ইতেকাফে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন: রমজানে ইতেকাফরত অবস্থায় কি মোবাইল ব্যবহার করা যাবে? উত্তর: ইতেকাফরত অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার করা নিষিদ্ধ নয় এবং মোবাইল ব্যবহার করলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে না। তবে ইতেকাফরত অবস্থায় ইতেকাফকারীর উচিত এমন প্রতিটি বিষয় বর্জন করা যা ইবাদতের একাগ্রতা নষ্ট করে। তাই সম্ভব হলে ইতেকাফে মোবাইল ফোন সঙ্গে না রাখাই ভালো। ইতেকাফরত অবস্থায় মোবাইলে গুনাহের কাজ তো দূরের কথা, বৈধ দুনিয়াবি কাজ থেকেও বিরত থাকা উচিত। আর কেউ যদি মসজিদে বসে ইতেকাফরত অবস্থায় গুনাহের কাজ করে, তার চেয়ে বড় দুর্ভাগা আর কে হতে পারে? ইতেকাফ ইসলামে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা ও আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার উপায়। ইতেকাফের উদ্দেশ্য দুনিয়াবি সব ঝামেলা ও ব্যস্ততা থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর ঘরে আল্লাহ কাছে অবস্থান করা এবং শুধু তাঁর ধ্যানে নিজের মনকে নিবিষ্ট করা। ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন, ইতেকাফের উদ্দেশ্য হলো অন্তরকে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট করা এবং শুধু তাঁর দিকে মনোনিবেশ করা। তাঁর সাথে নির্জনে সময় কাটানো। সৃষ্টিকুলের সাথে ব্যস্ততা ত্যাগ করে একমাত্র স্রষ্টা ও মালিকের সাথে ব্যস্ত হওয়া এমনভাবে যেন তাঁর স্মরণ, ভালোবাসা এবং তাঁর দিকে ফির

ইতেকাফে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন: রমজানে ইতেকাফরত অবস্থায় কি মোবাইল ব্যবহার করা যাবে?

উত্তর: ইতেকাফরত অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার করা নিষিদ্ধ নয় এবং মোবাইল ব্যবহার করলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে না। তবে ইতেকাফরত অবস্থায় ইতেকাফকারীর উচিত এমন প্রতিটি বিষয় বর্জন করা যা ইবাদতের একাগ্রতা নষ্ট করে। তাই সম্ভব হলে ইতেকাফে মোবাইল ফোন সঙ্গে না রাখাই ভালো।

ইতেকাফরত অবস্থায় মোবাইলে গুনাহের কাজ তো দূরের কথা, বৈধ দুনিয়াবি কাজ থেকেও বিরত থাকা উচিত। আর কেউ যদি মসজিদে বসে ইতেকাফরত অবস্থায় গুনাহের কাজ করে, তার চেয়ে বড় দুর্ভাগা আর কে হতে পারে?

ইতেকাফ ইসলামে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা ও আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার উপায়। ইতেকাফের উদ্দেশ্য দুনিয়াবি সব ঝামেলা ও ব্যস্ততা থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর ঘরে আল্লাহ কাছে অবস্থান করা এবং শুধু তাঁর ধ্যানে নিজের মনকে নিবিষ্ট করা।

ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন, ইতেকাফের উদ্দেশ্য হলো অন্তরকে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট করা এবং শুধু তাঁর দিকে মনোনিবেশ করা। তাঁর সাথে নির্জনে সময় কাটানো। সৃষ্টিকুলের সাথে ব্যস্ততা ত্যাগ করে একমাত্র স্রষ্টা ও মালিকের সাথে ব্যস্ত হওয়া এমনভাবে যেন তাঁর স্মরণ, ভালোবাসা এবং তাঁর দিকে ফিরে আসা অন্তরের মূল চিন্তা ও উদ্বেগের বিষয় হয়। দিন-রাত তাঁর স্মরণে, তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার উপায় নিয়ে ভেবে অতিবাহিত হয়। ইতেকাফের উদ্দেশ্য সৃষ্টির সংস্পর্শের আনন্দের পরিবর্তে আল্লাহ তাআলার সংস্পর্শের আনন্দ লাভ করা। ইতেকাফ আমাদেরকে কবরের নির্জনতায় আল্লাহর সংস্পর্শ লাভের আনন্দের জন্য প্রস্তুত করে, যখন আর কোনো সঙ্গী থাকবে না এবং তারা আনন্দের কারণও হবে না। (যাদুল মাআদ)

ইমাম ইবনুল কাইয়িমের (রহ.) এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় ইতেকাফ কেমন হওয়া উচিত। আজকের দিনে অনেকের ইতেকাফ দেখে মনে হয়, ইতেকাফের উদ্দেশ্য শুধু মসজিদকে অবস্থান ও ঘুমানোর জায়গা বানানো। ইতেকাফে মসজিদে বসেই, মোবাইলের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার, গল্পগুজব, হাসি-ঠাট্টা, অনর্থক কথাবার্তা ইত্যাদি চলতে থাকে। এমন কি গিবত, অপবাদ ইত্যাদির মতো গর্হিত গুনাহও ইতেকাফের সময় হয়ে যায়।

রমজানের শেষ দশ দিনের সুন্নত যারা ইতেকাফে বসছেন, তাদের উচিত এসব বিষয়ে সচেতন ও সাবধান থাকা। 

ওএফএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow