ইউনাইটেড হাসপাতালের টেস্টে ভুল, অসদাচরণের অভিযোগ

রাজধানীর স্বনামধন্য ইউনাইটেড হাসপাতালের বিরুদ্ধে টেস্টে ভুল করার পাশাপাশি অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী এস এম জামাল উদ্দিন (৫৯)। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ঢাকার বারিধারার বাসিন্দা জামাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমার হৃদ্‌যন্ত্রের পরীক্ষার ক্ষেত্রে আমাকে দুটি ভিন্ন ও পরস্পরবিরোধী রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে, যা আমার জীবনকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারত। গত ২ ডিসেম্বর ইউনাইটেড হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে SP PCI ও CABG পরীক্ষার জন্য আমি উপস্থিত হই। চিকিৎসক আফজালুর রহমান আমাকে মোট ১৮টি পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন। পরীক্ষার পর প্রথম রিপোর্টটি ডা. মো. হেলাল উদ্দিন প্রদান করেন, যেখানে আমার হৃদ্‌যন্ত্রের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু প্রায় ৩০ মিনিট পর দুজন নার্স এসে রিপোর্টটি জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে নিয়ে যান। এরপর ডা. হেলাল উদ্দিন একটি নতুন রিপোর্ট দেন, যেখানে আমার হৃদ্‌যন্ত্রের অবস্থা ‘স্বাভাবিক’ বা ‘ভালো’ হিসেবে দেখানো হয়। হঠাৎ পরিবর্তিত রিপোর্টে গুরুতর অসঙ্গতি থাকা

ইউনাইটেড হাসপাতালের টেস্টে ভুল, অসদাচরণের অভিযোগ

রাজধানীর স্বনামধন্য ইউনাইটেড হাসপাতালের বিরুদ্ধে টেস্টে ভুল করার পাশাপাশি অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী এস এম জামাল উদ্দিন (৫৯)। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ঢাকার বারিধারার বাসিন্দা জামাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমার হৃদ্‌যন্ত্রের পরীক্ষার ক্ষেত্রে আমাকে দুটি ভিন্ন ও পরস্পরবিরোধী রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে, যা আমার জীবনকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারত। গত ২ ডিসেম্বর ইউনাইটেড হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে SP PCI ও CABG পরীক্ষার জন্য আমি উপস্থিত হই। চিকিৎসক আফজালুর রহমান আমাকে মোট ১৮টি পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন। পরীক্ষার পর প্রথম রিপোর্টটি ডা. মো. হেলাল উদ্দিন প্রদান করেন, যেখানে আমার হৃদ্‌যন্ত্রের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু প্রায় ৩০ মিনিট পর দুজন নার্স এসে রিপোর্টটি জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে নিয়ে যান। এরপর ডা. হেলাল উদ্দিন একটি নতুন রিপোর্ট দেন, যেখানে আমার হৃদ্‌যন্ত্রের অবস্থা ‘স্বাভাবিক’ বা ‘ভালো’ হিসেবে দেখানো হয়। হঠাৎ পরিবর্তিত রিপোর্টে গুরুতর অসঙ্গতি থাকার কারণে আমি বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, রিপোর্টের সত্যতা যাচাই করতে চাইলে জানানো হয় যে, মূল রিপোর্ট হাসপাতালের কাছে আর নেই, যা রোগীর তথ্য সংরক্ষণ ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি করে। রিপোর্টের দ্বন্দ্বের পাশাপাশি হাসপাতালের নার্স, কর্মচারী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের আচরণও অশালীন ও হয়রানিমূলক ছিল। আমি দাবি করছি, এই আচরণ রোগীর মর্যাদা, গোপনীয়তা ও আইনগত অধিকার লঙ্ঘন করেছে। এমন ভুয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসা নেওয়া হলে রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে।

এস এম জামাল উদ্দিন‌ বলেন, ঘটনার পর আমি গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। পুলিশ তদন্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে কথা হলে ইউনাইটেড হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ ও মার্কেটিং) ডা. ফজলে রাব্বী জাগো নিউজকে বলেন, ‘অভিযোগকারী আমাদের এখানে ইকো কার্ডিওগ্রাফি টেস্ট করেন। প্রথমে এর একটা ইন্টারপ্রিটেশন (ব্যাখ্যা) দিয়েছেন টেকনোলজিস্ট। পরে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর আবার ব্যাখ্যাটি পরিবর্তন করে দিয়েছেন। উনার (জামাল উদ্দিন) সঙ্গে কেউ খারাপ ব্যবহার করেননি। উনার বেস্ট ট্রিটমেন্টের (সেরা চিকিৎসা) জন্য এটা করা হয়েছে। উনাকে আমরা বুঝিয়ে বলেছি।’

এসইউজে/এমএমকে/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow