আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসাতেই কী ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর একটি সাহসী পরিকল্পনা ছিল। তারা যেটার নাম দিয়েছিল অপারেশন আজাদি, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করা এবং সাবেক এই প্রেসিডেন্টের সহায়তায় ইরানে শাসন পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সহজ করা। ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনেই মাহমুদ আহমাদিনেজাদের বাড়িতে হামলা হয় এবং গুজব ছড়ায় যে তিনি নিহত হয়েছেন। ইরান সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দ্য ইরান পত্রিকা ওই দিন তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের বাড়িতে হামলায় তার তিনজন দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন। তবে পত্রিকাটি আহমাদিনেজাদের বিষয়ে কিছু জানায়নি। এই ঘটনার প্রায় তিন মাস পর, মার্কিন পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, আহমাদিনেজাদের বাড়িতে ওই হামলার উদ্দেশ্য ছিল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হলে তাকে ক্ষমতা দখলের সুযোগ করে দেওয়া। এ সম্পর্কে অবগত মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য নিউ ইয়র্ক

আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসাতেই কী ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর একটি সাহসী পরিকল্পনা ছিল। তারা যেটার নাম দিয়েছিল অপারেশন আজাদি, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করা এবং সাবেক এই প্রেসিডেন্টের সহায়তায় ইরানে শাসন পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সহজ করা।

ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনেই মাহমুদ আহমাদিনেজাদের বাড়িতে হামলা হয় এবং গুজব ছড়ায় যে তিনি নিহত হয়েছেন।

ইরান সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দ্য ইরান পত্রিকা ওই দিন তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের বাড়িতে হামলায় তার তিনজন দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন। তবে পত্রিকাটি আহমাদিনেজাদের বিষয়ে কিছু জানায়নি।

এই ঘটনার প্রায় তিন মাস পর, মার্কিন পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, আহমাদিনেজাদের বাড়িতে ওই হামলার উদ্দেশ্য ছিল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হলে তাকে ক্ষমতা দখলের সুযোগ করে দেওয়া।

এ সম্পর্কে অবগত মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস দাবি করেছে, ইসরায়েল এই সাহসী পরিকল্পনা তৈরি করেছিল, কিন্তু তা দ্রুতই ভেস্তে যায়। পত্রিকার ভাষ্য অনুযায়ী, মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সঙ্গেও পরামর্শ করা হয়েছিল, কিন্তু হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেন।

পত্রিকাটি আরও উল্লেখ করে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন ইরানের ভেতর থেকেই কারও ক্ষমতা নেওয়া ভালো হতে পারে। সে সময় ওই ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে নানা জল্পনা ছিল এবং মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও হাসান রুহানির নামও উঠে আসে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে জানায়, এখন এই বিষয়টি পরিষ্কার যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল খুবই স্পষ্ট এবং বিস্ময়কর একটি পছন্দ নিয়ে সংঘাতে প্রবেশ করেছিল। আর সেই পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মাহমুদ আহমাদিনেজাদ কখনো শিরোনামে, আবার কখনো নীরবতায় থাকছেন। কখনো ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সতর্কতা সত্ত্বেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করে অযোগ্য ঘোষণা হয়েছেন, আবার কখনো দেশের ভেতর ও বৈদেশিক নীতিকে নিয়ে বিতর্কিত ও কঠোর বক্তব্য দিয়ে সরকারকে সমালোচনা করেছেন।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটি আহমাদিনেজাদের অধীনে ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ইসরায়েলের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করে। যদিও প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় তিনি বারবার হলোকাস্টকে মিথ এবং ইসরায়েলি সরকারকে বর্ণবাদী ও ভুয়া সরকার বলে বর্ণনা করেছিলেন। তেহরানের এক সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ইসরায়েল না থাকলে বিশ্ব আরও নিরাপদ হতো।

২০০৯ সালের মে মাসে জাতিসংঘে তার বিতর্কিত বক্তব্য এবং ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন নিয়ে তার অবস্থান ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। এর আগে, জাতিসংঘের দ্বিতীয় বর্ণবাদ বিরোধী সম্মেলনে তার ভাষণ সংস্থাটির মহাসচিব এবং পশ্চিমা রাষ্ট্রপ্রধানদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।

ওই ভাষণে ইসরায়েল সম্পর্কে তিনি বলেন, হলোকাস্টের অজুহাতে তারা আগ্রাসনের মাধ্যমে একটি জনগোষ্ঠীকে উৎখাত করেছে; আমেরিকা, ইউরোপ এবং অন্যান্য দেশ থেকে কিছু মানুষকে সেই ভূখণ্ডে স্থানান্তর করেছে, একটি ভুয়া সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সবচেয়ে সহিংস বর্ণবাদীদের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে অন্য একটি জায়গায় অর্থাৎ ফিলিস্তিনে।

২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তার বোনের জানাজা থেকে প্রচারিত একটি ভিডিওতে একজন প্রতিবেদক তাকে জাতীয় ঐক্য সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তার এক দেহরক্ষীর মতো দেখতে ব্যক্তি বলেন, সাক্ষাৎকার না নেওয়াই ভালো।

বারবার প্রশ্নের জবাবে আহমাদিনেজাদ বলেন, ওরা যা বলেছে তা কি শুনেছেন? ভিডিওটি প্রকাশের পর তার রাজনৈতিক কার্যক্রম ও মতপ্রকাশের ওপর সীমাবদ্ধতা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। 

যদিও আলি খামেনির হত্যার পর তিনি, অন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি ও হাসান রুহানির মতো, মোজতবা খামেনিকে নেতৃত্ব পাওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দেন। 

সেখানে তিনি লিখেন, মহামান্য আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি বিশেষজ্ঞ পরিষদের সম্মানিত সদস্যদের মাধ্যমে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং আল্লাহর কাছে আপনার অব্যাহত সাফল্য কামনা করছি।

তবে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, তারা আহমাদিনেজাদের এক সহযোগীর কাছ থেকে নিশ্চিত খবর পেয়েছে যে, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন বিমান হামলাটি ছিল তাকে মুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা। 

ওই সহযোগী বলেন, আমেরিকানরা বিশ্বাস করত যে আহমাদিনেজাদ দেশটিকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন এবং ইরানের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা তার রয়েছে।

কিন্তু আহমাদিনেজাদ তার আঘাত সত্ত্বেও গৃহবন্দিত্ব থেকে পালাতে সক্ষম হলেও, পত্রিকাটি জানিয়েছে যে তিনি শাসন পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে মোহভঙ্গ হন এবং সহযোগিতা করা বন্ধ করে দেন।

২০০৩ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি থাকা আহমাদিনেজাদ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সঙ্গে ক্রমশ মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েন।

পত্রিকাটির মতে, আহমাদিনেজাদ শাসকগোষ্ঠীর নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছেন এবং তার আনুগত্য নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়েছে। তাকে বহু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল, তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং জনাব আহমাদিনেজাদের চলাফেরা ক্রমশ তার বাড়িতেই সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

এতে আরও বলা হয়েছে, আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখা, এমনকি ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow