ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়, প্রতিপক্ষ সান মারিনো

বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের অপেক্ষা শেষ হবে শুক্রবার রাতে। বাংলাদেশ সময় রাত ১১ টায় ইউরোপের ক্ষুদ্র রাষ্ট্র সান মারিনোর বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুধু একটি ফিফা ফ্রেন্ডলি নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক উপলক্ষ। কারণ এটি হবে ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। একই সঙ্গে সান মারিনোর ইতিহাসেও এটি বিশেষ ম্যাচ; তাদের জাতীয় দল প্রথমবারের মতো কোনো এশীয় দেশের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে ৩১ ধাপ পিছিয়ে সান মারিনো আছে সবার নিচে ২১১তম স্থানে। তবে সংখ্যার হিসাবই সব নয়। গত দুই বছরে সান মারিনো নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সময় পার করেছে। ২০২৪ সালে তারা লিচেনস্টাইনের বিপক্ষে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক জয় তুলে নেয়, পরে আবারও একই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে নিজেদের প্রথম অ্যাওয়ে জয়ের স্বাদ পায়। ১৯৯০ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর সান মারিনো ২২৩ ম্যাচ খেলে জিতেছে তিনটি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটি আগের চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটির ঘরোয়া লিগে ১৬টি ক্লাব অংশ নেয় এবং প্রায়

ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়, প্রতিপক্ষ সান মারিনো

বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের অপেক্ষা শেষ হবে শুক্রবার রাতে। বাংলাদেশ সময় রাত ১১ টায় ইউরোপের ক্ষুদ্র রাষ্ট্র সান মারিনোর বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

ম্যাচটি শুধু একটি ফিফা ফ্রেন্ডলি নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক উপলক্ষ। কারণ এটি হবে ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। একই সঙ্গে সান মারিনোর ইতিহাসেও এটি বিশেষ ম্যাচ; তাদের জাতীয় দল প্রথমবারের মতো কোনো এশীয় দেশের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে ৩১ ধাপ পিছিয়ে সান মারিনো আছে সবার নিচে ২১১তম স্থানে। তবে সংখ্যার হিসাবই সব নয়। গত দুই বছরে সান মারিনো নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সময় পার করেছে। ২০২৪ সালে তারা লিচেনস্টাইনের বিপক্ষে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক জয় তুলে নেয়, পরে আবারও একই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে নিজেদের প্রথম অ্যাওয়ে জয়ের স্বাদ পায়।

১৯৯০ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর সান মারিনো ২২৩ ম্যাচ খেলে জিতেছে তিনটি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটি আগের চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটির ঘরোয়া লিগে ১৬টি ক্লাব অংশ নেয় এবং প্রায় সব খেলোয়াড়ই স্থানীয় বা সেমি-পেশাদার পর্যায়ের।

কাগজে-কলমে বাংলাদেশই ফেবারিট। র‌্যাঙ্কিং, খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা এবং সামগ্রিক ফুটবল ঐতিহ্যে এগিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে ইউরোপের পরিবেশ, ভিন্ন আবহাওয়া এবং স্বাগতিকদের সাম্প্রতিক উন্নতি ম্যাচটিকে কঠিন করে তুলতে পারে, তেমন আভাসই দিচ্ছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় তারকা হামজা দেওয়ান চৌধুরী ইংল্যান্ড থেকে সরাসরি সান মারিনো গিয়ে ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। তিনি অনুশীলন শুরুর প্রথম দিনই বলে দিয়েছেন সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচটি সহজ সহবে না। তিনি এই ম্যাচটিতে আগামী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ভালো প্রস্তুতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নভেম্বরে বাংলাদেশেই হতে পারে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ।

তারপরও ইতিহাস গড়ার এই রাতে বাংলাদেশের লক্ষ্য একটাই — ইউরোপের মাটিতে প্রথম ম্যাচটি জয়ে রাঙিয়ে নতুন যাত্রার স্মরণীয় সূচনা করা। সান মারিনোও চাইবে তাদের ঐতিহাসিক এই ম্যাচটি জয়ে রাঙাতে। সান মারিনো ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার নিচে থাকলেও তারা ইউরোপের দল বলেই বাংলাদেশকে মাঠে নামতে হবে স্বাগতিকদের সমীহ করে।

সান মারিনো ইউরোপের দেশ বলেই তারা বেশিরভাগ সময় খেলে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতাগুলোয়। বিশ্বকাপ বাছাই, ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাই, নেশন্স কাপ-এই সব আসরে সান মারিনোর সামনে পড়ে ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো দল। যে কারণেই তাদের খাতায় হারের সংখ্যা অনেক বেশি। সান মারিনো যে দেশগুলোর বিপক্ষে খেলে বাংলাদেশ সেই দেশগুলোর বিপক্ষে খেলার স্বপ্নও দেখতে পারে না। তাই বিশ্বকাপ জেতা দেশগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা দলটির সামনে বাংলাদেশ কতটুকু কি করতে পারে সেটাই দেখার।

আরআই/আইএন

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow