ইউরোপে প্রথম মাস: নিজেকে মানিয়ে নেবেন যেভাবে

জার্মানি যাওয়ার স্বপ্নপূরণের পর প্রথম কিছুদিন কেটে যায় একরকম স্বপ্নের ঘোরে। বিমানবন্দরের আলোকচিত্র, নতুন শহর ঘুরে দেখা আর নানা সামাজিক প্ল্যাটফর্মে ছবি প্রকাশের মধ্য দিয়েই শেষ হয় প্রাথমিক রোমাঞ্চ। তবে আসল বাস্তবতা সামনে আসে প্রথম সপ্তাহের শেষে- যখন হুট করেই দেশের পরিবার, মায়ের হাতের রান্না আর পরিচিত পরিমণ্ডলের জন্য মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে যোগ হয় একদমই অচেনা এক জার্মান কর্মপরিবেশ, ভিন্ন ভাষা এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন সংস্কৃতির সহকর্মীরা। নতুন স্থান ও সংস্কৃতির সাথে খাপ খাওয়ানোর এই ধারণাকে বলা হয় ‌‘সংস্কৃতিজনিত ধাক্কা’ এবং ‘দেশকাতরতা’। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জার্মানি পৌঁছানোর প্রথম ৩০ দিনে এই ধরনের মানসিক অনুভূতি হওয়া স্বাভাবিক। আরও পড়ুন কম খরচে আন্তর্জাতিক ডিগ্রি: উচ্চশিক্ষায় মালয়েশিয়া কেন সেরা? নতুন এই পরিবেশে নিজেকে মানসিকভাবে শক্ত রাখা এবং একজন দক্ষ পেশাদারের মতো মানিয়ে নেওয়ার জন্য অভিজ্ঞরা কিছু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রবাসজীবনের শুরুতে মন খারাপ হওয়া কোনো দুর্বলতা নয়, বরং একটি স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি। তবে এতে ডুবে না থেকে কিছু কৌশল অবলম্বন করা প্রয়ো

ইউরোপে প্রথম মাস: নিজেকে মানিয়ে নেবেন যেভাবে

জার্মানি যাওয়ার স্বপ্নপূরণের পর প্রথম কিছুদিন কেটে যায় একরকম স্বপ্নের ঘোরে। বিমানবন্দরের আলোকচিত্র, নতুন শহর ঘুরে দেখা আর নানা সামাজিক প্ল্যাটফর্মে ছবি প্রকাশের মধ্য দিয়েই শেষ হয় প্রাথমিক রোমাঞ্চ।

তবে আসল বাস্তবতা সামনে আসে প্রথম সপ্তাহের শেষে- যখন হুট করেই দেশের পরিবার, মায়ের হাতের রান্না আর পরিচিত পরিমণ্ডলের জন্য মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে।

এর সঙ্গে যোগ হয় একদমই অচেনা এক জার্মান কর্মপরিবেশ, ভিন্ন ভাষা এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন সংস্কৃতির সহকর্মীরা। নতুন স্থান ও সংস্কৃতির সাথে খাপ খাওয়ানোর এই ধারণাকে বলা হয় ‌‘সংস্কৃতিজনিত ধাক্কা’ এবং ‘দেশকাতরতা’। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জার্মানি পৌঁছানোর প্রথম ৩০ দিনে এই ধরনের মানসিক অনুভূতি হওয়া স্বাভাবিক।

নতুন এই পরিবেশে নিজেকে মানসিকভাবে শক্ত রাখা এবং একজন দক্ষ পেশাদারের মতো মানিয়ে নেওয়ার জন্য অভিজ্ঞরা কিছু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রবাসজীবনের শুরুতে মন খারাপ হওয়া কোনো দুর্বলতা নয়, বরং একটি স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি। তবে এতে ডুবে না থেকে কিছু কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন।

দূরভাষে যোগাযোগের সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ: সারাদিন বারবার দেশে যোগাযোগ না করে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় (যেমন: কাজ শেষে বা পরিবারের ঘুমানোর আগে) কথা বলার অভ্যাস করুন। সারাদিন মুঠোফোনে ব্যস্ত থাকলে নতুন দেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

নিজের রান্না নিজে শুরু করা: প্রথম দিক থেকেই দেশি খাবার রান্না করার চেষ্টা করুন। খাবারের টেবিলে দেশের স্বাদ পেলে মনের ক্লান্তি অনেকটাই দূর হয়।

স্থানীয়দের সাথে যুক্ত হওয়া: নিজ শহরের প্রবাসী দলগুলোর সাথে যুক্ত হয়ে ছুটির দিনে কারও সাথে দেখা করা বা এক কাপ চা খাওয়ার মাধ্যমে পরিচিত ভাষায় কথা বললে মন হালকা হয়।

জার্মান কর্মসংস্কৃতিতে দক্ষতার চেয়েও শুরুতে ব্যক্তির আচরণ ও শেখার আগ্রহকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সময়ানুবর্তিতা: কাজের স্থানে বা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এক সেকেন্ডের জন্যও দেরি করা যাবে না। প্রয়োজনে নির্ধারিত সময়ের ৫-১০ মিনিট আগে পৌঁছানো উচিত, যা কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা প্রমাণ করে।

দৃষ্টি বিনিময় ও অভিবাদন: কথা বলার সময় চোখে চোখ রেখে কথা বলা এবং প্রতিদিন সকালে সহকর্মীদের স্পষ্ট ভাষায় ও হাসিমুখে সম্ভাষণ জানানো জরুরি।

ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় অধিবাসীদের কথা বলার গতি ও আঞ্চলিক উচ্চারণের কারণে শুরুতে কিছুটা সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক।

ভুল করতে ভয় না পাওয়া: শুরুতে ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক। শিক্ষানবিশ হিসেবে চেষ্টা চালিয়ে গেলে তারা হাসাহাসি না করে বরং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।

বুঝতে না পারলে সরাসরি বলা: কোনো নির্দেশ না বুঝলে অনুমানের ওপর কাজ না করে বিনয়ের সাথে পুনরায় তা ধীরে বলার জন্য অনুরোধ করা ভালো।

কাজের প্রথম ৩০ দিনে প্রচুর নতুন নিয়ম ও নির্দেশনার মুখোমুখি হতে হয়, যা মনে রাখা কঠিন।

নোটবইয়ের কৌশল: পকেটে ছোট নোটবই ও কলম রাখা অত্যন্ত কার্যকরী। প্রশিক্ষক কোনো নির্দেশনা দিলে তা সাথে সাথে লিখে নিলে বারবার একই বিষয় জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন পড়ে না, যা কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়।

একদিনে নতুন কোনো সংস্কৃতির সাথে পুরোপুরি মিশে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রথম দিকে কাজ শেষে অতিরিক্ত ক্লান্তি আসা কিংবা একাকীত্ব বোধ করা খুব স্বাভাবিক।

প্রথম ৩০ দিনের এই কঠিন সময়টুকু পার করতে পারলে এই একাকীত্বই বড় শক্তিতে রূপ নেয়। শুরুতে যে প্রতিকূলতাগুলো আসে, তা অতিক্রম করতে পারলেই একটি স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক জীবনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow