অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে টানা দ্বিতীয়বারের মত অ্যালান বর্ডার মেডেল জিতেছেন ওপেনার ট্রাভিস হেড। অজি উইকেটরক্ষক ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারিকে মাত্র ১ ভোটে হারিয়ে পুরস্কারটি জিতেছেন হেড। এছাড়া হেডের চেয়ে মাত্র তিন ভোট কম পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন পেসার মিচেল স্টার্ক।
সর্বশেষ অ্যাশেজে ফর্মের তুঙ্গে ছিলেন ট্রাভিস হেড। ঘরের মাঠে বাজবলের আবিষ্কারকদেরকেই যেন বাজবলের পাঠ দিয়ে ছেড়েছেন হেড। ৮৭.৩৬ স্ট্রাইকরেটে তুলেছেন ৬২৯ রান। সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ৩টি যেখানে পার্থ টেস্টে রান তাড়া করতে গিয়ে ৮৩ বলে ১২৩ রানের চোখধাঁধানো একটি ইনিংসও রয়েছে।
ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে ব্যাক টু ব্যাক এই পুরস্কার জয়ের নজির গড়লেন ট্রাভিস হেড। এছাড়া, ৬ষ্ঠ প্লেয়ার হিসেবে একাধিকবারের মত অ্যালান বর্ডার মেডেল জিতলেন ট্রাভিস হেড। এর আগে রিকি পন্টিং, মাইকেল ক্লার্ক, স্টিভেন স্মিথ (চারবার), ডেভিড ওয়ার্নার (তিনবার) এবং শেন ওয়াটসন (দুইবার) এই পুরস্কার জিতেছিলেন একাধিকবার। আগের বছর গলে একটি হোটেলে প্রধান কোচ অ্যান্ডু ম্যাকডোনাল্ডের হাত থেকে মেডেল নিয়েছিলেন হেড। এবার যার নামে মেডেল, সেই অ্যালান বর্ডারের হাত থেকেই মেডেল নিয়েছেন ট্রাভিস হেড।
পুরস্কার জেতার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাভিস হেড জানিয়েছেন, ‘আমি মনে করি স্টারকি (মিচেল স্টার্ক) অসাধারণ একটি বছর কাটিয়েছে, কেইজ (অ্যালেক্স ক্যারি)ও দারুণ একটি বছর কাটিয়েছে। আমার মনে হয়, পুরস্কারটি যে কারও হতে পারত। আমি অবশ্যই ভেবেছিলাম স্টারকি এটি (অ্যালান বর্ডার মেডেল) জিতবে। তাই আজ রাতে আমি বেশ নির্ভার হয়েই এখানে এসেছিলাম এবং ভাবিনি যে আমি এতটা কাছাকাছি থাকব।’
বর্ডারের কাছ থেকে মেডেল নিতে পারার ব্যাপারে হেড জানান, ‘এখানে এবির (অ্যালান বর্ডারের) মতো একজন মানুষ উপস্থিত থাকাটা আমার জন্য সত্যিই অনেক সম্মানের এবং গর্বের বিষয়। আমার মনে হয়, এখানেই সম্ভবত তিনি আলাদা, তিনি এখানে ছিলেন এবং তিনিই এটি (আমার হাতে) তুলে দিয়েছেন। ক্যারিয়ার শেষের অনেক পরে যখন পেছনে ফিরে তাকাবেন, তখন ছবির ফ্রেমে এটি থাকবে, সেখানে বসে ভাববেন যে আমার দুটি মেডেল আছে, সাথে আপনার সন্তানরা সেগুলো দেখতে পারবে এবং ২০ বছর পর আমি তাদের বলতে পারব আমি কতটা ভালো ছিলাম, এটা সত্যিই দারুণ ব্যাপার।’
ট্রাভিস হেড আরও বলেছেন, ‘এমন একটি সম্মানজনক অর্জনে যে আপনি নিজেকে দেখতে পাচ্ছেন, সেটাই অবিশ্বাস্য। ছোটবেলায় ফিরে তাকালে দেখি, স্মাজ (স্মিথ) ওই বছরগুলোতে টানা সাফল্য অর্জন করেছিল। অবশ্যই, সে আমার চেয়ে অনেক বেশি রান করেছিল এবং বিশ্ব ক্রিকেটে আমার চেয়ে অনেক বেশি আধিপত্য বিস্তার করেছিল। কিন্তু সেখানে ভারতের বিপক্ষে ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় এবং অ্যাশেজ সিরিজের সাফল্য থাকা, এগুলো সত্যিই দারুণ।’
হেডের মতে, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আমাদের সামনে বিশাল একটি সুযোগ রয়েছে। এরপর আমরা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলব, যারা অসাধারণ ক্রিকেট খেলছে। তাই আমাদের কাজটা মোটেও সহজ হবে না। আমি শুধু খুশি যে ভালো খেলছি এবং আশা করি এটি চালিয়ে যেতে পারব।’
ভোটিংয়ের জন্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে ২৯ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ সময়কাল। এর মাঝে ৫২ টেস্ট উইকেট তোলা মিচেল স্টার্ক জিতেছেন শেন ওয়ার্ন বর্ষসেরা সেরা টেস্ট ক্রিকেটারের পুরস্কার। ওয়ানডেতে বর্ষসেরা হয়েছেন মিচেল মার্শ, অন্যদিকে টি-টোয়েন্টিতে বর্ষসেরার খেতাব জিতেছেন টিম ডেভিড। নারীদের ক্রিকেটে বেলিন্ডা ক্লার্ক জিতেছেন অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড, তিনিও হেডের মত টানা দ্বিতীয়বার জিতলেন। প্লেয়ার, আম্পায়ার এবং গণমাধ্যমের ৩-২-১ ফরম্যাটের ভোটে প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ভিত্তিতে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।