ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, নাকি সংকটের পূর্বাভাস

স্পেনের নাম শুনলেই চোখে ভাসে দুটো ছবি—একদিকে অসাধারণ পাসিং ফুটবল আর শিরোপার গর্ব, অন্যদিকে আকস্মিক হোঁচট খাওয়ার এক অদ্ভুত অভ্যাস। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই সেই পুরনো অভ্যাসের পুনর্লিখন সম্পন্ন হলো—কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র। আটলান্টায় ইউরো চ্যাম্পিয়ন এবং অন্যতম হট ফেভারিট স্পেনকে রুখে দিল বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে আসা দেশটি। ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখলে মনে হবে এটি একপেশে এক লড়াই—স্পেনের ২৭ শটের বিপরীতে কেপ ভার্দের মাত্র ছয়টি। বল দখলে স্পেনের স্পষ্ট আধিপত্য, পাস ও সুযোগ সৃষ্টিতেও বিশাল ব্যবধান ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু গোলের খাতায় দুই দলের পাশেই বসে রইল সমান শূন্য, যা শেষ পর্যন্ত পুরো ম্যাচের গল্পকে এক লাইনে বদলে দিল। চল্লিশ বছর বয়সি গোলরক্ষক ভোজিনহার নৈপুণ্যে একের পর এক সুযোগ নষ্ট হয় স্পেনের। ওইয়ারজাবাল, লাপোর্ত এবং তোরেসের প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন তিনি, আর তোরেসের একটি শট আছড়ে পড়ে ক্রসবারে—শেষ পর্যন্ত আর জাল খুঁজে পায়নি লা রোহা। প্রত্যাশিত গোলের হিসাবে স্পেন ছিল বহু এগিয়ে, প্রায় আট গুণ। কিন্তু ফুটবলে শেষ কথাই হলো গোল আর জয়। সেখানেই ব্যর্থ হয় ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা,

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, নাকি সংকটের পূর্বাভাস
স্পেনের নাম শুনলেই চোখে ভাসে দুটো ছবি—একদিকে অসাধারণ পাসিং ফুটবল আর শিরোপার গর্ব, অন্যদিকে আকস্মিক হোঁচট খাওয়ার এক অদ্ভুত অভ্যাস। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই সেই পুরনো অভ্যাসের পুনর্লিখন সম্পন্ন হলো—কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র। আটলান্টায় ইউরো চ্যাম্পিয়ন এবং অন্যতম হট ফেভারিট স্পেনকে রুখে দিল বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে আসা দেশটি। ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখলে মনে হবে এটি একপেশে এক লড়াই—স্পেনের ২৭ শটের বিপরীতে কেপ ভার্দের মাত্র ছয়টি। বল দখলে স্পেনের স্পষ্ট আধিপত্য, পাস ও সুযোগ সৃষ্টিতেও বিশাল ব্যবধান ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু গোলের খাতায় দুই দলের পাশেই বসে রইল সমান শূন্য, যা শেষ পর্যন্ত পুরো ম্যাচের গল্পকে এক লাইনে বদলে দিল। চল্লিশ বছর বয়সি গোলরক্ষক ভোজিনহার নৈপুণ্যে একের পর এক সুযোগ নষ্ট হয় স্পেনের। ওইয়ারজাবাল, লাপোর্ত এবং তোরেসের প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন তিনি, আর তোরেসের একটি শট আছড়ে পড়ে ক্রসবারে—শেষ পর্যন্ত আর জাল খুঁজে পায়নি লা রোহা। প্রত্যাশিত গোলের হিসাবে স্পেন ছিল বহু এগিয়ে, প্রায় আট গুণ। কিন্তু ফুটবলে শেষ কথাই হলো গোল আর জয়। সেখানেই ব্যর্থ হয় ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা, যা গোটা স্প্যানিশ শিবিরকে হতাশায় ডুবিয়ে দিয়েছে। স্পেনের জন্য এই হতাশা নতুন কিছু নয়। ২০১০ বিশ্বকাপে শিরোপা জেতার বছরেও তারা প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে আসর শুরু করেছিল। সেদিনও ফেভারিট হিসেবে নেমে চমকে গিয়েছিল পুরো ফুটবলবিশ্ব, কেউই ভাবেনি এমন অঘটন ঘটতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই হার কিন্তু বাধা হয়নি শিরোপা জয়ের পথে। এখন প্রশ্ন উঠছে, কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে এই গোলশূন্য ড্র কি সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে, নাকি এটি গভীর কোনো সংকটের পূর্বাভাস? কেপ ভার্দের জন্য এই ড্র এক ঐতিহাসিক অর্জন। পাঁচ লাখের সামান্য বেশি মানুষের দেশটি বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই এমন বিশ্বনন্দিত প্রতিপক্ষকে রুখে দেওয়ার গর্ব অর্জন করল। আটলান্টা স্টেডিয়ামে ৬৭ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে নীল জার্সির ছোট্ট একটি দল লড়ে গেছে পুরো নব্বই মিনিট নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য, যা তাদের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় রাত হয়ে থাকবে। স্পেনের সামনে এখন কঠিন বার্তা স্পষ্ট। গ্রুপ 'এইচ' থেকে পরের ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হতে হবে সৌদি আরবের, যে সৌদি আরবের কাছে কাতার বিশ্বকাপে হেরে গিয়েছিল আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দল। বল দখল আর শট সংখ্যায় এগিয়ে থেকেও যদি ফিনিশিংয়ে এমন দুর্বলতা থেকে যায়, তাহলে শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন শুরুতেই বড় ধাক্কা খেতে পারে। ফুটবল ইতিহাস বলছে, প্রথম ম্যাচের হতাশা সব সময় শেষ কথা নয়। ২০১০ সালে স্পেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা উভয়েই প্রথম ম্যাচ হেরে শেষমেশ শিরোপা ঘরে তুলেছিল। তাই আটলান্টার এই অঘটন স্পেন শিবিরে দুশ্চিন্তা বাড়ালেও, ফুটবলপ্রেমীদের জন্য তা রেখে গেছে এক অমোঘ রহস্য—এই বিশ্বকাপ স্পেনের জন্য নতুন কোন গল্প লিখবে? ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, নাকি নতুন এক বিষাদের অধ্যায়?

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow