ইবাদতে আল্লাহর ভয়ে কান্না
নবীজি (সা.)-এর জীবনযাপন আর দশজন মানুষের মতোই ছিল। অন্যদের মতোই তিনি চলতেন, ফিরতেন, খেতেন ও ঘুমাতেন। তবে, তার চলা-বলা ও কাজকর্মের ধরন ছিল ব্যতিক্রম। প্রতিটি ইবাদতই করতেন একাগ্রচিত্তে; প্রভুর স্মরণ রেখে। ইবাদতের সময় নবীজি (সা.) খুব কাঁদতেন। চোখ থেকে দরদর করে অশ্রু প্রবাহিত হতো নামাজের সময় কান্না: নামাজে দাঁড়িয়ে, বিশেষত রাতের নফল নামাজে নবীজি খুব কাঁদতেন। কখনো সাহাবিরা জানতে পারতেন, কখনো বুঝতেও পারতেন না যে, নবীজি কাঁদছেন। তার দুই চোখ ছাপিয়ে শুধু অশ্রু প্রবাহিত হতো। আবার কখনো নামাজে তেলাওয়াতের সময় কান্নায় গলা ভারী হয়ে আসত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে শিখখির (রহ.) তার পিতা সূত্রে বর্ণনা করেন, একবার নবীজির কাছে গিয়ে দেখলাম, তিনি নামাজ পড়ছেন আর তার বুক থেকে কান্নার এমন শব্দ বের হচ্ছে, যেন চুলায় রাখা পানির পাত্র টগবগ করে ফুটছে। কখনো আবার সেজদায় পড়েও কাঁদতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, একবার সূর্য গ্রহণের সময় নবীজি নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন। দীর্ঘ রুকু-সেজদা করলেন। সেজদায় গিয়ে মনে হলো তিনি আর উঠবেন না। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলেন আর কাঁদছিলেন। দোয়ার মধ্যে বলছিলেন, হে আমার প্রতিপালক, আপনি কি আমাকে
নবীজি (সা.)-এর জীবনযাপন আর দশজন মানুষের মতোই ছিল। অন্যদের মতোই তিনি চলতেন, ফিরতেন, খেতেন ও ঘুমাতেন। তবে, তার চলা-বলা ও কাজকর্মের ধরন ছিল ব্যতিক্রম। প্রতিটি
ইবাদতই করতেন একাগ্রচিত্তে; প্রভুর স্মরণ রেখে। ইবাদতের সময় নবীজি (সা.) খুব কাঁদতেন।
চোখ থেকে দরদর করে অশ্রু প্রবাহিত হতো
নামাজের সময় কান্না: নামাজে দাঁড়িয়ে, বিশেষত রাতের নফল নামাজে নবীজি খুব কাঁদতেন। কখনো সাহাবিরা জানতে পারতেন, কখনো বুঝতেও পারতেন না যে, নবীজি কাঁদছেন। তার দুই চোখ ছাপিয়ে শুধু অশ্রু প্রবাহিত হতো। আবার কখনো নামাজে তেলাওয়াতের সময় কান্নায় গলা ভারী হয়ে আসত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে শিখখির (রহ.) তার পিতা সূত্রে বর্ণনা করেন, একবার নবীজির কাছে গিয়ে দেখলাম, তিনি নামাজ পড়ছেন আর তার বুক থেকে কান্নার এমন শব্দ বের হচ্ছে, যেন চুলায় রাখা পানির পাত্র টগবগ করে ফুটছে।
কখনো আবার সেজদায় পড়েও কাঁদতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, একবার সূর্য গ্রহণের সময় নবীজি নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন। দীর্ঘ রুকু-সেজদা করলেন। সেজদায় গিয়ে মনে হলো তিনি আর উঠবেন না। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলেন আর কাঁদছিলেন। দোয়ার মধ্যে বলছিলেন, হে আমার প্রতিপালক, আপনি কি আমাকে এই প্রতিশ্রুতি দেননি যে, আমার উপস্থিতিতে উম্মতকে শাস্তি দেবেন না? (নাসায়ি: ১২১৪)
কোরআন শ্রবণের সময় কান্না: কোরআনের আজাবের আয়াত পাঠকালে ক্রন্দন করা নবীজির সুন্নত ছিল। সাহাবিদের থেকে কোরআন তেলাওয়াত শুনেও তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন—নবীজি (সা.) একদিন আমাকে বললেন, আমাকে কোরআন পড়ে শোনাও। ইবনে মাসউদ (রা.) বললেন, কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে আপনার ওপর আর আমি আপনাকে পড়ে শোনাব? নবীজি (সা.) বললেন, আমি অন্যের কাছ থেকে শুনতে চাচ্ছি। ইবনে মাসউদ (রা.) সুরা নিসা তেলাওয়াত করলেন। যখন এ আয়াতে এলেন, ‘আর তখন কী অবস্থা হবে, যখন আমি ডেকে আনব প্রত্যেক উম্মতের মধ্য থেকে সাক্ষী এবং আপনাকে ডাকব তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে।’ (সুরা নিসা: ৪১)। তখন আমি দেখলাম নবীজির চোখ থেকে ঝরঝর করে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে। (বুখারি: ৪৬৮২)
হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের সময় কান্না: বিশেষ বিশেষ ইবাদতের সময়ও নবীজির চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হতো। আল্লাহর প্রেম ও আখিরাতের খেয়াল অন্তরে জেগে উঠলে নবীজি (সা.) আবেগে ও বিনয়ে কাঁদতেন। হাদিসে এসেছে—নবীজি একবার হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ শুরু করলেন। ফিরে এসে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন। তখন কান্নায় তার অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল। (বায়হাকি: ৭২৩৪)
নবীজির মতো আমরাও যদি আমাদের ইবাদত-বন্দেগিতে আল্লাহ ও আখিরাতের ভয়ে কাঁদতে পারি, তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ আমাদের ইবাদত কবুল করবেন এবং পরকালে আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন ইনশাআল্লাহ।
লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক
What's Your Reaction?