আসলের পুরো টাকা ফেরত পাবেন ব্যক্তি আমানতকারীরা

ব্যাংকবহির্ভূত খাতে সংকটে থাকা ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের আগে ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীদের জমা রাখা আসল টাকার পুরোটা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকারের কোষাগার থেকে দেওয়া হবে প্রায় দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ পুনরুদ্ধার বা সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে আনুপাতিক হারে প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। শুনানিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্ষদ অবসায়নে সম্মতি জানিয়ে বলেছে, তাদের আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব নয়। আগামী সপ্তাহে বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠানের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার আগে শুনানি শেষ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। গত বছরের মে মাসে খারাপ অবস্থায় থাকা ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না—তা জান

আসলের পুরো টাকা ফেরত পাবেন ব্যক্তি আমানতকারীরা

ব্যাংকবহির্ভূত খাতে সংকটে থাকা ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের আগে ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীদের জমা রাখা আসল টাকার পুরোটা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকারের কোষাগার থেকে দেওয়া হবে প্রায় দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ পুনরুদ্ধার বা সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে আনুপাতিক হারে প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হবে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। শুনানিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্ষদ অবসায়নে সম্মতি জানিয়ে বলেছে, তাদের আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব নয়। আগামী সপ্তাহে বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠানের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার আগে শুনানি শেষ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। গত বছরের মে মাসে খারাপ অবস্থায় থাকা ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না—তা জানতে চেয়ে নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠান সময় চাইলেও ৯টি প্রতিষ্ঠান সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়। পরে গত ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এসব প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত অনুমোদন পায়।

বন্ধ হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়া, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং গুরুতর মূলধন ঘাটতির ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অবসায়নের মাধ্যমে ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরতের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিবিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন
৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীদের মধ্যে সাবেক বিচারপতি, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, সাবেক আমলা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তারাও রয়েছেন। অনেকেই বছরের পর বছর টাকা ফেরত না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও মানবিক বিবেচনায় ব্যক্তি আমানতকারীদের পুরো আসল টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা জানান, মালিকপক্ষের জালিয়াতির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠান এ অবস্থায় পৌঁছেছে। বড় অংশের ঋণ আত্মসাৎ হওয়ায় অর্থ উদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা ছাড়া টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি ভবিষ্যতে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্সের প্রায় ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ ঋণ খেলাপি। পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্সসহ প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্রমপুঞ্জীভূত লোকসান কয়েক হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া সমস্যাগ্রস্ত আরও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের বড় অংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিস্থিতি উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠান নিয়েও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ইএআর/বিএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow