লাখ মানুষ অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছে। অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, জমে থাকা নোংরা পানি এবং চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপে অবাধে বংশবিস্তার করছে ইঁদুর ও পোকামাকড়।
গাজার বাসিন্দা ইনশিরাহ হাজ্জাজ জানান, এক রাতে ঘুমানোর সময় একটি বড় ইঁদুর তার পায়ের আঙুল কেটে খেতে শুরু করে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি তা প্রথমে বুঝতেই পারেননি। তিনি বলেন, আমি ভেবেছিলাম হয়ত পা কোথাও লেগেছে। কিন্তু কয়েকদিন পর আঙুল ফুলে যায়, নীল হয়ে যায়। পরে দেখি নতুন নতুন ক্ষত তৈরি হচ্ছে।
উত্তর-পশ্চিম গাজার আল-মাকৌসি এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আল-উস্তাজ নামের এক ব্যক্তি জানান, রাতে তার ২৮ দিনের ছেলে হঠাৎ চিৎকার শুরু করে। পরে তিনি দেখেন শিশুটির মুখ রক্তে ভেসে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে দেখি তার মুখে ইঁদুরের কামড়ের দাগ।
গাজার চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, গাজায় শত শত শিশু ইঁদুরের কামড়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে অবরোধের কারণে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি থাকায় সবার চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ জমে আছে, যা সরাতে বছর লেগে যেতে পারে। এতে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
গাজা সিটির পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন ইঁদুরের কামড়ের হাজারো অভিযোগ আসছে। তবে সীমিত সম্পদ ও চলমান পরিস্থিতির কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ফিলিস্তিনিদের জন্য কাজ করা জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) সতর্ক করে বলেছে, দ্রুত কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।